বিনোদন রিপোর্ট।
সংগৃহীত ছবি
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্য। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আবারও মানবতার পক্ষে সরব হলেন বিশ্বখ্যাত ফিলিস্তিনি-ডাচ সুপারমডেল বেলা হাদিদ।
সম্প্রতি ইরানে ইসরায়েলি হামলায় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয় ধ্বংসের ঘটনায় দেড় শতাধিক শিশুর প্রাণহানির খবর বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। এমন ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে বেলা হাদিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও শান্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক পোস্টে বেলা হাদিদ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একটি গ্রাফিক শেয়ার করে লেখেন, আমার হৃদয় এখন ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য কাঁদছে। সরকার বা সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্তের বলি হওয়া প্রতিটি নিরপরাধ নাগরিকের পাশে আমি আছি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের যেখানেই হোক না কেন—নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শান্তি কখনোই আলোচনার বিষয় হতে পারে না। তার মতে, ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ সব সময়ই ‘ক্ল্যাটারাল ড্যামেজ’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়।
ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া এই মানুষদের ভবিষ্যৎ তাদের নিজেদের হাতে থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত কয়েক দিনের টানা বোমাবর্ষণে ইরানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে বেলা হাদিদ কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রেড ক্রস, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর মতো সংস্থাগুলোকে সহায়তার জন্য ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সংবাদপত্রের শিরোনামের আড়ালে রয়েছে একেকটি বাস্তব পরিবার, তাদের আতঙ্ক এবং রক্তমাংসের জীবন।
উল্লেখ্য, বেলা হাদিদ বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং মানবিক সংকটে উচ্চকণ্ঠ। নিজের ফিলিস্তিনি শিকড়ের টান থেকে এর আগেও তিনি গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এবারের ইরান সংকটেও তিনি ভূ-রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে যুদ্ধের বিস্তার কখনোই নিরপরাধদের রক্ষা করে না।
তাই এই মুহূর্তে সংযম, জবাবদিহি এবং বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশই তার মূল লক্ষ্য।
সূত্র: ডন