মো আবদুল করিম সোহাগ
তরুণ মডেল-অভিনেত্রী ও আবৃত্তিশিল্পী ঋদ্ধি মালিনীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মঞ্জরীমালা’ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতি, অনুভূতি ও জীবনের নানা অনুষঙ্গকে ঘিরে রচিত এই কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে লেখক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ঋদ্ধি মালিনী। ছোটবেলা থেকেই নিসর্গের প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা। ঘাস, পাখি, মেঘ, চাঁদ কিংবা জলের ঢেউ—প্রকৃতির এই উপাদানগুলোই ধীরে ধীরে তাঁর কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। প্রকৃতির সৌন্দর্য আর অনুভূতির মেলবন্ধনে পাঠকদের জন্য সুন্দর কবিতা উপহার দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
যদিও তাঁর দেশের বাড়ি পাবনায়, তবে বেড়ে ওঠা ও লেখাপড়া ঢাকাতেই। তিনি বাংলা সাহিত্য বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু মূলত মঞ্চ থেকেই। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্কুল ও কলেজের আয়োজনে নিয়মিত আবৃত্তি করতেন এবং মঞ্চনাটকে অভিনয়েও অংশ নিতেন। মঞ্চে আবৃত্তি ও অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের শিল্পীসত্তাকে বিকশিত করেন তিনি। তাঁর আবৃত্তি ভারতের কলকাতাভিত্তিক আকাশ বাণী বেতারে প্রচারিত হয়েছে, যা তাঁর শিল্পজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা।
পরবর্তীতে মঞ্চ থেকে টেলিভিশনের জগতে পা রাখেন ঋদ্ধি মালিনী। একটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রায় দেড় বছর ধরে মডেলিংয়েও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। বিভিন্ন ফ্যাশন ও ব্র্যান্ডভিত্তিক কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই অঙ্গনেও নিজের অবস্থান তৈরি করছেন।
শোবিজ অঙ্গনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেকে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঋদ্ধি মালিনী। তিনি বর্তমানে মিস ট্যুরিজম ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, যার আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়।
নিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মঞ্জরীমালা’ প্রসঙ্গে ঋদ্ধি মালিনী বলেন, এই বইয়ের কবিতাগুলোতে পাঠক আকাশের জোছনা, জলের ঢেউ এবং প্রকৃতির নানান অনুভূতির স্পর্শ খুঁজে পাবেন। তিনি পাঠক ও দর্শকদের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে তাঁর সৃষ্টিকর্ম সবার সামনে তুলে ধরতে পারেন।