নিজস্ব প্রতিবেদক
মব সন্ত্রাস আর জ্বালাও-পোড়াওয়ের শিকার এখন গণমাধ্যম। সাংবাদিকরাও আর নিরাপদ নন। পরিস্থিতি এমন স্তরে গিয়ে পৌঁছেছে যে, মত প্রকাশ তো দূরের কথা, বেঁচে থাকাই কঠিন বলেও কথা উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, উদ্যোক্তা, সম্পাদক, পেশাজীবী, কবি, শিক্ষক, ব্যাংকারসহ সর্বস্তরের মানুষই এখন বলছেন, এমন বাংলাদেশ তো কেউ চায়নি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেমন বলেছেন, তিনি এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেননি, তেমনি অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও হতাশা প্রকাশ করেছেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যেমন মবতন্ত্রের উত্থান নিয়ে কথা বলেন, তেমনি মবে আক্রান্তের শিকার পত্রিকা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম গণমাধ্যমের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। সবার কণ্ঠেই হতাশা, ক্ষোভ আর এমন মবতন্ত্র রুখে দিতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার প্রতিবাদমুখর উচ্চারণ। তাঁরা গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও নৃশংসতার ঘটনায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাকে ‘ভয়ংকর ও রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তাঁরা বলছেন, এই ঘটনার অন্তর্বর্তী সরকার তার নৈতিক বৈধতা অনেকটাই হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলেও তাঁদের মত।
দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবিরকে হেনস্তার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ প্রতিবাদসভায় সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সংবাদপত্রে সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’ ও মালিকদের সংগঠন ‘নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)’ যৌথভাবে এই প্রতিবাদসভার আয়োজন করে।
সভা থেকে আগামী বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসম্মেলন করার ঘোষণাও দেওয়া হয়। সেই মহাসম্মেলন থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রতিবাদসভার পর রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে সোনারগাঁও প্যানপ্যাসিফিক হোটেলের বাইরে একটি মানববন্ধনে অংশ নেন সবাই।
প্রতিবাদসভায় সংহতি জানাতে এসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজ যে বাংলাদেশ দেখছি, এই বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি কোনো দিন দেখিনি। আজ ডেইলি স্টার, প্রথম আলো নয়, আজ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে।
স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও কথা বলার অধিকারের ওপর আবার আঘাত এসেছে। জুলাই যুদ্ধের ওপর আঘাত এসেছে।’ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সব গণতন্ত্রকামী মানুষের এখন এক হওয়ার সময় এসে গেছে। আমরা যাঁরা অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে চাই, যাঁরা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই, তাঁদের আজ শুধু সচেতন হলে চলবে না, রুখে দাঁড়াতে হবে।’
প্রতিবাদসভায় সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবির বলেন, ‘সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীদের ঐক্যবদ্ধতা এই সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। নিজেদের এই ঐক্যবদ্ধতার ভিত্তিতে আমরা অপরাপর সংগঠনগুলোকে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ করতে একটা ন্যায্যতা তৈরি করতে পারি। সংবাদকর্মীরা কাজ করার সময় পত্রিকা অফিসের মধ্যে আগুন লাগানো এবং ফায়ার সার্ভিস আসার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে খুব পরিষ্কারভাবে একটি গোষ্ঠীর লক্ষ্য ফুটে উঠেছে। তারা মধ্যযুগীয় কায়দায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করতে চেয়েছে।’
এভাবে কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না জানিয়ে নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘আমরা সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি একটা মহাসম্মেলন করব। সেই মহাসম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করব।…যত দিন বিচার না হবে এবং সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পাওয়া না যাবে, তত দিন পর্যন্ত আমাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আগুনের পরবর্তীকালের কয়েকটা কথা বলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, তারা বলছে, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর সাংবাদিকদের ঘরে ঘরে গিয়ে হত্যা করতে হবে। এটা যে একটা ঘটনা ঘটেছে তা না। এটা মার্ডারস (খুন)।’
মাহফুজ আনাম আরো বলেন, ‘আমার প্রায় ২৬ জন সহকর্মী ছাদে আটকে পড়েছিলেন।…ফায়ার সার্ভিসকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটার মানে কী? তারা ভবন পোড়াতে চায়নি, তারা ডেইলি স্টারের কর্মীদের হত্যা করতে চেয়েছে। …আমরা হত্যার যুগে প্রবেশ করেছি। মত প্রকাশ তো অনেক দূর হয়ে গেছে, এখন বেঁচে থাকার অধিকারের ব্যাপার এসে গেছে।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর কেন্দ্রস্থলে মবতন্ত্র শুরু হয়েছে। সচিবালয়ের অভ্যন্তরে মবোক্রেসি হয়েছে। সেটা দিয়ে শুরু। দখলবাজি-দলবাজি আমাদের সচিবালয়ের অভ্যন্তরে হয়েছে। মবতন্ত্র বিকশিত হওয়ার পেছনের শক্তি হিসেবে প্রথম দিকে ছিলেন আমলাতন্ত্রের মূল কাঠামোতে থাকা ব্যক্তিরা। পরে রাষ্ট্রকাঠামোর দায়িত্বে যাঁরা অধিষ্ঠিত, তাঁরা মব ভায়োলেন্সের পেছনের শক্তিকে তাঁদের ক্ষমতার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে চোখের সামনে যেগুলো ঘটেছে সেগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘একটি অনির্বাচিত সরকারের শাসন করার যোগ্যতা-ক্ষমতা থাকে ততক্ষণ, যতক্ষণ তার নৈতিক বৈধতা থাকে। এই ঘটনার ভেতর দিয়ে বর্তমান সরকারের বৈধতা অনেক ক্ষেত্রেই হ্রাস করে ফেলা হয়েছে। এটা যদি তারা পুনঃস্থাপন করতে না পারে, তাহলে আগামী দিনে উত্তরণের প্রক্রিয়া, অভ্যুত্থানের আদর্শ রক্ষা করতে পারবে কি না সন্দেহ আছে।’
গত দেড় মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা ও মানুষের মনোভাব সম্পর্কে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘জনগণ নিরাপত্তার অভাবের কথা বলছে। মানুষ বর্তমান সরকারের ওপর আস্থার অভাবের কথা বলেছে। সরকার ও তার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা দিতে পারবে—এ ব্যাপারে মানুষের আস্থা নেই।’
জনগণের অধিকার ও জীবন-জীবিকা রক্ষা সরকারের দায়িত্ব হলেও তা হচ্ছে না জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘আমার শুধু একটা প্রশ্ন, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবির যেহেতু ছুটে যেতে পেরেছেন (ডেইলি স্টার অফিসে), তাহলে আমাদের সরকারে যাঁরা আছেন, যাঁরা আমাদের দায়িত্বে আছেন, তাঁদের একজনও কেন সেখানে যাননি?’
গণমাধ্যমে হামলা ছাড়াও ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পোড়ানো, বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়িঘর পোড়ানো, ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাগুলো তুলে ধরে সারা হোসেন বলেন, ‘আমরা কী বানাচ্ছি বাংলাদেশে? কেন বানাচ্ছি? যদি আমরা গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনকে রক্ষা করতে চাই, এখন আমাদের সবাই মিলে প্রতিরোধ করতে হবে।’
শুধু মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ সবকিছুর ওপর আঘাত এসেছে জানিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধূরী বলেন, ‘ছায়ানট কেন ভ্যান্ডালাইজ (ভাঙচুর) করা হলো—প্রশ্নটা রাখছি বর্তমান সরকারের কাছে। বাউল সংস্কৃতি থেকে শুরু করে আমাদের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর কেন আক্রমণটা আসছে? এটাকে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এটা তো মব সংস্কৃতিও না। এটা তো অরাজকতা।’
রাশেদা কে. চৌধূরী আরো বলেন, ‘এগুলো শুরু হয়েছে গত বছরের ২০-২১ আগস্টে, এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাওয়ের মাধ্যমে। সরকার সেখানে নত হয়ে মেনে নিয়েছিল ১৪ লাখ বাচ্চার ভবিষ্যৎ চিন্তা না করেই। মবের রাজত্ব হয়ে গেছে বাংলাদেশ।…এখন তো দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। প্রতিবাদ শুধু না, সবাই মিলে এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে।’
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না, আসলে ছায়ানট কবে কী রাজনীতি করল? ঠিক যেমন আমি বুঝতে পারি না যে নুরুল কবির ভাই কবে ফ্যাসিস্টের সহযোগী হলেন? আগের রেজিম (সরকার) অনেক কিছু খারাপ করেছে। আমি ব্যাংকিং খাতকে প্রতিনিধিত্ব করি। আমাদের সেক্টর তছনছ করেছে আগের রেজিম। ঠিক তেমনি বর্তমানেও যদি একইভাবেই খারাপ বা আরো খারাপ হয় তাহলে মাহফুজ ভাই (মাহফুজ আনাম) যেভাবে বললেন যে এখন তো বেঁচে থাকার প্রশ্ন চলে এসেছে।’ কারো কোনো ত্রুটি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মোকাবেলা করা উচিত উল্লেখ করে মাসরুর আরেফিন প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কোন ধরনের দেশ যে এখানে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়ে তার মোকাবেলা হবে?’
প্রতিবাদসভায় সংহতি প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ যে পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছি, এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী সময়ে যে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিলাম, আমরা সেদিকে আগাচ্ছি না। আরো দুর্ভাগ্যজনক, যারা প্রথম আলো-ডেইলি স্টারসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা করেছে, তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্লোগানগুলো ব্যবহার করেছে। শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকেই ব্যবহার করেছে।…জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নামে এ ধরনের কোনো কিছু আমরা বিন্দুমাত্র অ্যালাউ করব না (মেনে নেব না)।’
পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পিত ছিল উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘এই ঘটনার পরে আমরা বলেছি, সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমাজে এটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল অনেক দিন ধরেই এবং এটার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকআপও (সমর্থন) আছে। এই তিনটা ঘটনা একসঙ্গে না ঘটলে এত বড় সাহস সেই রাতে কারো পক্ষে করা সম্ভব হতো না।’
মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এটা এক দিনের যুদ্ধ নয়, অনেক দিন এই যুদ্ধ চলবে। এই যুদ্ধের শেষ আমাদের দেখতে হবে। লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
দোষীদের গ্রেপ্তার ও হামলার শিকার প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন ‘সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের চোখ। সরকার একেবারে ভেতর থেকে রাষ্ট্রটাকে দেখতে পারে গণমাধ্যমের মধ্য দিয়ে। এই গণমাধ্যমের ওপর আঘাত মানে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ওপর আঘাত।’
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘আজ প্রত্যেকের একই উদ্বেগ—আমাদের সেফটি-সিকিউরিটি (নিরাপত্তা) কে দেবে? এটা তো সরকারেরই দায়িত্ব। এই সরকারের কাছে প্রথমেই সবার প্রত্যাশা কিন্তু একই জিনিস (নিরাপত্তা) ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম, আমাদের সন্তানদের আমরা হারাচ্ছি। হাদির মতো ছেলেকে আমরা হারালাম।’ তিনি বলেন, ‘আজ চট্টগ্রাম থেকে আরম্ভ করে ময়মনসিংহ পর্যন্ত আমরা অনেক ছেলেমেয়ে, শিশুদের হারিয়েছি। আমরা কোনোটারই প্রতিবাদ দেখলাম না। এই মব কালচার সেই ইউনিভার্সিটি, সচিবালয় থেকে যে শুরু হয়েছে, তখন থেকেই বলা হচ্ছিল—এগুলো বন্ধ করেন। এটা একসময় আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা শেষ পর্যন্ত তারই বহিঃপ্রকাশ দেখতে পেলাম প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো পত্রিকাগুলোতে হামলার মাধ্যমে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে একটা জিনিসই চাই—আমাদের জান-মালের নিরাপত্তা দেন। ইমিডিয়েটলি শান্তিপূর্ণ একটা নির্বাচন দিয়ে (ক্ষমতা) হস্তান্তর করেন।’
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পরমতসহিষ্ণুতা গড়ে না উঠলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারবে না। বরং সামনের দিনগুলোয় তা আরো কঠিন হতে পারে।’
প্রতিবাদসভায় আরো বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রমুখ। বক্তব্য না দিলেও সভায় ছায়ানট সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।