উমংনু মারমা
বান্দরবান প্রতিনিধি,
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বেক্ষ্যং পাড়া এলাকায় আলেক্ষ্যং নদী থেকে উন্নয়নের কথা বলে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এতে নদীর চর ও সেখানে উৎপাদিত ফলসী ক্ষেত হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিন ধরে নদীর চর থেকে এস্কেভেটর দিয়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার জসিম ও জুয়েল নামে দুই ব্যক্তি এ কাজে জড়িত। উত্তোলিত বালি ট্রাকে করে দেবতাকুম এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কে ধুলোবালি ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
কাজে নিয়োজিত এক ট্রাকচালক বলেন, “আমরা তিনটি গাড়ি নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বালু পরিবহন করছি। তবে কাজটির বৈধতা আছে কিনা সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। আমাদের ঠিকাদার জসিম সাহেব এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নদীর চর থেকে বালি তুলে নেওয়ায় ফলসী চাষের জমি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, নিষেধ করার পরও প্রভাবশালী ঠিকাদারেরা বালি উত্তোলন বন্ধ করছেন না।
জমির মালিকের ছেলে সানুমং মারমা বলেন, “আগেও একবার এখান থেকে বালি তোলা হয়েছিল। তখন উপজেলা প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ায় তা বন্ধ হয়। এবার প্রশাসনের অনুমতি আছে কি না, তা আমার জানা নেই। আমাদের চরের বাবদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদার জসিমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তংঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে আমাকে কোনো ঠিকাদার অবগত করেননি। বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি।”
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, “নদী থেকে বালু উত্তোলন তদারকির দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। তারপরও অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, “নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।”