হাবিবুর রহমান সুজন।
শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়—এটি একটি জাতি গঠনের নিরব কিন্তু শক্তিশালী আন্দোলন। বাঘাইছড়ি উপজেলার এমনই এক আলোকবর্তিকা জনাব সিরাজুল ইসলাম স্যার মহোদয়, যিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সমাজ ও মানবিকতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে আজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তিনি শুধু একজন প্রবীণ শিক্ষক নন, বরং একজন সামাজিক ব্যক্তিত্ব, ন্যায়ের পথপ্রদর্শক এবং তরুণ প্রজন্মের নির্ভরতার নাম।
বাঘাইছড়ির পাহাড়ি জনপদের দুর্গম বাস্তবতায় শিক্ষা বিস্তারের যে কঠিন চ্যালেঞ্জ, তা মোকাবিলায় জনাব সিরাজুল ইসলাম মহোদয়ের ভূমিকা প্রশ্নাতীত। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি সমানভাবে আপন, সমানভাবে শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁর স্নেহ, শাসন ও দিকনির্দেশনায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী, যারা আজ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে—কেউ ম্যাজিস্ট্রেট, কেউ আইনজীবী, কেউ প্রকৌশলী, কেউবা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁর অবদান। তিনি একজন সফল স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোক্তা। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত। তাঁর উদ্যোগে বহু সামাজিক কার্যক্রম বাস্তব রূপ পেয়েছে,সামাজিক সংগঠন (হৃদয়ে বাঘাইছড়ি) যা পাহাড়ি জনপদের মানুষকে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।
প্রশাসনিক কাজে তাঁর দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়। যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে বিচক্ষণতা, ধৈর্য ও ন্যায়ের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে করেছে একজন সামাজিক ন্যায় বিচারক–এর মতো গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। বিরোধ মীমাংসা, সামাজিক সংকট মোকাবিলা কিংবা মানবিক বিপর্যয়ে নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দৃঢ়, নিরপেক্ষ ও মানবিক।
ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী, দানশীল ও পরোপকারী এই মানুষটি নিজের প্রচার নয়, কাজের মাধ্যমেই পরিচিত হতে ভালোবাসেন। নামাজ, নৈতিকতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর জীবনচর্চা আজকের প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তরুণরা তাঁর জীবন থেকে শিখছে কীভাবে সৎ থেকে সমাজে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা যায়।
এক কথায়, জনাব সিরাজুল ইসলাম মহোদয় হলেন ভালো মানুষের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি—যিনি শিক্ষায় আলো ছড়িয়েছেন, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং মানবিকতার বীজ রুপন করেছেন নিরবে-নিভৃতে। বাঘাইছড়ির শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।
সংবাদ এই সময় মনে করে, এমন মানুষদের বাস্তব গল্প তুলে ধরা শুধু দায়িত্ব নয়, বরং জাতির ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন। কারণ তাঁদের দেখেই আগামী প্রজন্ম শিখবে—মানুষ হয়ে ওঠার প্রকৃত অর্থ কী।