1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
প্র/তিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হলেই শান্তি পাবে বেগম জিয়ার আত্মা - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আল-আকসায় তারাবি বন্ধ, ইসরায়েলি পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বললেন খতিব নে*তানিয়াহুর কার্যালয়ে শক্তি/শালী ক্ষে/প/ণাস্ত্র হামলা ইরানের কুয়েতে কয়েকটি মার্কিন যু/দ্ধ/বিমান বি/ধ্বস্ত বাগমারায় তিনটি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এমপি ডাঃ আব্দুল বারী বান্দরবান শহরে উজানী পাড়া অগ্নিকাণ্ডে ৫ বসতঘর ও ২ দোকান পুড়ে ছাই। শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মেয়েদের পিটিয়ে জখম সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হা/ম/লা মণিরামপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ৫ বছরের কন্যা সন্তানসহ অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সচেতনতা ও অভিযানে মাদক নির্মূলে নতুন অধ্যায় ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

প্র/তিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হলেই শান্তি পাবে বেগম জিয়ার আত্মা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

অদিতি করিম

বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় চিরবিদায় নিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বছরের শেষ দিনে গোটা বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে, তিনি স্বামীর পাশে শেষশয্যায় শায়িত হলেন। এটিই হলো মহান সৃষ্টিকর্তার মহানুভবতা। যে মানুষটি সারা জীবন ছিলেন ঐক্যের পক্ষে, তিনি চিরদিনের জন্য চলে গেলেন গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।

বেগম জিয়ার মৃত্যু দলমতের সব মানুষকে এক করেছিল। সব ভেদাভেদ ভুলে শোকার্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। তাঁর জানাজায় কোটি মানুষের ঢল প্রমাণ করে, বেগম জিয়া এ দেশের মানুষের কত আপন ছিলেন, কত শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। বেগম জিয়াকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ আবারও প্রমাণ করল একজন আদর্শবান মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা কখনো কার্পণ্য করে না।
এ দেশের মানুষ যাকে ভালোবাসে তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা উজাড় করে দেয়। যে সম্মান ও ভালোবাসা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বিদায় নিলেন, এটা তাঁর প্রাপ্য ছিল। জীবনে ধাপে ধাপে কাজের মাধ্যমে তিনি এই সম্মান অর্জন করেছেন।
বেগম জিয়া চলে গেছেন।

কিন্তু তাঁর চিন্তা, আদর্শ এবং মূল্যবোধ রয়ে গেছে। তাঁকে যদি আমরা সত্যিই সম্মান জানাতে চাই তাহলে তাঁর স্বপ্নগুলো আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে, তাঁর আকাক্সক্ষাকে লালন করতে হবে। এই সময়ে বেগম জিয়ার চিন্তা ও কাজের চর্চা করতে হবে। বর্তমান অস্থির এবং অসহিষ্ণু সময়ে বেগম জিয়ার জীবনাচার অনুসরণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন প্রতিহিংসার উন্মত্ততা, বিরুদ্ধ মতকে যখন শক্তি দিয়ে দমন করার চেষ্টা, তখন বেগম জিয়ার নীতি এবং আদর্শ আমাদের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।
বিশেষ করে সামনে একটি নির্বাচন। এ সময়ে পরমত সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জরুরি। দেশজুড়ে বিস্তৃত মব সন্ত্রাস আর পেশি শক্তির বিরুদ্ধে বেগম জিয়াই আমাদের পথপ্রদর্শক হতে পারেন।
তাঁর চিন্তা কিংবা আকাক্সক্ষা ধারণ মানে এই নয় যে, সবাইকে বিএনপির রাজনীতিতে শামিল হতে হবে। প্রতিটি নাগরিক যার যার বিশ্বাসে অবিচল থেকে বেগম জিয়ার আদর্শকে লালন করতে পারেন। এটাই বেগম জিয়ার মাহাত্ম্য। বেগম জিয়ার আদর্শ মানে অন্যের কথা শোনা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন। বেগম জিয়ার আদর্শ মানে শালীনতা ও মার্জিত আচরণ। বেগম জিয়ার আদর্শ মানে প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে ধৈর্য ও ত্যাগের রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়া। বেগম জিয়ার আদর্শ মানে রাজনীতিতে সংযত, দায়িত্বশীল ও শালীন আচরণ। বেগম জিয়ার আদর্শ মানে কদর্য ও নোংরা ভাষার রাজনীতির বদলে সুন্দর রুচিশীল রাজনীতির চর্চা।

বেগম জিয়া একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর নিজস্ব মতামত ছিল। কিন্তু একজন নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন দলমতের ঊর্ধ্বে। যারা তাঁর মতাদর্শে একমত নন, তাদের প্রতিও বেগম জিয়ার ছিল শ্রদ্ধা, মমতা এবং ভালোবাসা। তিনি তাঁর রাজনৈতিক চেতনা নিজের মতের প্রচার করেছেন, নিজের আদর্শের জন্য লড়াই করেছেন কিন্তু তাঁর মতামত জোর করে চাপিয়ে দেননি। নিজের আদর্শের প্রতি অবিচল থেকেও যে ভিন্নমতকে সম্মান জানানো যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন বেগম খালেদা জিয়া। ৪৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভিন্নমতের প্রতি কখনো আক্রমণাত্মক হননি। শক্তি দিয়ে বিপক্ষ মতাদর্শ দমন করেননি। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি বিভেদ নয়, ঐক্যের পক্ষে থেকেছেন সারাজীবন।

আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কথাই ধরা যাক। ওই আন্দোলনের এক সন্ধিক্ষণে দুই নেত্রীর বৈঠক ছিল জরুরি। আন্দোলনে সম্পৃক্তরা দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বেগম জিয়া, শর্তহীনভাবে যেকোনো জায়গায় এবং সময়ে বৈঠকে রাজি হন তাৎক্ষণিকভাবে। কিন্তু অন্যদিকে ছিল নানা শর্ত এবং আপত্তি। বেগম জিয়া দেশের স্বার্থে, মহাখালীতে গিয়ে বৈঠক করেন। স্বৈরশাসকের পতনের পর ১৯৯১ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন বেগম জিয়া। বিএনপির দলগত অবস্থান ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পক্ষে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বেগম জিয়া জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী, সরকার পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাবে একমত হন। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হয়। দলের চেয়ে দেশের স্বার্থ যে বড়, সেটা বেগম জিয়া বাস্তবে করে দেখিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তারা সংসদ থেকে পদত্যাগ করে গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে বেগম জিয়া দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নেন। সাংবিধানিক পদ্ধতিতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। বেগম জিয়া সারাজীবন চেয়েছিলেন অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে যেহেতু অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি, তাই দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হওয়ার পরই জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক। ২০০৭ সালে এক-এগারো সরকার ক্ষমতা দখল করলে, তিনিই প্রথম গণতন্ত্রের জন্য দাবি করেন। অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল এবং আপসহীন অবস্থান নিয়ে তিনি এক-এগারোর অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। ফখরুদ্দীন-মইন-উ আহমেদের সরকার তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। বেগম জিয়া এবং তাঁর দুই সন্তানকে আটক করা হয়েছিল। চালানো হয়েছিল নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন। বেগম জিয়াকে দেওয়া হয়েছিল দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তাব। কিন্তু তিনি ঘৃণাভরে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর বেগম জিয়ার ওপর চালানো হয় বর্বরতা। হয়রানি করা হয় পদে পদে। স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি রেখে তিলে তিলে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বেগম জিয়াকে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এত নিপীড়ন ও জুলুম তাঁকে কাবু করতে পারেনি। তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়াই জয়ী হয়েছেন। সব মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি হয়েছেন বাংলাদেশের ঐক্যের প্রতীক। স্বৈরশাসনের পতনের পর তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও শান্ত থাকতে বলেছেন। তিনি প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন সারাজীবন। ১৭ বছরের নির্মম অত্যাচার সহ্য করার পরও তিনি একটি বারের জন্যও আক্রমণাত্মক হননি, একটি বাজে মন্তব্য করেননি। এটাই বেগম জিয়ার রাজনীতি। তিনি মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন, জনগণের ঐক্য সৃষ্টি করার জন্যে সংগ্রাম করেছেন। রাজনীতিতে ধৈর্য, সহনশীলতা ও শালীনতার এক ধারা তৈরি করেছেন। বেগম জিয়া বহুমতের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। বেগম জিয়ার শেষ বিদায়ে কোটি মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করে, তাঁর আদর্শের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে দেশের সব মানুষ। তাই আমরা যে মত ও পথের হই না কেন, রাজনীতিতে বেগম জিয়ার চর্চাগুলো যেন অনুসরণ করি। তাহলেই দেশে শান্তি আসবে, হিংসা হানাহানি বন্ধ হবে। প্রতিশোধ আর পাল্টা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলবে না আমাদের মাতৃভূমি।

সামনে নির্বাচন, এই নির্বাচন হোক বেগম জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে অশ্লীল ও কদর্য ভাষায় আক্রমণ করবে না। কেউ পেশিশক্তির ব্যবহার করবে না নির্বাচনের মাঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মধ্যে দিয়ে চলবে নির্বাচনি প্রচারণা। সবাই মিলে একসঙ্গে এগিয়ে নেব দেশকে, তবেই সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানানো হবে বেগম খালেদা জিয়াকে। শান্তি পাবে তাঁর আত্মা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট