ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়ানো একটি দোয়ার প্রতি চোখ আটকে গেল; যার শিরোনাম ছিল এমন— দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাওয়া। তারপর এ দোয়াটি লেখা—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াহ ফিদ দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ক্ষমা এবং পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করি।’ রেফারেন্স দেওয়া আছে সহিহ ইবনে মাজাহর হাদিস নং ৩৮৭১।
বাস্তবতা
হাদিসের নাম্বার দেখে মূল হাদিসটিতে গিয়ে দেখি- হাদিসের দোয়াটি শুধু এটুকুই নয়, বরং এটি মূল দোয়ার শুরু; কিন্তু মূল দোয়াটি আর বিস্তৃত ও বড়। যাতে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তার অনেক আবেদন। দোয়াটি বড় হলেও যা পড়ে হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে যায়। হৃদয়ের গভীর এ দোয়ার প্রতি অন্যরকম এক প্রেম জাগে। তাই দোয়াটি সবার জন্য তুলে ধরা হলো-
হজরত ইবনে ওমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে এই দোয়াটি পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِي وَمَالِي اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ; আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ দ্বীনি ওয়া দুনইয়া ওয়া আহলি ওয়া মালি; আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতি ওয়া আমিন রাওআতি ওয়াহফাজনি মিন বািইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া আন শিমালি ওয়া মিন ফাওক্বি ওয়া আউজুবিকা আন উগতালা মিন তাহতি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার দ্বীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার ও আমার সম্পদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমার লজ্জাস্থানকে গোপন রাখো, আমার ভয়কে শান্তিতে পরিণত করো এবং আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে ও আমার ওপরের দিক থেকে আমাকে হেফাজত করো। আমি তোমার কাছে আমার নিচের দিক দিয়ে আমাকে ধসিয়ে দেওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। (ইবনে মাজাহ ৩৮৭১)
এই দোয়াটি আমাদের শেখায়— একজন মুমিনের চাওয়ার পরিসর কতটা বিস্তৃত হওয়া উচিত। নবিজী (সা.) শুধু গুনাহ মাফ বা শারীরিক সুস্থতাই চাননি; বরং তিনি চেয়েছেন দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার, সম্পদ, সম্মান, অন্তরের শান্তি এবং চারদিক থেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা। এতে বোঝা যায়, ইসলাম কেবল আখেরাতমুখী ইবাদতের নাম নয়; বরং দুনিয়ার জীবনকেও নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রশান্ত রাখার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা।
আজকের অস্থির, অনিশ্চিত ও ভয়ভীতিতে ভরা সময়ে এই দোয়াটি আমাদের জন্য এক শক্ত আশ্রয়। সকালে ও সন্ধ্যায় নিয়মিত এ দোয়াটি পড়লে একজন মুমিন আল্লাহর কাছে নিজেকে, নিজের পরিবারকে এবং নিজের জীবনকে সোপর্দ করে দেয়। তখন বিপদ আসলেও অন্তর থাকে নিশ্চিন্ত, কারণ সে জানে— রক্ষাকারী আল্লাহ নিজেই।
অতএব, শুধু দোয়ার সংক্ষিপ্ত অংশ নয়, বরং নবীজি ﷺ–এর শেখানো পূর্ণ দোয়াটিই আমাদের দৈনন্দিন আমলের অংশ করা উচিত। কারণ এই দোয়ায় আছে— দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা, অন্তরের প্রশান্তি এবং আল্লাহর বিশেষ হেফাজতের অঙ্গীকার। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই দোয়াটি বুঝে, মন থেকে এবং নিয়মিত পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
দোয়া আমল হাদিস ইবাদত ইসলাম