1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
ব্যক্তিকে ‘জমজমের পানি’ ও ‘জান্নাতি ফুলদানি’র উপমা: শরিয়তে কতটা বৈধ? - সংবাদ এইসময়
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

ব্যক্তিকে ‘জমজমের পানি’ ও ‘জান্নাতি ফুলদানি’র উপমা: শরিয়তে কতটা বৈধ?

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

ধর্ম ডেস্ক

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গান ব্যাপকভাবে আলোচিত ও ভাইরাল হয়েছে। গানটির গীতিকবিতায় জমজমের পানি, জান্নাতের ফুলদানি, হজরত হাসান ও হোসাইন (রা.), হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি, আবাবিল পাখি এবং খোলাফায়ে রাশেদার মতো ইসলামের পবিত্র নিদর্শন ও মহান ব্যক্তিত্বদের বিভিন্ন উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। পবিত্র এসব বিষয়কে গানের উপমা হিসেবে ব্যবহার করা শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু যৌক্তিক বা বৈধ, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে শরিয়তের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিস মুফতি জাওয়াদ তাহের।

শরিয়তের দৃষ্টিতে উপমার ব্যবহার
মুফতি জাওয়াদ তাহের জানান, ইসলামি সাহিত্য, কবিতা বা নাতে রাসুল (স.)-এ পবিত্র নিদর্শনগুলোর উপমা ব্যবহার নীতিগতভাবে জায়েজ। তবে এর প্রধান শর্ত হলো- সেই ব্যবহার হতে হবে অত্যন্ত ভক্তি, সম্মান এবং শালীনতার সঙ্গে। এটি সাহিত্যের ভাষায় ‘তাশবিহ’ বা কাব্যিক অলংকারের অন্তর্ভুক্ত, যা আরবি ও ফারসি ইসলামি সাহিত্যেও প্রচলিত আছে।

উপমাগুলোর তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা
গানে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপমার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জমজমের পানিকে সাধারণত জীবনদানকারী, পবিত্রতা বা হেদায়াতের প্রতীক হিসেবে সাহিত্যে ব্যবহার করা হয়। একইভাবে হজরত হাসান ও হোসাইন (রা.) জান্নাতের যুবকদের সর্দার এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। তাই কোনো ব্যক্তি বা আদর্শকে ‘প্রিয়’ বা ‘জান্নাতি গুণসম্পন্ন’ বোঝাতে তাঁদের সঙ্গে উপমা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি ও আবাবিল পাখি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ সাহায্য ও মুজেজা। কোনো আদর্শকে ‘বাতিল ধ্বংসকারী’ বা ‘সত্য প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে চিত্রিত করতে এসব উপমা ব্যবহার করা হলে তা সাহিত্যিক ও রূপক অর্থেই গণ্য হবে। এছাড়া হজরত ওমর (রা.)-এর ‘অর্ধ জাহান’ ও মোড়ানো শীতলপাটি উপমা মূলত তাঁর বিশাল খেলাফত, ন্যায়বিচার ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সতর্কতা ও সীমারেখা
মুফতি জাওয়াদ তাহের উপমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়তের কঠোর সীমারেখার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, উপমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা ঈমানি দায়িত্ব: ১. কোনো তুলনা যেন শিরকের পর্যায়ে না পৌঁছে। ২. নবী-রাসুলদের মুজেজার অবমাননা যেন না হয়। ৩. কোনো সাধারণ মানুষকে নবী ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদার আসনে যেন না বসানো হয়।’

পরামর্শ
তিনি আরও বলেন, গীতিকার ও শিল্পীদের উচিত শব্দচয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের মনে আকিদাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। পবিত্র সত্তা ও ইসলামের মহান নিদর্শনগুলোর ক্ষেত্রে ভাষার গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা রক্ষা করা অপরিহার্য।
পরিশেষে তিনি মন্তব্য করেন, ইসলামি আদর্শ ও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শিক্ষা কেন্দ্র করে সম্মানজনক ও শালীন উপমা ব্যবহার কাব্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তা যদি সীমালঙ্ঘন করে, তবে তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

মতামত প্রদানকারী
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর, ঢাকা।
সূত্র: মুসলিম বাংলা

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট