ধর্ম ডেস্ক
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গান ব্যাপকভাবে আলোচিত ও ভাইরাল হয়েছে। গানটির গীতিকবিতায় জমজমের পানি, জান্নাতের ফুলদানি, হজরত হাসান ও হোসাইন (রা.), হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি, আবাবিল পাখি এবং খোলাফায়ে রাশেদার মতো ইসলামের পবিত্র নিদর্শন ও মহান ব্যক্তিত্বদের বিভিন্ন উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। পবিত্র এসব বিষয়কে গানের উপমা হিসেবে ব্যবহার করা শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু যৌক্তিক বা বৈধ, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে শরিয়তের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিস মুফতি জাওয়াদ তাহের।
শরিয়তের দৃষ্টিতে উপমার ব্যবহার
মুফতি জাওয়াদ তাহের জানান, ইসলামি সাহিত্য, কবিতা বা নাতে রাসুল (স.)-এ পবিত্র নিদর্শনগুলোর উপমা ব্যবহার নীতিগতভাবে জায়েজ। তবে এর প্রধান শর্ত হলো- সেই ব্যবহার হতে হবে অত্যন্ত ভক্তি, সম্মান এবং শালীনতার সঙ্গে। এটি সাহিত্যের ভাষায় ‘তাশবিহ’ বা কাব্যিক অলংকারের অন্তর্ভুক্ত, যা আরবি ও ফারসি ইসলামি সাহিত্যেও প্রচলিত আছে।
উপমাগুলোর তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা
গানে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপমার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জমজমের পানিকে সাধারণত জীবনদানকারী, পবিত্রতা বা হেদায়াতের প্রতীক হিসেবে সাহিত্যে ব্যবহার করা হয়। একইভাবে হজরত হাসান ও হোসাইন (রা.) জান্নাতের যুবকদের সর্দার এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। তাই কোনো ব্যক্তি বা আদর্শকে ‘প্রিয়’ বা ‘জান্নাতি গুণসম্পন্ন’ বোঝাতে তাঁদের সঙ্গে উপমা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি ও আবাবিল পাখি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ সাহায্য ও মুজেজা। কোনো আদর্শকে ‘বাতিল ধ্বংসকারী’ বা ‘সত্য প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে চিত্রিত করতে এসব উপমা ব্যবহার করা হলে তা সাহিত্যিক ও রূপক অর্থেই গণ্য হবে। এছাড়া হজরত ওমর (রা.)-এর ‘অর্ধ জাহান’ ও মোড়ানো শীতলপাটি উপমা মূলত তাঁর বিশাল খেলাফত, ন্যায়বিচার ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সতর্কতা ও সীমারেখা
মুফতি জাওয়াদ তাহের উপমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়তের কঠোর সীমারেখার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, উপমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা ঈমানি দায়িত্ব: ১. কোনো তুলনা যেন শিরকের পর্যায়ে না পৌঁছে। ২. নবী-রাসুলদের মুজেজার অবমাননা যেন না হয়। ৩. কোনো সাধারণ মানুষকে নবী ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদার আসনে যেন না বসানো হয়।’
পরামর্শ
তিনি আরও বলেন, গীতিকার ও শিল্পীদের উচিত শব্দচয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের মনে আকিদাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। পবিত্র সত্তা ও ইসলামের মহান নিদর্শনগুলোর ক্ষেত্রে ভাষার গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা রক্ষা করা অপরিহার্য।
পরিশেষে তিনি মন্তব্য করেন, ইসলামি আদর্শ ও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শিক্ষা কেন্দ্র করে সম্মানজনক ও শালীন উপমা ব্যবহার কাব্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তা যদি সীমালঙ্ঘন করে, তবে তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
মতামত প্রদানকারী
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর, ঢাকা।
সূত্র: মুসলিম বাংলা