1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
ট্রাম্পের হু/মকির মুখে থাকা লাতিন দেশগুলোর সমরশক্তি কেমন - সংবাদ এইসময়
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পের হু/মকির মুখে থাকা লাতিন দেশগুলোর সমরশক্তি কেমন

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে লাতিনের দেশগুলোর সম্মিলিত সামরিক শক্তিও অনেক কম। ছবি: দ্য ক্রেডলের সৌজন্যে

যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বড় পরিসরের সামরিক হামলা চালায় এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ করে। এই নাটকীয় পদক্ষেপে লাতিন আমেরিকা জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি কলম্বিয়া, কিউবা ও মেক্সিকোর সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা যদি ‘নিজেদের ঠিক পথে না আনে’, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি, তিনি মাদক পাচার দমন করছেন এবং পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষিত করছেন।

এই বক্তব্য লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে পুরোনো ও গভীর উত্তেজনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের নিশানায় থাকা বহু সরকারই ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততায় আগ্রহী নয়। তবে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার মতো নয়।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। দেশটি সামরিক খাতে যে অর্থ ব্যয় করে, তা পরবর্তী ১০টি বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশের মোট বাজেটের চেয়েও বেশি। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ৮৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

২০২৫ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ব্রাজিলের, যার বৈশ্বিক অবস্থান ১১ তম। মেক্সিকোর অবস্থান ৩২ তম, কলম্বিয়া ৪৬ তম, ভেনেজুয়েলা ৫০ তম এবং কিউবা ৬৭ তম। সক্রিয় সেনাসংখ্যা, সামরিক বিমান, যুদ্ধট্যাংক, নৌযান এবং সামরিক বাজেট—সব সূচকেই এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীভিত্তিক প্রচলিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রায় নিরঙ্কুশ। এই দেশগুলোর হাতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় যে, একমাত্র উল্লেখযোগ্য শক্তি রয়েছে, তা হলো তাদের আধাসামরিক বাহিনী। এসব বাহিনী নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে এবং প্রচলিত সামরিক কৌশলের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ ও অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

লাতিন আমেরিকার বহু দেশে দীর্ঘদিন ধরে আধাসামরিক ও অনিয়মিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইতিহাস রয়েছে। এসব গোষ্ঠী সাধারণত সশস্ত্র, সংগঠিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও নিয়মিত সামরিক কমান্ড কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হয়। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, কিউবার আধাসামরিক বাহিনী বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম, যার সদস্যসংখ্যা ১১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত মিলিশিয়া ও পাড়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা কমিটি। সবচেয়ে বড় সংগঠনটি হলো টেরিটোরিয়াল ট্রুপস মিলিশিয়া, যা বেসামরিক রিজার্ভ বাহিনী হিসেবে নিয়মিত সেনাবাহিনীকে বহিরাগত হুমকি বা অভ্যন্তরীণ সংকটে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত।

ভেনেজুয়েলায় সরকারপন্থী সশস্ত্র বেসামরিক গোষ্ঠী, যাদের ‘কোলেকতিভো’ নামে পরিচিত, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ও বিরোধীদের ভয় দেখানোর অভিযোগের মুখে পড়েছে। যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর অংশ নয়, তবে মাদুরোর শাসনামলে অস্থিরতার সময়ে তারা রাষ্ট্রীয় সহনশীলতা বা সমর্থনে কাজ করে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়।

কলম্বিয়ায় ১৯৮০-এর দশকে বামপন্থী বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় ডানপন্থী আধাসামরিক গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসব গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা হলেও পরে অনেক সংগঠন অপরাধী বা নব্য-আধাসামরিক কাঠামোয় পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে এবং গ্রামীণ এলাকায় সক্রিয় থাকে। শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্রোহ দমন–সংক্রান্ত উপদেষ্টাদের নির্দেশনায় কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততায় এসব প্রাথমিক গোষ্ঠী সংগঠিত হয়েছিল।

মেক্সিকোতে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মাদক কার্টেলগুলো কার্যত আধাসামরিক বাহিনীর মতো কাজ করে। জেতাসের মতো গোষ্ঠী, যেগুলো মূলত সাবেক সেনাসদস্যদের দিয়ে গঠিত, সামরিক মানের অস্ত্রের অধিকারী এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা প্রায়ই স্থানীয় পুলিশকে ছাড়িয়ে যায় এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এর জবাবে মেক্সিকান সেনাবাহিনীকে ক্রমশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মোতায়েন করা হচ্ছে।

গত দুই শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র বারবার লাতিন আমেরিকায় হস্তক্ষেপ করেছে। উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুতে তথাকথিত ‘বানানা ওয়ার্স’-এর সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী করপোরেট স্বার্থ রক্ষায় মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মোতায়েন হয়। ১৯৩৪ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ‘গুড নেবার পলিসি’ ঘোষণা করে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচিত সরকার উৎখাতে অর্থায়ন করে, যা প্রায়ই ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিআইএর মাধ্যমে সমন্বিত হতো। লাতিন আমেরিকার একমাত্র দেশ যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে, সেটি হলো পানামা। ১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের আমলে ‘অপারেশন জাস্ট কজ’-এর মাধ্যমে এই আগ্রাসন চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে অপসারণ করা। পরে তিনি মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট