1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল, দুশ্চিন্তায় কৃষক - সংবাদ এইসময়
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল, দুশ্চিন্তায় কৃষক

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে

মো: আলাউদ্দিন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।

পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যন্ত জনজীবন। ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় দিনের বেলায়ও সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। শীতে কাঁপছে রাজধানীসহ গোটা দেশ। কোথাও কোথাও তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। গতকাল রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক টানা সাতদিন ধরে দেশের ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শৈত্যপ্রবাহ আপাতত আরও দু’তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অফিসের মাসব্যাপী পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

তীব্র শীতে মানুষ যেমন দুর্ভোগে পড়েছে তেমনি প্রচন্ড ঠান্ডায় কৃষি খাতে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। উরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ফসল উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারিরা। শীতের তীব্রতায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ডিম পাড়া মুরগীর ডিম উৎপাদনের হার কমে গেছে। শীতকালীন কতগুলো রোগের কারণে মুরগির বাচ্চা মারা যাচ্ছে। এছাড়া ক্লোড ইনজুরি আতঙ্কে আছেন বোরো, আলু ও পান চাষিরা চাষিরা। কৃষকদের কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাজও গভীর হচ্ছে। অব্যাহত শৈত্য প্রবাহের সাথে উত্তর-পূবের হিমেল হাওয়ায় অনেক বেলা অবধি কৃষক ও কৃষি মজুররা ফসলের মাঠেই নামতে পারছেন না। ফলে ফসলের পরিচর্জাসহ বোরো বীজ উত্তোলন ও রোপনও ব্যহত হচ্ছে। কৃষকদের মাঝে ঠান্ডাজনিত রোগব্যধীর প্রকোপও ক্রমশ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, এসময় মাঠে বোরোর বীজ বপন করা হয়েছে। ধানের বয়স ৪০ দিন বা ৪৫ দিন হলে চারা তুলে মাঠে রোপণ করা হয়। এছাড়া আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি যেমন ডাল, গম, সরিষাসহ তৈলবীজ জাতীয় ফসল মাঠে রয়েছে। যেগুলো ঘন কুয়াশার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীতকালীন ফসলে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক এসব ফসল রক্ষায় বাড়তি যতœ ও ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ শীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরোর বীজতলা। ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার গোড়া ও পাতা পচা রোগ এবং চারা হলুদ বর্ণ হয়ে মারা যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বীজতলা লালচে হয়ে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কৃষকরা বীজতলা রক্ষায় নানান পদক্ষেপ নিলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তা কাজে আসছে না। এসময় ঠান্ডার প্রকোপ থেকে রক্ষা এবং চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বীজতলা রাতে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। বীজতলা থেকে পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন সকালে চারার ওপর জমা হওয়া শিশির ঝরিয়ে দিতে বলা হচ্ছে কৃষি বিভাগ থেকে।
তীব্র শীতে বেড়েছে শীতকালীন রোগের প্রার্দুভাব। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রোগীরা। প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। তাদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়োবৃদ্ধ। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রচ- শৈত্যপ্রবাহের জন্য এখন নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস আর ঠান্ডা-কাশির রোগী বেশি আসছে। এই সময়ে যে কোনো বয়সের মানুষের পাশাপাশি বাচ্চাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ তার। শীতের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন তুলে ধরা হয় হলো।

চট্টগ্রাম থেকে রফিকুল ইসলাম সেলিম জানান, কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ক্লোড ইনজুরি আতঙ্কে আছেন বোরো ও আলু চাষিরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্লোড ইনজুরি থেকে বোরো বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় দেশের অন্য এলাকার চেয়ে একটু দেরিতে বোরো আবাদ শুরু হয়। বোরো আবাদের জন্য এবার রের্কড ১৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বোরো আবাদও শুরু হয়ে গেছে। এরমধ্যে বৈরি আবহাওয়ায় আবাদে ছন্দপতন ঘটে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্লোড ইনজুরি এড়াতে আপাতত বোরো আবাদ বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে। সেই সাথে বীজতলা রক্ষায় কিছু ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরাও ক্লোড ইনজুরি থেকে সুরক্ষা পেতে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। এরপরও তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। কোন কোন এলাকায় ক্লোড ইনজুরির খবরও পাওয়া গেছে। এবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও ফেনী জেলায় রের্কড দুই লাখ ৯৮ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাদের লক্ষ্য পূরণে টার্গেটের চেয়ে বেশি জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বীজতলা ক্লোড ইনজুরি থেকে রক্ষা করা না গেলে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরিশাল থেকে নাছিম উল আলম জানান, তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে থাকায় বোরো বীজতলা ও গোল আলুর সাথে শীতকালীন সবজীর উৎপাদনেও ঝুকি ক্রমশ বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শীতকালীন শাক-সবজির গুনগতমান। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে ৩ দশমিক ৮৫ লাখ হেক্টরে আবাদের লক্ষ্যে পৌছতে ২০ দশমিক ৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু পৌষের শুরু থেকেই লাগাতার মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা। বোরোর পাশাপাশি এ অঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে গোল আলুর আবাদ হচ্ছে, শীতের দাপটে তা ‘লেট ব্লাইট’ নামের এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবার শংকাও ক্রমশ বাড়ছে। তবে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে, শৈত্য প্রবাহে তার জন্য অনুকুল পরিবেশ তৈরী হচ্ছে। তাপমাত্রা যত কমবে গমের ফলন ততটাই বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে বরে কুষবীদগন জানিয়েছেন। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

সিলেট থেকে ফয়সাল আমিন জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছ। এর মধ্যে সিলেট অন্যতম। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, পৌষের মাঝামাঝি এ শীতের প্রবণতা থাকতে পারে আরও কয়েক দিন। সিলেটে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে শিম, লাউ, আলু, মরিচ, টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শংকা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শীত ও ঘনকুয়াশায় বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আলু ও টমেটো ফলনে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনও সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে শীতকালীন সবজির আবাদ। কোন ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই তাদের কাছে। দক্ষিণ সুরমার কুচাই এলাকার কৃষক জিলু মিয়া বলেন, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারনে বোরো চাষ আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। বীজতলায় এখনও ক্ষতি না হলেও শংকা থাকছে। শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে চারার বাড়ন্তি কম। কিছু বীজতলায় ধান থেকে চারা জন্মায়নি। যদিও কিছু চারা গজিয়েছে কিন্তু টানা কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে হলুদ ও লালচে রং হয়েছে। এমন পরিস্থিতি বেশি দিন থাকলে চারা সম্ভাবনা রয়েছে নষ্ট হওয়ার।

দিনাজপুর থেকে মাহফুজুল হক আনার জানান, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অচলাবস্থার পাশাপাশি কৃষিখাত ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে লেট ভ্যারাইটি এলাকা হওয়ায় দিনাজপুর অঞ্চলে এখনও আমন ধান কাটা মারা পূরোদমে শেষ হয়নি। ফলে দিনাজপুর অঞ্চলে আগামী ইরি-বোরো মওসুমের আবাদ নিয়ে কৃষকরা খুব একটা চিন্তিত নয়। যদিও কৃষকেরা অধিক লাভের আশায় এবং দ্রুত ফলনের আশায় ইরিবোরো ধানের বীজ তলা তৈরী করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ইরি-বোরো’র চারা মাথা উচু করে দাড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু বাধ সেধেছে ঘন কুয়াশা। বীজ চারা অতিরিক্ত শীত ও ঘনকুয়াশার কারনে বিবর্ণ হয়ে যেতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগ বলছে এখনও উল্লেখ করার মত ক্ষতি হয়নি বীজতলার। এর মধ্যে সামান্য রৌদ্রজ্জলে আবহাওয়া হলেই বীজ চারাগুলি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছর দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় একলাখ ৭৬ হাজার ৩০০’ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর থেকে মাহফুজুল হক আনার জানান, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অচলাবস্থার পাশাপাশি কৃষিখাত ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে লেট ভ্যারাইটি এলাকা হওয়ায় দিনাজপুর অঞ্চলে এখনও আমন ধান কাটা মারা পূরোদমে শেষ হয়নি। ফলে দিনাজপুর অঞ্চলে আগামী ইরি-বোরো মওসুমের আবাদ নিয়ে কৃষকরা খুব একটা চিন্তিত নয়। যদিও কৃষকেরা অধিক লাভের আশায় এবং দ্রুত ফলনের আশায় ইরিবোরো ধানের বীজ তলা তৈরী করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ইরি-বোরো’র চারা মাথা উচু করে দাড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু বাধ সেধেছে ঘন কুয়াশা। বীজ চারা অতিরিক্ত শীত ও ঘনকুয়াশার কারনে বিবর্ণ হয়ে যেতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগ বলছে এখনও উল্লেখ করার মত ক্ষতি হয়নি বীজতলার। এর মধ্যে সামান্য রৌদ্রজ্জলে আবহাওয়া হলেই বীজ চারাগুলি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছর দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় একলাখ ৭৬ হাজার ৩০০’ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া থেকে এস এম আলী আহসান পান্না জানান, দিনের পর দিন সূর্যের দেখা না মেলায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এই কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বোরো ধান চাষিরা। মাঠজুড়ে সবুজ স্বপ্নের জায়গায় এখন তাদের চোখে ভর করেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। কুমারখালী উপজেলার ফসলের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, নিচু জমিতে যতœ করে তৈরি করা বোরো ধানের বীজতলা কুয়াশার ভারে নুয়ে পড়ছে। কয়েক দিন পরই এসব বীজতলা থেকে চারা তুলে মূল জমিতে রোপণের কথা। কিন্তু ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে অনেক চারাই হলুদ বর্ণ ধারণ করছে, কোথাও কোথাও শুকিয়েও যাচ্ছে। চারা বাঁচাতে কেউ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন, কেউ আবার ভোরের শিশির ঝরাতে লাঠি হাতে নেমে পড়ছেন মাঠে। মিরপুর উপজেলার ধুবাইল গ্রামের চাষি আরিফুল বলেন, তিন দিন ধরে কুয়াশা আর শীতের কারণে বীজতলা ঠিকমতো বড় হচ্ছে না। এমন আবহাওয়া আর কয়েক দিন থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

ঠাকুরগাঁও থেকে মাসুদ রানা পলক জানান, হাড়কাঁপানো শীত ও অব্যাহত ঘন কুয়াশার প্রভাবে বিবর্ণ হয়ে পড়ছে বোরো ধানের বীজতলা। শুরুতে চারাগুলো সবুজ ও সতেজ থাকলেও কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ায় তা হলদে হয়ে মড়ক ধরার উপক্রম হয়েছে। এতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জমির জন্য ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন কৃষকরা। কিন্তু প্রকৃতির বৈরী আচরণে সেই লক্ষ্যমাত্রা এখন হুমকির মুখে।
সিরাজগঞ্জ থেকে সৈয়দ শামীম শিরাজী জানান, উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় আর তীব্র শীত জেঁকে বসেছে সিরাজগঞ্জে। পৌষের কনকনে শীতে মানুষসহ হাস মুরগীগুলো রীতি মতো কাবু হয়ে পড়েছে। সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পাশাপাশি জেলার পল্ট্রি খামার গুলো চট-ছালা কিংবা পুরানো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রচন্ড শীতের কারনে খামার গুলিতে ডিমের উৎপাদন ৫ খেকে ১০ ভাগ ডিমের উৎপাদন কমে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া খামার গুলিতে শীত জনিত নানা রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডিমের দাম কমে যাওয়ায় খামারীরা পরেছে ্িবপাকে। জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায় জেলায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার বিভিন্ন ধরনের পল্ট্রি খামার রয়েছে। তারা এখন খামার টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করছে। এব্যপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক জানান, ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষার জন্য খামার গুলি কাপড়, ছালা বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরমর্শ দেয়া হচ্ছে। হাড় কাপানো শীতে সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার ১২ টি থানার কৃষকেরা পড়েছে বিপাকে। তাদের বীজতলা সহ শীতে সবজি ও ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
চাঁদপুর থেকে বি এম হান্নান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে পান পাতায় ব্যাপক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। পানের বরজে লতা থেকে পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন পান চাষিরা। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারি সহায়তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষি বিভাগ জানায়, ক্ষতি কমাতে চাষিদের নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল সংকট এবং পান চাষিদের জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত কর্মসূচি না থাকায় প্রত্যাশিতভাবে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পান চাষের জন্য সুপরিচিত। এ অঞ্চলের বহু মানুষ পান চাষের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু চলতি মাসের তীব্র শীত ও কুয়াশায় কৃষকদের কষ্টে উৎপাদিত পান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাইমচর উপজেলার মহজমপুর, আলগী উত্তরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বরজে লতায় থাকা পান পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে এবং ঝরে মাটিতে পড়ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে পান ঝরে পড়ায় কৃষকরা চরম লোকসানে পড়ছেন। মহজমপুর এলাকার পান চাষি ফজল আলী বলেন, শীতকালে পানের লতা স্বাভাবিকভাবে বড় হয় না। তার ওপর এবার শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণে পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে। এসব পান বাজারে প্রায় কোনো দামই পাওয়া যায় না। যেখানে ১০০ টাকার পান বিক্রি হতো, সেখানে এখন ২০-৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেরপুর থেকে এস. কে. সাত্তার জানান, হিমেল হাওয়ায় জবুথবু মানুষসহ প্রাণীকুল শীতে কাঁপছে গারো পাহাড়! বৃষ্টির মত ঝরছে কুয়াশা। সেই সাথে হিমেল হাওয়ায় কাহিল শেরপুরসহ গোটা গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী জনপদের সব বয়সী মানুষ। প্রচন্ড ঠান্ডায় মানুষ কাজে যেতে পারছে না। ফলে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় গারো পাহাড়ি জেলা শেরপুর অঞ্চলে জেঁকে বসেছে প্রচন্ড শীত! ১৫ দিন ধরে শৈত্য প্রবাহে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে জেলার উত্তর জনপদের মানুষসহ প্রাণীকুল। অব্যাহত ঘনকুয়াশায় বোর বীজতলা ও আলুর আবাদ নিয়ে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

ভোলা থেকে মোঃ জহিরুল হক জানান, ঘন কুয়াশা তীব্র শীত জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ছিন্নমূল ও নি¤œআয়ের মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। জেলায় এ মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দিনমজুর কাজে যেতে পারছেন না। বীজ তলায় কাজের লোক না পাওয়ার কারনে ধান চাষ করতে না পাড়ায় চাষাবাদের অসুবিধা হচ্ছে কৃষকদের। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় অতিরিক্ত কুয়াশার কারনে সরিষার ফুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাতে ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ থেকে মো: হাসান চৌধুরী জানান, ঘন কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষক, রিকশাচালক, দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষরা। হাড়কাঁপানো শীতে পর্যাপ্ত সময় কাজ করতে না পারায় উপার্জনে ভাটা পড়েছে তাদের। ফলে পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রমজীবি এসব মানুষের পরিবারে। এছাড়া কৃষক ও সবজি চাষিরা বীজ তলা তৈরি ও চারা রোপন নিয়ে পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। শীতে বরফের মত ঠান্ডা পানি ও কাঁদায় যেন হাত চলে না তাদের। অতি কষ্টে বীজ তলা ও চারা রোপন করে দুপুর গড়ালেই ঘরমুখো হচ্ছেন তারা। সবজি চাষি কদর মিয়া বলেন, প্রায় ৪ একর জমিতে সীম, মোলা, আলো, টেমেটো, গাজর, রোপন করেছি ফলন ভালো হয়েছে কিন্তু শীত বাড়ায় ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে শ্রমিক পাচ্ছি না। বাজারে সরবরাহ করতে না পাড়ায় ক্ষেতে সবজি পচন ধরায় পড়েছি বড় বিপাকে।

নাটোর থেকে মো : আজিজুল হক টুকু জানান, গত দুই সপ্তাহের প্রচন্ড শীতে নাটোরের জনজীবনে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা সেই সাথে প্রচন্ড শীতের কারণে নাটোরের বিল অঞ্চলে বোরো ধান চাষাবাদের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চেয়তা। শীতের কারণে বোরো বীজের চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাছাড়া শীত তীব্র হওয়ার কারণে কৃষকরা ধান লাগানোর জন্যে মাঠেও ঠিকমত কাজ করতে পারছেন না। ফলে বোরোধান চাষ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার সোনাপাতিল গ্রামের কৃষক মোঃ আইয়ুব আলী সরদার, মোঃ হাবিবুর রহমান ও সাহেব আলী সহ অনেকে জানান, এই তীব্র শীতও কুয়াশায় আমাদের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নড়াইল থেকে মশিউর রহমান জানান,্র জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। জেলার তিনটি উপজেলায় ধানের বীজতলা, পান বরজ এবং রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সূর্যের আলো ঠিকমতো না পাওয়ায় নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বোরো ধানের বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে ছত্রাক ও পচন রোগ।

পটুয়াখালী থেকে মো: জাকির হোসেন জানান, জেলায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা এবং শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরোধানের বীজতলা এবং তরমুজের বীজতলায় ক্ষতির কথা জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.মো:আমানুল ইসলাম। তিনি জানান, উপরোক্ত কারণে বোরো ধানের বীজতলা এবং তরমুজের বীজ তলায় পানিজমে গোড়াপচা,এবং পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সতর্কতা হিসেবে কৃষকদের বোরো ধানের বীজতলায় ছাই ছিটানো এবং তরমুজের বীজতলায় ছত্রাকনাশক ছিটানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম থেকে শফিকুল ইসলাম বেবু জানান, চরাঞ্চলে শীত এখন আর মৌসুমি দুর্ভোগ নয়, এটি রূপ নিয়েছে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হচ্ছে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ, যাদের জীবন-জীবিকা শীতের সঙ্গে সঙ্গে থমকে যাচ্ছে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অব্যাহত শীতের প্রভাবে জেলায় ৫৪ হেক্টর বোরো ধানের বীজতলা এবং ১ হেক্টর আলুর বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার পরিচর্যার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সূর্যের আলো স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাঙামাটি থেকে দীপ্ত হান্নান জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও কৃষিতে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। টানা দু’দিন সূর্যের দেখা না পাওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বীজতলা, খেতের ফসলে বাড়ছে রোগের প্রকোপ। এতে একদিকে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে বাজারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির দাম। কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশা ও টানা শীতের কারণে সবজি ও ধানের বীজতলায় ছত্রাকজনিত রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টমেটো, বেগুন, মরিচ, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বীজ পচে যাচ্ছে কিংবা চারা গজানোর আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ জানান, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে গত কয়েকদিন ধরে একটানা হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শুরুতেই এই তীব্রতা অনেক বেশি। প্রচন্ড শীতে দরিদ্র লোকদের মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয়। এ অঞ্চলে সরকারিভাবে গরীবদেরকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা দরকার বলে ভুক্তভোগিরা মনে করেন। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের নির্দেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সরকারি ভাবে কম্বল বিতরন করা হচ্ছে। ভয়াবহ শীতের কারনে চলতি মৌসুমের বোরো চারা রোপন করতে পারছে না। ফলে এ বারে বোরো ফসল ব্যহত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। অনেক বোরো ধানের চারা মরে যাচ্ছে।

হালিম আনছারী, রংপুর থেকে জানান, মাত্র দু’দিন বিরতির পর আবারো শৈত্য প্রবাহ চলছে রংপুর অঞ্চলে। ঘন কুয়াশার সাথে প্রচ- হিমেল হাওয়া এ অঞ্চলের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে সব বয়সী মানুষ। শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে ৭/৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয় গেছে। অব্যাহত ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা হলদে হয়ে মরে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে আলু খেতে লেট ব্রাইট রোগ দেখা দিচ্ছে। ফলে বোরো বীজতলা ও আলু খেত নিয়ে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

শীতের কারণে মানুষ কাজকর্ম করতে পারছে না। শ্রমজীবি ও কৃষিজীবি মানুষ ক্ষেতে খামারে কাজ করতে না পারায় জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রচ- ঠা-ার কারণে দিনভর গায়ে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ছিন্নমূল মানুষগুলো দিনের বেলাতেও আগুনের তাপ নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। দিনভর সূর্যের দেখা না পাওয়ায় ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে এ অঞ্চলের আকাশ। ঘন কুয়াশার কারণে এ অঞ্চলের আলু ক্ষেত ও বোরোর বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ইতোমধে আলু খেতে লেট ব্রাইট রোগ দেখা দিয়েছে। অনেক জমিতে আলু গাছ মরে যাচ্ছে। বোরোর বীজতলায় চারা গজাচ্ছে না। যেগেুলো গজিয়েছে সেগুলো হলদে হয়ে মরে যাচ্ছে।

রফিকুল হাসান রনজু, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) থেকে জানান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সূর্যের আলো ঠিকমতো না পাওয়ায় ফেটে চৌচির হচ্ছে জমি হলুদ ও ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করেছে ধানের চারাগাছ।

গত কয়েকদিন ধরেই ভূরুঙ্গামারীতে ঘন কুয়াশা এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর উপজেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর। এরমধ্যে হাইব্রীড ৯ হাজার ২৫ হেক্টর উফসী ৭ হাজার ৪৫৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৫ হেক্টর। এর বিপরীতে কৃষকরা ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। এরমধ্যে হাইব্রীড ৪৫৫ হেক্টর উফসী ৩৮৮ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১ হেক্টর।

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এভাবে শীত থাকলে বোরো আবাদের জন্য বিছন পাওয়াই সমস্যা হবে। তিলাই ইউনিয়নের লাভলু মিয়া চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের শফিউদ্দিন ও পাইকেরছড়া ইউনিয়নের দুলাল মিয়া জানান, গত কয়েকদিনের প্রচ- শীতে তার চার ভাগের একভাগ বীজতলার বোরো ধানের চারাগাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। তারা বলেন, চারাগাছগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করে প্রায় মরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান আবাদ কিভাবে করবো তা নিয়ে খুবই চিন্তায় দিনাতিপাত করছি।

এ সমস্যায় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের বীজতলায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া, বীজতলায় সকালে জমে থাকা শিশির কনা ছাড়িয়ে দেওয়া, রাতে পানি সেচ দিয়ে সকালে বের করে দেয়া ও জমিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ সার প্রয়োগসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আব্দুল জব্বার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতে উপজেলায় পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না থাকায় চারাগাছের পাতাগুলো ঠিকমতো খাদ্য তৈরি করতে পারছে না। তাই চারাগাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বীজতলা পুনরায় ঠিক হয়ে যাবে এবং পাতাগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট