অনলাইন ডেস্ক
মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে আবারও বড় সাফল্য পেল নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। বিজ্ঞানীরা একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু শনাক্ত করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড-৯’।
এই বস্তুটি বিশেষ কারণ, এতে একটিও তারা নেই। অথচ এটি গ্যাসে ভরপুর এবং মূলত ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য কিন্তু মহাবিশ্বের ভরের বড় অংশ) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
গবেষকদের মতে, ক্লাউড-৯ পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি কাছাকাছি সর্পিল গ্যালাক্সি মেসিয়ার–৯৪ বা এম৯৪-এর পাশে দেখা গেছে। ক্লাউড-৯ মূলত নিউট্রাল হাইড্রোজেন গ্যাস দিয়ে গঠিত। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে Reionization-Limited H I Cloud বা RELHIC (প্রাথমিক মহাবিশ্বের এমন গ্যাসমেঘ, যেখানে তারা তৈরি হয়নি)।
এই গ্যাসমেঘটির বিস্তৃতি প্রায় ৪ হাজার ৯০০ আলোকবর্ষ। এর ভর সূর্যের ভরের প্রায় ১০ লাখ গুণ। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—এতে থাকা ডার্ক ম্যাটারের ভর প্রায় ৫০০ কোটি সূর্যের সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ দৃশ্যমান কিছু না থাকলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বিপুল অদৃশ্য ভর।
নাসার ভাষায়, ক্লাউড-৯ হলো মহাবিশ্বের শুরুর দিকের একটি ‘জীবাশ্ম’ বা অবশিষ্টাংশ। এটি এমন এক গ্যালাক্সির গল্প বলে, যা তৈরি হওয়ার পথে ব্যর্থ হয়েছে। মিলান-বিকোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আলেহান্দ্রো বেনিতেজ-ইয়াম্বে বলেন, এখানে তারা না থাকাই প্রমাণ করে যে তত্ত্বটি সঠিক। কারণ, এতে বোঝা যায়, আমরা এমন এক আদিম গ্যালাক্সির অংশ পেয়েছি, যা কখনোই পূর্ণ গ্যালাক্সিতে রূপ নেয়নি।
গবেষকরা বলছেন, ক্লাউড-৯ আমাদের ডার্ক মহাবিশ্বের দিকে তাকানোর একটি জানালা খুলে দিয়েছে।
যেহেতু ডার্ক ম্যাটার আলো ছড়ায় না, তাই সেটিকে শনাক্ত করা কঠিন।
এই আবিষ্কার সেই অদৃশ্য জগতকে বুঝতে বিজ্ঞানীদের জন্য এক বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। গবেষণার ফল দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।