1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
ভূগোলচর্চা ও ইসলামী সভ্যতা : এক ঐতিহাসিক পর্যালোচনা - সংবাদ এইসময়
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রকাশ পেল টুটুল -লাবন্য’র ‘সেই মানুষটা তুমি’ কুড়িগ্রামে এলপিজি গ্যাসের দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না সিলিন্ডার শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে কারা? পোস্টাল ব্যালট বিতর্কে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত : সালাহউদ্দিন মার্কিন-ই/সরায়েলি সাইবার সফটওয়্যার বন্ধের নির্দেশ দিল বেইজিং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট: দেশের ম্যান্ডেট পূর্ণ করার সুযোগ -অধ্যাপক আলী রীয়াজ এলিয়েনের সঙ্গে যোগাযোগ, বিজ্ঞানীদের নজরে মৌমাছির মস্তিষ্ক মটরশুঁটির যত পুষ্টিগুণ সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন খুবই প্রয়োজন: বদিউল আলম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবদের বিদায় সংবর্ধনা

ভূগোলচর্চা ও ইসলামী সভ্যতা : এক ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

ইকবাল কবীর মোহন

প্রতীকী ছবি

পুরাকালে ‘ভূবিদ্যা’ বলতে পৃথিবীর আকৃতি, ভূমি জরিপ ইত্যাদি বোঝানো হতো। পৃথিবীর আকৃতির আরবি প্রতিশব্দ ‘সুরাতুল আরদ’। প্রখ্যাত মুসলিম ভূগোলবেত্তা মাসউদীর (মৃত্যু ৯৫৬ সাল) ভূবিদ্যা বলতে ‘কাতউল আরদ’ বা ভূমি জরিপ শব্দ ব্যবহার করেছেন। ১৩৪৭ সালের দিকে ‘রাসাইলু ইখওয়ানুস সাফা’ গ্রন্থে ভূবিদ্যা বোঝাতে ‘পৃথিবীর মানচিত্র’ বোঝানো হয়েছে।

মধ্যযুগ পর্যন্ত এই ধারণাই প্রচলিত ছিল। তবে আধুনিকালে পৃথিবী সম্পর্কীয় সব আলোচনাই ভূবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত। ডব্লিউ জিমারম্যানের মতে, ‘পৃথিবীর জল-স্থল, পাহাড়-পর্বত, মৃত্তিকা, অরণ্য-জলবায়ু, দেশ-দেশান্তরের মানুষ, মানুষের প্রয়োজনে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতের ভাগ্য কার্যক্রম ইত্যাদি সম্পর্কে বিহিত হওয়াই ভূগোলের মর্মকথা।’ আজকাল আকাশ, সমুদ্র, কৃষি, জ্যোতির্বিদ্যা সব আলোচনাই ভূবিজ্ঞানের আওতাভুক্ত।

এই বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশে ইসলামের অবদান অপরিসীম। বলতে গেলে জাহেলি যুগে প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতায় ভূবিজ্ঞানের যে ধারণার জন্ম হয় তার প্রকৃত বিকাশ ঘটে ইসলামী যুগে। ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার পর এই ধারণায় যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। আর এই ধারণার মূল উৎস ছিল ঐশিগ্রন্থ আল-কোরআন।

কোরআন অসংখ্য বিজ্ঞান ও জ্ঞান গবেষণার আধার। কোরআনের মূল চেতনায় আকৃষ্ট হয়ে মুসলমানরা ভূবিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী হয়ে ওঠে।

অবাক হওয়ার বিষয় যে পবিত্র কোরআনে পৃথিবীবক্ষে পাহাড়-পর্বত, বিভিন্ন প্রকার ভূমি সৃষ্টি, আবহাওয়া, মেঘমালা, পানি, সমুদ্র, জাতি, জনপদ, চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদির বিবরণ বিধৃত হয়েছে। ফলে ভূবিজ্ঞানের চিন্তা ও প্রেরণা এসেছে কোরআন থেকেই। যেমন—পাহাড় সম্পর্কে সুরা নাহলের ১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘এবং তিনিই পৃথিবীপৃষ্ঠ পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন, যাতে তা তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয়।


পৃথিবীর আবহাওয়া সম্পর্কে সুরা নূরের ৪৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি দেখোনি, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, তারপর তাদের একত্র করেন, অতঃপর দেখান তা থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছে আর আকাশস্থিত শিলাস্তূপ থেকে তিনি বর্ষণ করেন শিলা।’

সমুদ্র বিষয়ে সুরা নাহলের ১৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেন, ‘তিনিই সাগরকে অধীন করেছেন, যাতে তোমরা ওটা থেকে তাজা মৎস্য আহরণ করতে পারো।’

দিন-রাতের পরিক্রমা এবং সূর্য ও চাঁদের উদয়-অস্ত সম্পর্কে চমৎকার বর্ণনা রয়েছে সুরা ইয়াসিনে। আল্লাহ বলেন, ‘সূর্য ছুটে চলে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে। এটা মহা পরাক্রান্ত সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে এবং চন্দ্রের জন্যও আমি নির্দিষ্ট নিজস্ব কক্ষপথ ঠিক করে দিয়েছি।’

সুরা আনআমের ৯৭ নম্বর আয়াতে নক্ষত্রপুঞ্জ সৃষ্টির রহস্য ও প্রয়োজন সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃষ্টি করেছেন, যেন তা থেকে তোমরা জলে-স্থলে ও অন্ধকারে দিক নির্ণয় করতে পারো। চিন্তাশীল জ্ঞানীদের জন্য আমি এ আয়াত বর্ণনা করেছি।’

হাদিস সংকলন ও ইতিহাস রচনার প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে ইসলামের প্রাথমিক যুগেও মুসলিমরা ভৌগোলিক শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যায় ভৌগোলিক শিক্ষা বিস্তারের উৎকর্ষ। শুরু থেকে ভৌগোলিক বিষয়ে মুসলমানদের আগ্রহের একটা কারণ এই ছিল যে নবীজির হাদিসে বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহের বর্ণনায় স্থানীয় নামগুলোর উল্লেখ করা হতো। এর ফলে এসব স্থানের ভৌগোলিক তালিকা প্রণয়ন ও বিশিষ্ট স্থানগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণও প্রকাশ করা হতো। তারপর খেলাফতের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে এই শিক্ষা প্রাধান্য পেতে লাগল। তখন প্রধান প্রধান সামরিক ঘাঁটি, নদ-নদী, মরু-পর্বত, রাস্তা-ঘাট প্রভৃতির অবস্থান এবং বিজিত দেশগুলোর আয়তন, উৎপন্ন ফসল ও দ্রব্যাদি এবং শহর ও লোকালয়গুলোর বিষয়ে পরিচয় লাভের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য সরকারি কর্মচারীদের নিত্যব্যবহার্য বিজিত দেশগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণী ও সীমান্তবর্তী দেশ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় সংবলিত বই রচনারও প্রয়োজন ছিল। ফলে মুসলিম বিজ্ঞানীরা প্রথম থেকেই ভৌগোলিক শিক্ষার ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেন এবং ভূতত্ত্ববিষয়ক পুঁথি-পুস্তক প্রণয়ন করতে শুরু করেন।

ভূগোলশাস্ত্রে মুসলমানদের অগ্রগতির আরো একটি কারণ আছে। এটি হলো হজ পালনের অপরিহার্যতা। এটি প্রত্যেক সম্পদশালী মুসলমান, যাদের করার সামর্থ্য আছে তাদের জন্য ফরজ ইবাদত। হজ পালনের জন্য মুসলমানদের মক্কার কাবা শরিফে গিয়ে হাজির হতে হয়। ফলে মক্কা শরিফ সারা মুসলিমজগতের ভৌগোলিক কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। হজকে কেন্দ্র করে দুনিয়ার প্রতিটি জনপদ থেকে মুসলমানরা সৌদি আরবে আসেন। ফলে নানা দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার এবং ওই সব দেশের ভূপ্রকৃতি ও সমাজ সম্পর্কে পারস্পরিক মত ও তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। আর এই হজের কারণে নানা দেশে রচিত হতো নানা রকম ভ্রমণের অভিজ্ঞতাভিত্তিক বই-পুস্তক। এসব বই-পুস্তকে সফরকারী ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা, মানুষের সঙ্গে মেলামেশার বিবরণ, আবহাওয়া, স্থান, জনপদ ও সেখানকার পরিবেশ-প্রতিবেশ সম্পর্কে মতামত পরিবেশিত হতো। কালক্রমে এভাবেই ভূগোল বিষয়ে গড়ে উঠে জ্ঞান সাধনার এক বিশাল ভাণ্ডার। এ বিষয়ে জুরজি জায়দান বলেন, ‘পবিত্র হজ পালন, মসজিদের কিবলা নির্ধারণ এবং নামাজের সময় নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা মুসলমানদের ভূগোল গবেষণার মূল প্রেরণা ছিল।’

আর এভাবেই প্রকৃত অর্থে মুসলমানদের হাত ধরেই এগিয়ে যায় ভূগোলশাস্ত্র। এর ফলে মুসলিম সমাজে অসংখ্য ভৌগোলিক বিজ্ঞানীর আবির্ভাব ঘটে। তাঁদের মধ্যে কিছু বিশিষ্টজন হলেন আল-খারিজমি (মৃত্যু ৮৪৭), আল-ফারগানি (মৃত্যু ৮৬০), ইবনে খুরদাদবাহি (মৃত্যু ৮৭০ সাল), ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-কিন্দি (মৃত্যু ৮৭৪), জাফর বিন মুহম্মদ বলখী (মৃত্যু ৮৮৬), বাবিত বিন কুরা (মৃত্যু ৯০১), আল-বাত্তানি (মৃত্যু ৯২৯), আবু জায়েদ বখলি (মৃত্যু ৯৩৭ সাল), আল-ইস্তাখরি (মৃত্যু ৯৫০ সাল), ইবনে হাইকল (মৃত্যু ৯৭৫ সাল), আবনে ইউনুস (মৃত্যু ১,০০০)। তার পরবর্তী সময়ে আরো অনেক মুসলিম ভূগোলবিদ ভূবিজ্ঞান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁদের কয়েকজন হলেন আবু হামিদ আন্দালুসি (মৃত্যু ১১৬২), আল-মাজিনি (মৃত্যু ১১৬৯), ইবনু সাঈদ (মৃত্যু ১২৭৪), আবুল ফিদা (মৃত্যু ১৩৩১), ইবনে বতুতা (মৃত্যু ১৩৭৭), ইবনে খালদুন (মৃত্যু ১৪০৬) প্রমুখ।

১০ শতকের দিকে এসে বেশ কয়েকজন বিখ্যাত মুসলিম ভূগোলজ্ঞ ভূতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণা করেন। রচনা করেন উত্কৃষ্ট সাহিত্য ও বিজ্ঞান কর্ম। তাঁদের অন্যতম হলেন আল-মাকদিসি। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ ভূগোলশাস্ত্রবিদ। অসাধারণ মেধা, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের কারণে আল-মাকদিসি জগৎ খ্যাত ভূগোলশাস্ত্রবিদের মর্যাদায় অভিষিক্ত হন। আরবের জেরুজালেম শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জেরুজালেমে দুনিয়ার প্রথম কিবলা ‘বায়তুল মাকদাস’ অবস্থিত। আল্লাহর নবী ইয়াকুব (আ.) এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আর সোলায়মান (আ.) এই মসজিদের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেন। সেটা প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৮২৪ সালের কথা। এই বায়তুল মাকদাসের নামানুসারেই ‘আল-মাকদিসি’ মুকাদ্দসি নামে পরিচিতি লাভ করেন।

লেখক : শিশুসাহিত্যিক ও সিনিয়র ব্যাংকার

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট