মো. আবদুর রাজ্জাক
সংগৃহীত ছবি
কোটি কোটি মানুষের নয়নমণি, হৃদয়ের রাজ সিংহাসনে আসীন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী, রাজপথের অকুতোভয় ও নির্ভীক সৈনিক, স্বৈরাচারের আতঙ্ক, গণতান্ত্রিক বিশ্বের আইকন, মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া অশ্রু জলে ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমাদের এতিম করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫।
দেশমাতা এভারকেয়ারে ভর্তি হওয়ার পর বেকারি, পথচারী, রিকশাচালক, দিনমজুর বিনিময়হীন ভালোবাসা, ক্রন্দন, মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার আবেগ-উচ্ছ্বাস, মানুষের হৃদয় জয় করে পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সংসদ ভবন থেকে গাবতলী, মিরপুর, আগারগাঁও, মহাখালী, কাওরান বাজার হয়ে শাহবাগ, শুক্রাবাদ হয়ে কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, টিভিতে প্রচারিত বাসা বাড়িতে জানাজায় অংশগ্রহণ, সারা বাংলাদেশে কোটি কোটি লোকের দোয়া সবটুকুই তার প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। যা তিনি দেশের মানুষদের ভালোবেসে অর্জন করেছেন।
দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার অন্তর্ধানে তার সমাধির পূর্ব পর্যন্ত তার আত্মা ঘুরেফিরে দেখেছে এ দেশের আপামর জনসাধারণ তাকে কতটুকু ভালোবাসেন এবং ভালোবাসতেন, যা মুছে যাওয়ার নয়। যা থাকবে অনাদি অনন্তকাল ধরে মানুষের হৃদয়ে সোনালি অতীত হয়ে। দূর থেকে দূরান্তরে চোখের সীমানা পেরিয়ে সমাধির দিকে লক্ষ্য করে দাঁড়িয়ে ক্রন্দন করেছে এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে দেশপ্রেমিক জনগণ। তার মৃত্যুতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
সবাই একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। তিনি ছিলেন দল-মত- নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নেত্রী। তিনি শুধু বিএনপির সম্পদ ছিলেন না, ছিলেন দেশ ও জাতির সম্পদ। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করতেন না।
ছিলেন না পরশ্রীকাতর। তিনি ছিলেন পরমসহিষ্ণু একজন মহান ব্যক্তি। সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি ছিল যার অগাধ ভক্তি, ভালোবাসা ও বিশ্বাস। যিনি সব কিছুর নিয়ামক, নিয়ন্ত্রক, সম্মান ও মর্যাদা দেয়ার মালিক। পরম করুণাময় তার প্রিয় বান্দাকে সযত্নে তার কাছে নিয়ে গেছেন আলহামদুলিল্লাহ।
হজের সময় আরাফার ময়দানে যেমন লক্ষ লক্ষ সম্মানিত হাজী সাহেবরা “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” বলে আল্লাহকে কেঁদে কেঁদে স্মরণ করেন, আল্লাহ খুশি হয়ে সম্মানিত হাজীদের ডাকে সাড়া দেন। তেমনি দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো জনতার গগনবিদারী আর্তনাদ, ক্রন্দন, দোয়া-দরুদ, তার আত্মার মাগফিরাত আল্লাহর আরশে আজিমে পৌঁছে গেছে। জানা যায়, মানুষের চোখের পানিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। আল্লাহর রহমতের ফেরেশতারা ভালো মানুষের জানা যায় শরিক হন। তার বিদেহী আত্মা ঘুরে ফিরে দেখেছে, তিনি কতটুকু মানুষের মন জয় করতে পেরেছিলেন, দেশের জনগণ তাকে কতটুকু ভালোবাসেন।
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণকালের জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম এবং তারই উত্তরসূরি জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজয় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একই পরিবারের স্মরণীয় এবং বরণীয় দুজন মহান ব্যক্তিকে তাদের কর্মের মাধ্যমে জাতির ইতিহাসে তারা অম্লান করে রেখেছে। জন্ম তাদের স্বার্থক। এমন ভাগ্যময় জীবন কজনের ভাগ্যে জোটে। এই মহান ব্যক্তিদ্বয় স্বল্পাহারী, স্বল্পভাষী ও মিতব্যয়ী ছিলেন। পছন্দ করতেন না তোষামদি, ভালোবাসতেন সবাইকে। দেশ এবং দেশের মানুষদেরকে মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখতেন এবং স্বপ্ন দেখাতে ভালবাসতেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সর্বোপরি তাদের কর্মময় ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও সময়কাল বিশ্লেষণ করলে একটি মেসেজ পাওয়া যায়। পরবর্তী প্রজন্মের কেউ যদি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থান ধরে রাখতে চাই, তাহলে তাদের উপরোক্ত গুণাবলি অর্জন করতে হবে। তাদের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ ও দেশপ্রেমিক জনগণের সম্মুখে অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।
ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে মানুষ পছন্দ করেন নতুন প্রজন্মের অহংকার, যাকে তারা মাথার মুকুট করে রাখতে চান। যিনি পা ছুঁয়ে সালাম ও তোষামদি করা পছন্দ করেন না। যাকে নিয়ে দেশের মানুষ ইতোমধ্যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। যার মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশমাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছেন। তিনি হলেন, আমাদের অহংকার, অলংকার, মনিহার জনাব তারেক রহমান।
দেশের মানুষদের নিরাপত্তা প্রদান, চাঁদাবাজদের কঠিন হস্তে দমন, তোষামোদকারীদের থেকে দূরে থাকা, সবার জন্য সমান সুযোগ, যোগ্য ব্যক্তিদের যোগ্য স্থানে নির্ধারণ, দল-মত-নির্বিশেষে বিজ্ঞ লোকদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হস্তে দমন, ক্ষমার যোগ্য হলে ক্ষমা করা প্রভৃতি দিকগুলো মাথায় রেখে অগ্রসর হওয়া। ইতোমধ্যে জনাব তারেক রহমান তার আচরণ, বক্তব্য, বিভিন্ন পেশাজীবী ও কূটনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সবকিছুতেই মেধার সাক্ষ্য রেখেছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। দেশ বরেণ্য দু’জন মহান ব্যক্তির রাষ্ট্র পরিচালনা যিনি অতি নিকট থেকে অবলোকন করেছেন। যাদের হাতের স্পর্শ পেয়েছেন। মায়া-মমতা ভালোবাসায় বড় হয়েছেন। তাদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, তাদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা সর্বোপরি জনগণের ভালোবাসাই সিক্ত তার বাবা-মায়ের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাগুলো নির্ধারণ করে ক্রমান্বয়ে সম্পাদন করতে পারলে জনাব তারেক রহমানও হয়ে উঠবেন তৃতীয় ব্যক্তি সর্বসাধারণের নেতা, বিশ্বের বিস্ময়, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অহংকার, বেঁচে থাকবেন তিনি হৃদয়ের কুঠুরে, দেশবাসীর মনের মন্দিরে চির অম্লান ও চিরভাস্বর হয়ে হৃদয় গগনে। আল্লাহ তার সহায় হোক। আমিন।
লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সমাজকর্ম বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, ঢাকা।