মাহদী আমিন
১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রা পেরিয়ে আজ তিনি সেই দলের চেয়ারম্যান। এই পথচলা কিন্তু উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কোনো পূর্বনির্ধারিত আরোহন নয়; বরং নিজ যোগ্যতায় ত্যাগ, ধৈর্য, সংগ্রাম ও গণমানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার অনন্য উদাহরণ।
তিনি এমন এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, যেখানে রাজনীতি মানেই ছিল দেশ ও জনগণের জন্য আত্মনিবেদন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বলিদান।
তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের প্রথম সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। তাঁর মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতৃত্বদানকারী এবং বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। এই গৌরবোজ্জ্বল প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান চাইলে খুব সহজেই রাজনীতির সর্বোচ্চ কোনো পদে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন।
কিন্তু তিনি সেই সহজ পথ বেছে নেননি।
তিনি বেছে নিয়েছেন এক কঠিন ও সংগ্রামী পথ, তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের ক্ষমতায়নের পথ। ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি বারবার ছুটে গেছেন সাধারণ মানুষের দুয়ারে। তাঁর রাজনীতির অন্যতম দর্শন হলো, দেশের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি ছড়িয়ে দিয়ে প্রান্তিক মানুষের সমস্যার সমাধান করা ও তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন করা।
একজন মানুষ যে একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হতে পারেন, তা তারেক রহমানকে না দেখলে হয়তো বোঝা যেত না।
ইতিহাসের বৃহত্তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং সেই মুহূর্তে উদ্ভাসিত জনগণের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাই তার জীবন্ত প্রমাণ। অনিঃশেষ নির্যাতন, নির্বাসন ও ষড়যন্ত্রের মুখেও তিনি কখনো মাথা নত করেননি, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তিনি থেকেছেন অটল ও আপসহীন।
এক যুগ আগে ২০১৪ সালে, আমি যখন তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি, তখন তিনি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তারও আগে থেকেই আমি খুব কাছ থেকে তাঁর ভিশন, কমিটমেন্ট ও স্টেটসম্যানশিপ প্রত্যক্ষ করেছি। পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং আজ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সন্ধিক্ষণে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান।
এটি আজ অনেকটাই সর্বজনীন বিশ্বাস, তারেক রহমান হবেন নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, ইনশাআল্লাহ। আমার সর্বস্ব দিয়ে শুভকামনা, প্রিয় নেতা।
লেখক: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা