1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ধার্মিকতা - সংবাদ এইসময়
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রকাশ পেল টুটুল -লাবন্য’র ‘সেই মানুষটা তুমি’ কুড়িগ্রামে এলপিজি গ্যাসের দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না সিলিন্ডার শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে কারা? পোস্টাল ব্যালট বিতর্কে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত : সালাহউদ্দিন মার্কিন-ই/সরায়েলি সাইবার সফটওয়্যার বন্ধের নির্দেশ দিল বেইজিং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট: দেশের ম্যান্ডেট পূর্ণ করার সুযোগ -অধ্যাপক আলী রীয়াজ এলিয়েনের সঙ্গে যোগাযোগ, বিজ্ঞানীদের নজরে মৌমাছির মস্তিষ্ক মটরশুঁটির যত পুষ্টিগুণ সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন খুবই প্রয়োজন: বদিউল আলম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবদের বিদায় সংবর্ধনা

দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ধার্মিকতা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

মুফতি সাইফুল ইসলাম

প্রতীকী ছবি

মানুষ স্বভাবগতভাবেই সহমর্মী ও কল্যাণপ্রত্যাশী। তবে সমাজের বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত থেকে যায় সেই মানুষগুলো, যারা শক্তি, আশ্রয় ও উপার্জনের ভরসা হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে; বিধবা নারী ও অসহায় দরিদ্র শ্রেণি। পরিবার হারানোর বেদনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক উপেক্ষা তাদের জীবনকে করে তোলে নীরব সংগ্রামে পূর্ণ।

ইসলাম এই দুর্বল মানুষদের কষ্টকে কেবল মানবিক অনুভূতির বিষয় হিসেবে দেখেনি; বরং একে ঈমানের গভীরতার মানদণ্ড হিসেবে স্থাপন করেছে। কোরআন ও সুন্নাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সমাজের প্রান্তিক মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করা অনেক উচ্চ মর্যাদার ইবাদত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হলো সহিহ বুখারিতে বর্ণিত সফওয়ান ইবনে সুলাইম (রহ.) থেকে মারফু’ভাবে বর্ণিত হাদিসটি। সেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি বিধবা ও মিসকিনের ভরণ-পোষণের জন্য চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো; অথবা সে ওই ব্যক্তির মতো, যে দিনে রোজা রাখে এবং রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকে।

’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০০৬)
এই হাদিসে গভীরভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো; রাসুল (সা.) সমাজসেবাকে ইবাদতের সর্বোচ্চ স্তরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জিহাদ, সিয়াম ও কিয়াম; এসব আমল ইসলামে সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতীক। অথচ তিনি বিধবা ও অসহায়দের দায়িত্ব বহনের বিষয়টিকে সেই উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কষ্ট লাঘব করা ইসলামে কোনো গৌণ কাজ নয়; বরং তা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি শক্তিশালী পথ।

পবিত্র কোরআনেও এই শিক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে—কী ব্যয় করবে? বলো, যা কিছু ব্যয় করবে, তা হবে পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২১৫)

আরেক আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা নেককারদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘তারা আল্লাহর ভালোবাসায় খাদ্য দান করে মিসকিন, ইয়াতিম ও বন্দিদের।’ (সুরা : আল-ইনসান, আয়াত : ৮)

এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে ইসলামে সমাজের দুর্বল শ্রেণির ভরণ-পোষণ কোনো ঐচ্ছিক দান নয়; বরং সেগুলো ঈমানেরও দাবি ও নেক আমলের অপরিহার্য অংশ।

অতীত ও বর্তমান সর্বকালের মুসলিম স্কলাররাও এই বিষয়ে গভীর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

ইবনে হাজর আল-আসকালানি (রহ.) তাঁর ফাতহুল বারি গ্রন্থে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন যে, ‘বিধবা ও মিসকিনের সেবাকে জিহাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, কারণ এতে রয়েছে অবিরাম চেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মত্যাগ; যা নফসের বিরুদ্ধে এক প্রকার সংগ্রাম। তিনি বলেন, এই সেবাকর্মে নিয়ত বিশুদ্ধ হলে তা ধারাবাহিক ইবাদতে পরিণত হয়।’
ইসলামের ইতিহাসেও আমরা এর বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পাই। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে বিধবা ও ইয়াতিমদের খোঁজখবর নিতেন, তাদের প্রয়োজন পূরণ করতেন। তাঁর সাহাবিরাও এই শিক্ষাকে জীবনের অংশে পরিণত করেছিলেন। ওমর (রা.) রাতের আঁধারে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য বহন করতেন; যা কেবল শাসকের দায়িত্ববোধ নয়; বরং ঈমানি দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এই হাদিস আমাদের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়; তা হচ্ছে- ইবাদত শুধু মসজিদকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া এবং বিধবার চোখের অশ্রু মোছাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। যে সমাজে দুর্বল মানুষের দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে বহন করা হয়, সে সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এটিও তো ইসলামের কাঙ্ক্ষিত সামাজিক কাঠামো।

কাজেই বিধবা ও অসহায়দের ভরণ-পোষণের মর্যাদা শুধু সামাজিক নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; এটি ঈমানের বাস্তব পরীক্ষাও বটে। এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একজন মুসলিম প্রমাণ করতে পারে; তার ইবাদত জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত এই পথই আমাদের শেখায়; প্রকৃত ধার্মিকতা সেখানে; যেখানে মানুষের কষ্ট লাঘব হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

আজ আমাদের চারপাশে নীরবে কাঁদছে বহু বিধবা ও অসহায় পরিবার। যাদের চোখের জল কেউ দেখে না, কষ্টের কথা কেউ শোনে না। তাদের পাশে দাঁড়ানো কোনো অতিরিক্ত দয়া নয়; এটি আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। আসুন, আমরা নিজেদের ইবাদতকে শুধু ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন ছুঁয়ে দিই। হয়তো আমাদের সামান্য সহযোগিতাই কারও মুখে হাসি ফোটাতে পারে, কারও সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে পারে।

আল্লাহ যেন আমাদের অন্তরকে সহমর্মিতায় ভরিয়ে দেন এবং বিধবা ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করেন—আমিন।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
Saifpas352@gmai.com

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট