1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে শবে মেরাজের ঘটনা: মহানবী (সা:)-এর ঊর্ধ্বজগৎ ভ্রমণ - সংবাদ এইসময়
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাভার স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না : রিজওয়ানা বাগমারায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল রোয়াংছড়িতে এনসিপি’র নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। আমাদের বেতনের টাকা আসে স্পন্সর ও আইসিসি থেকে: মিরাজ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ই/সরায়েল ফটিকছড়িতে মনোনয়ন ফিরে পেলেন রবিউল হাসান তানজিম সবার দোয়া ও ভালবাসায় অভিনয় করে এগিয়ে যেতে চাই : অভিনেতা ইমরান হাসো শেরপুরে অবকাশ স্বপ্ন কৃষি সমবায় সমিতির ১ম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হাফিজ বাউলার সুরে রাজু মন্ডলের কণ্ঠে প্রকাশ পেলো ‘গোপন কুটির’

কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে শবে মেরাজের ঘটনা: মহানবী (সা:)-এর ঊর্ধ্বজগৎ ভ্রমণ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

📖এক্টিভিষ্ট লেখক ও গবেষক
✍️মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী হাফিজাহুল্লাহ।

★ভূমিকা:
পৃথিবীর ইতিহাসে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী যুগান্তময়ী ঘটনা ‘মিরাজ’। এর আভিধানিক অর্থ সিঁড়ি,সোপান, ঊর্ধ্বগমন,বাহন, আরোহণ,উত্থান প্রভৃতি। অন্য অর্থে ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ বা মহামিলন,যা রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিশেষ মুজিযা এবং আল্লাহর কুদরতের মহানিদর্শন। নবীকুলের মধ্যে একমাত্র প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-কে এই অনন্য মর্যাদা প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।

পরিভাষায়,মেরাজ হলো:-মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক স্বশরীরে স্বজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হযরত জিবরাইল (আ:) ও হযরত মিকাইল (আ:) এর সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা হয়ে প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ;মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ ও জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন করে ফিরে আসা।

মেরাজের একটা অংশ হলো ইসরা। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। যেহেতু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেরাজ রাত্রিকালে হয়েছিল,তাই এটিকে ইসরা বলা হয়। বিশেষত বায়তুল্লাহ শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয়ে
থাকে। মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল নবুওয়াতের ১১তম বছরের ২৭ রজবে। তখন নবীজির (সা.) বয়স ৫১ বছর। মেরাজ হয়েছিল সশরীরে জাগ্রত অবস্থায়। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো কাফের,মুশরিক ও মুনাফিকদের অস্বীকৃতি ও অবিশ্বাস। যদি আধ্যাত্মিক বা রুহানিভাবে অথবা স্বপ্নযোগে হওয়ার কথা বলা হতো,তাহলে তাদের অবিশ্বাস করার কোনো কারণ ছিল না।

মেরাজের বিবরণ পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে ও বর্ণিত হয়েছে,বুখারি শরিফ,মুসলিম শরিফ,সিহাহ সিত্তাসহ অন্যান্য কিতাবে এই ইসরা ও মেরাজের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ সূত্রে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

★কোরআনের আলোকে পবিত্র শবে মেরাজ…

আল্লাহ তাআলা সূরা ইসরা (বনী ইসরাঈল) এর ১ নং আয়াতে ইরশাদ করেন-

سُبْحٰنَ الَّذِیْۤ اَسْرٰی بِعَبْدِهٖ لَیْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ اِلَی الْمَسْجِدِ الْاَقْصَا الَّذِیْ بٰرَكْنَا حَوْلَهٗ لِنُرِیَهٗ مِنْ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْبَصِیْرُ.

অনুবাদ:পবিত্র সেই সত্তা,যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতের একটি অংশে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন,যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি,তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা,সর্বদ্রষ্টা।
★বস্তুত ইসরা হচ্ছে,মক্কা মুকাররমা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণের সেই পর্বটুকু,যা রাতের একটি অংশে সংঘটিত হয়েছিল। আর মিরাজ হচ্ছে সেখান থেকে ঊর্ধ্বজগৎ পরিভ্রমণের সেই বিস্তৃত অধ্যায়।

আল্লাহ তাআলা সূরা নজম এর ১৩-১৮ নং আয়াতে ইরশাদ করেন-

وَ لَقَدْ رَاٰهُ نَزْلَةً اُخْرٰی، عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهٰی، عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَاْوٰی، اِذْ یَغْشَی السِّدْرَةَ مَا یَغْشٰی،مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَ مَا طَغٰی، لَقَدْ رَاٰی مِنْ اٰیٰتِ رَبِّهِ الْكُبْرٰی.

অনুবাদ:বস্তুত সে তাকে (হযরত জিবরাঈল আ:-কে) আরও একবার দেখেছে। সিদরাতুল মুনতাহা (সীমান্তবর্তীর কুলগাছ)-এর কাছে। তারই কাছে অবস্থিত জান্নাতুল মা’ওয়া। তখন সেই কুল গাছটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল সেই জিনিস,যা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। (রাসূলের) চোখ বিভ্রান্ত হয়নি এবং সীমালংঘনও করেনি। (অর্থাৎ দেখার ব্যাপারে চোখ ধোঁকায় পড়েনি এবং আল্লাহ তাআলা তার জন্য যে সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন,তিনি তা লংঘনও করেননি যে,তার সামনে কী আছে তা দেখতে যাবে) বাস্তবিকপক্ষে,সে তার প্রতিপালকের বড়-বড় নিদর্শনের মধ্য হতে বহু কিছু দেখেছে।

★ইসরা ও মিরাজের ব্যাপারে কুরআনের বর্ণনায় সংক্ষেপে এতটুকুই বলা হয়েছে। আর বিস্তারিত এসেছে হাদীসের পাঠগুলোতে। সীরাত,সুন্নাহ এবং তারীখের নির্ভরযোগ্য সূত্রে রয়েছে এর বিশদ বিবরণ।

★সহীহ হাদিসের আলোকে পবিত্র শবে মেরাজ এর ঘটনা…

হিজরতের পূর্বের কথা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে শুয়ে ছিলেন। কোন বর্ণনায় হাতিমে কাবায়,কোন বর্ণনায় শিআবে আবু তালিবে। সহীহ বর্ণনায়
নবী (সা:)স্বীয় ঘরে,তন্দ্রাচ্ছন্ন। চোখদুটো ঘুম এসেছে বটে,তবে দিল ছিল জাগ্রত। এরই মাঝে আগমন করলেন হযরত জিবরাঈল (আ:)। তিনি নবীজীকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন যমযমের নিকট। একটি স্বর্ণের পেয়ালা আনা হল। তা ছিল ঈমান ও হিকমতে পূর্ণ। তাতে যমযমের পানি। জিবরাঈল (আ:) নবীজীর বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করলেন। বের করে আনলেন নবীজীর হৃদয়। যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে আবার প্রতিস্থাপন করে দিলেন জায়গামত। ঈমান ও হিকমতে পূর্ণ করে দেওয়া হল নবীজীর কলব,এরপর আনা হল নবীজীকে বহন করার জন্য সওয়ারী। প্রাণীটি গাধার চেয়ে বড়,ঘোড়া থেকে ছোট। নাম বুরাক। রং সাদা। এটা এতটাই ক্ষিপ্রগতির যার একেকটি কদম পড়ে দৃষ্টির শেষ সীমায় গিয়ে। এভাবে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহূর্তেই পৌঁছে গেলেন বাইতুল মুকাদ্দাসে। বুরাক বেঁধে রাখা হল পাথর ছিদ্র করে। যে পাথরে অপরাপর নবীগণ নিজেদের বাহন বেঁধে রাখতেন। নবীজী সেখানে দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। নামায পড়ে বের হওয়ার সময় জিবরাঈল (আ:) নবীজীর সামনে দুটি পেয়ালা পেশ করলেন। একটি দুধের অপরটি শরাবের। নবীজী দুধের পেয়ালা গ্রহণ করলেন। জিবরাঈল (আ:) বললেন,আপনি (দ্বীনের) স্বভাবসিদ্ধ বিষয়টি নির্বাচন করেছেন। নবীজী মদের পেয়ালা নেওয়ার পরিবর্তে দুধের পেয়ালা গ্রহণ করায় জিবরাঈল (আ:)বলেন,আপনি ফিতরাহকেই গ্রহণ করলেন।
👉দেখুন:[সহীহ বুখারী হাদিস নং ৩৪৯-সহীহ
মুসলিম হাদিস নং ১৬২-৩০০]

★এরপর শুরু হল ঊর্ধ্বজগতের সফর। জিবরাঈল নবীজীকে নিয়ে চললেন। প্রথম আসমানে গিয়ে দস্তক দিলেন। জিজ্ঞাসা করা হল,কে? বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল,আপনার সাথে কে? বললেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞাসা করা হল,তার কাছে কি আপনাকে পাঠানো হয়েছে? বললেন,হাঁ। এরপর নবীজীকে সম্ভাষণ জানানো হল-
মারহাবা,উত্তম আগমনকারীর আগমন ঘটেছে!খুলে দেওয়া হল নবীজীর জন্য আসমানের দরজা।

নবীজী প্রথম আসমানে গেলেন। সেখানে ছিলেন হযরত আদম (আ:)। জিবরাঈল পরিচয় করিয়ে দিলেন। নবীজী হযরত আদমকে সালাম বললেন। বাবা আদম জবাব দিলেন। নবীজীকে সাদর অভিবাদন জানালেন- মারহাবা,নেককার পুত্র ও নেককার নবী। হযরত আদম (আ:) নবীজীর জন্য দুআ করলেন।

এরপর নবীজী উঠতে থাকলেন দ্বিতীয়
আসমানের দিকে। সেখানেও দরজা খুলতে প্রথম আসমানের মতো
জিজ্ঞাসাবাদ করা হল।এরপর নবীজীকে ইস্তেকবাল করা হল।নবীজী সেখানে দেখতে পেলেন দুই খালাত ভাই হযরত ঈসা (আ:) ও হযরত ইয়াহইয়া (আ:)-কে। তাদের সাথে নবীজীর সালাম বিনিময় হল। তারা নবীজীকে স্বাগত জানালেন- মারহাবা, আমাদের পুণ্যবান ভাই এবং সজ্জন নবী। তারা নবীজীর জন্য দুআ করলেন।

এরপর নবীজীকে তৃতীয় আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানেও দুই আসমানের মতো জিজ্ঞাসাবাদ হল এবং নবীজীকে স্বাগত জানানো হল। সেখানে গিয়ে দেখলেন হযরত ইউসুফ (আ:)। হযরত ইউসুফের সাথে নবীজীর সালাম ও কুশল বিনিময় হল। নবীজী বলেন,হযরত ইউসুফকে যেন দুনিয়ার অর্ধেক সৌন্দর্য ঢেলে দেওয়া হয়েছে!

এরপর চললেন চতুর্থ আসমানের দিকে। সেখানেও পূর্বের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হল,স্বাগত-সম্মান জানানো হল। সেখানে হযরত ইদরীস (আ:)-এর সাথে সাক্ষাৎ হল। সালাম ও কুশল বিনিময় হল। হযরত ইদরীস (আ:) নবীজীর জন্য দুআ করলেন।

এরপর চললেন পঞ্চম আসমানের দিকে। সেখানে হযরত হারূন (আ:)-এর সাথে সাক্ষাৎ হল।

এরপর চললেন ষষ্ঠ আসমানের দিকে। সেখানেও পূর্বের পর্বগুলোর মতো জিজ্ঞাসা করা হল। নবীজীকে অভিনন্দন জানানো হল। সেখানে দেখা হল হযরত মূসা (আ:)-এর সাথে। হযরত মূসা (আ:) নবীজীকে খুব ইস্তেকবাল করলেন।

এরপর নবীজি সপ্তম আসমানের দিকে উঠতে থাকেন। সেখানে দেখা হল হযরত ইবরাহীম (আ:) এর সাথে। জিবরাঈল (আ:) পরিচয় করিয়ে দিলেন- ইনি আপনার পিতা,সালাম করুন। নবীজী হযরত ইবরাহীম (আ:)-এর সাথে সালাম বিনিময় করলেন।
নবীজি
বলেন,হযরত ইবরাহীম (আ:) তখন বাইতুল মামুরে হেলান দিয়ে ছিলেন। বাইতুল মামুর,যেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা আসে। এরপর এই সত্তর হাজার আর ফিরে আসে না। এভাবে প্রতিদিন সত্তর হাজার করে ফেরেশতাদের নতুন নতুন কাফেলা আসতে থাকে।

এরপর নবীজীকে নিয়ে যাওয়া হল সিদরাতুল মুনতাহার দিকে। সেই কুল বৃক্ষের একেকটি পাতা হাতির কানের মতো। আর একেকটি ফল মটকার মতো বড় বড়। যখন ওটাকে আল্লাহর বিধান আচ্ছন্ন করে নিল তা পরিবর্তিত হয়ে গেল। সৃষ্টির কারো সাধ্য নেই তার সৌন্দর্যের বিবরণ দেবার। জিবরাঈল বললেন,এটা সিদরাতুল মুনতাহা।এখানে চারটি নহর। দুটি অদৃশ্য আর দুটি দৃশ্যমান। নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন,দৃশ্যমান নদীদুটি কোনগুলো? জিবরাঈল বললেন,
অদৃশ্যমান দুটি জান্নাতে। আর দৃশ্যমান দুটি হল নীল নদ ও ফুরাত নদী।

এরপর আল্লাহ তাআলা নবীজীর প্রতি যে ওহী পাঠানোর পাঠালেন। দিনরাতে উম্মতের জন্য পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করে দিলেন। নবীজী আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাতের এ হাদিয়া নিয়ে ফেরত আসছিলেন,এর মধ্যে দেখা হযরত মূসা আ.-এর সাথে। হযরত মূসা (আ:) জিজ্ঞাসা করলেন,আল্লাহ আপনার উম্মতের জন্য কী দিয়েছেন? নবীজী বললেন, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায। হযরত মূসা বললেন, আপনার উম্মত রাত-দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায পড়তে পারবে না। আপনার আগে আমি উম্মত চালিয়ে এসেছি। আপনি আল্লাহর কাছে গিয়ে কমিয়ে আনেন। নবীজী সে মতে আল্লাহর কাছে গিয়ে কম করে দেওয়ার দরখাস্ত করলেন। আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। নবীজী তা নিয়ে ফেরত আসছিলেন। আবার হযরত মূসা (আ:)-এর সাথে দেখা হল। বললেন,আপনার উম্মত তা পারবে না। আপনি আরো কমিয়ে আনুন। নবীজী আবার আল্লাহর কাছে গিয়ে আগের মতো দরখাস্ত করে আরো পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে আনলেন। নবীজী বলেন,এভাবে আমি আল্লাহ ও মূসার মাঝে আসা-যাওয়া করতে থাকি। শেষবার আল্লাহ বলেন,মুহাম্মদ!এই হল দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায। প্রত্যেক নামাযের বিনিময়ে দশ নামাযের সাওয়াব। এভাবে বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সওয়াব পাবে। কেউ কোনো ভালো কাজের ইচ্ছা করবে কিন্তু করতে পারবে না,তার জন্যও নেকী রয়েছে। এক নেকী। আর যদি ভালো কাজটি করে তাহলে তার জন্য দশ নেকী। আর কেউ কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছা করলে কোনো গুনাহ লেখা হবে না। তবে তা করে বসলে একটি গুনাহ লেখা হবে। নবীজী এ সওগাত নিয়ে ফেরত
আসছিলেন। হযরত মূসার সাথে দেখা হল। মূসা (আ:) এবার শুনে
বললেন,আপনি যান,আরো কমিয়ে আনুন। আপনার উম্মত পারবে না। বনী ইসরাঈলের বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা আছে। নবীজী,বললেন,আমার আর কিছু বলতে লজ্জা হচ্ছে!
👉দেখুন:[সহীহ বুখারী,হাদিস ৩৮৮৭,সহীহ মুসলিম,হাদিস ১৬২,১৬৪]

★আল্লাহ তাআলা নবীজীর জন্য যে বিশেষ উপহার হাউযে কাউসার রেখেছেন প্রথম আসমানে নবীজীকে তা দেখানো হয়। নবীজী সেই কাউসারের বিবরণও দিয়েছেন।
👉দেখুন:[সহীহ বুখারী,হাদিস ৭৫১৭]

★নবীজী যখন প্রথম আসমানে যান দেখেন এক ব্যক্তি,তার ডান পাশে কিছু রূহ আর বাম পাশে কিছু রূহের কাফেলা। তিনি ডানদিকে তাকালে হাসেন আর বাম দিকে তাকালে কাঁদেন। তিনি নবীজীকে সম্ভাষণ জানালেন। নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, জিবরাঈল! ইনি কে? জিবরাঈল বললেন,ইনি আদম (আ:)। আর তার দুই পাশে তার সন্তানদের রূহ। ডানদিকেরগুলো জান্নাতী আর বামদিকেরগুলো জাহান্নামী। এজন্য তিনি ডানদিকে তাকিয়ে হাসেন আর বামদিকে তাকিয়ে কাঁদেন। 👉দেখুন:[সহীহ বুখারী,হাদিস ৩৩৪২]

★এ সফরে নবীজীকে জান্নাত-জাহান্নামের ভ্রমণও করানো হয়। নবীজী বলেন, জান্নাতের প্রাসাদগুলো মুক্তার তৈরি আর তার মাটি হল মেশকের।
👉দেখুন:[সহীহ বুখারী,হাদিস ৭৫১৭]

★নবীজী এ সফরে একদল লোককে দেখলেন,তাদের নখগুলো তামার। নিজেদের নখ দিয়ে তারা নিজের গাল ও বুকে আঁচড় কাটছে। জিজ্ঞাসা করলেন,জিবরাঈল,এরা কারা?
বললেন,এরা ওই সমস্ত লোক,যারা মানুষের গোশত খেত এবং তাদের সম্ভ্রমে আঘাত হানত। অর্থাৎ গীবত করত এবং মানুষকে লাঞ্ছিত করত।
👉দেখুন:[মুসনাদে আহমাদ,হাদিস ১৩৩৪০,সুনানে আবু দাউদ,হাদিস ৪৮৭৮]

★নবীজি এ সফরে হযরত মূসা (আ:) ও হযরত ঈসা (আ:)-এর শারীরিক গড়নেরও বিবরণ দেন। নবীজি বলেন,আমি ইবরাহীমের আকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
👉দেখুন:[সহীহ বুখারী,হাদিস ৩৩৯৪]

★হযরত ইবরাহীম (আ:)-এর সাথে মুলাকাত হলে তিনি নবীজিকে বলেন,আপনি আপনার উম্মতের কাছে আমার সালাম,পৌঁছাবেন। আর তাদেরকে বলবেন,জান্নাতের মাটি পবিত্র ও সুঘ্রাণযুক্ত,এর পানি সুমিষ্ট এবং এর ভূমি উর্বর ও সমতল। আর এর বৃক্ষ হচ্ছে

سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ لِلهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَر.

👉দেখুন:[জামে তিরমিযী,হাদিস ৩৪৬২]

★এ সফরে নবীজীকে তিনটি উপহার দেওয়া হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায,সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো এবং এই উম্মতের যারা শিরক থেকে বেঁচে থেকে মৃৃত্যুবরণ করবে তাদের,গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়ার ঘোষণা।
👉দেখুন:[সহীহ মুসলিম,হাদিস ১৭৩]

★এ সফরে নবীজীর সাথে পূর্ববর্তী নবীগণের সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি নামাযে সকলের ইমামতি করেন।
👉দেখুন:[সহীহ মুসলিম,হাদিস ১৭২]

★এ সফরে নবীজি দেখলেন, একদল লোকের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলেন,এরা কারা?

জিবরাঈল বললেন,এরা বক্তৃতা করত বটে,কিন্তু নিজেরা আমল করত না।
👉দেখুন:
[মুসনাদে,আহমাদহাদিস,১২২১১,১২৮৫৬]

মিরাজ থেকে ফিরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতীমে বসা। মুশরিকরা ইসরা ও মেরাজের ঘটনা শুনে উপহাস ও কটাক্ষ করতে লাগল। বিভিন্নভাবে নবীজীর দিকে প্রশ্নের তীর ছুড়তে লাগল। তারা চাইল, বাইতুল মুকাদ্দাসের পূর্ণ বিবরণ শুনবে। নবীজী এমন প্রশ্নে খুবই বিব্রত হয়ে ওঠেন। এত রাতে কি বাইতুল মুকাদ্দাসকে ওরকম নিখঁুতভাবে দেখতে গিয়েছেন নাকি! নবীজী বলেন, এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমি আগে পড়িনি। আল্লাহ তাআলা প্রিয় বন্ধুকে সাহায্য করলেন। নবীজীর চোখের সামনে মেলে ধরলেন বাইতুল মুকাদ্দাসের দৃশ্য। নবীজী দেখে দেখে তাদের প্রত্যেকটি জিজ্ঞাসার বিস্তারিত জবাব দিলেন।
👉দেখুন: [সহীহ বুখারী,হাদিস ৩৮৮৬,সহীহ মুসলিম,হাদিস ১৭২]

★★★পরিশেষে বলবো… ইসরা ও মিরাজের ঘটনা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, নবীজির রিসালাতের অনেক বড় মুজিযা আর উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একটি বড় নিআমত। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলা যেমন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান আরো বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি তাঁর উচ্চ মর্যদা সম্পর্কে অবগত করেছেন সৃষ্টিজগৎকে। এই ঘটনা যেভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ও সীরাতের সাথে সম্পর্কিত, সেভাবে তা ইসলামী আক্বীদা ও বিশ্বাসেরও অংশ। এই ঘটনায় একদিকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও নির্দেশনা, অন্যদিকে সেখানে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য ইলাহী হিকমত ও রহস্য। কিন্তু নবীজীর স্বশরীরে ইসরা ও মিরাজের বাস্তবতার উপর ঈমান আনার পর মুমিনের জন্য যে প্রয়োজনটি সর্বাগ্রে অনুভূত হয় তা হল কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদিসের আলোকে ইসরা ও মিরাজের পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ইলম হাসিল করা। এই প্রয়োজনটি আরো প্রকটভাবে দেখা দেয় যখন অনির্ভরযোগ্য কিছু পুস্তিকা ও চটি বই, দায়িত্বহীন অনেক বক্তা ও তাদের দায়িত্বজ্ঞানশূণ্য কতক লেকচারের কল্যাণে অনেক মানুষকে ইসরা ও মিরাজের সঠিক ইলম থেকেও দুঃখজনকভাবে বঞ্চিত হতে দেখা যায়। ফলে তাদের মন ও মননে দিনদিন ভিত্তিহীন কিছু বর্ণনাই গ্রথিত হয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মিরাজের তত্ত্ব ও রহস্য,শিক্ষা ও নির্দেশনা এবং মিরাজ নিয়ে জনমনে পোষণ করা কিছু ভুল ধারণার সংশোধন বিষয় নিয়ে,দলীল
নির্ভর,আলোকপাতধর্মী একটি আলোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। আশা করি ভালো লাগবে,আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের কে সঠিক আকিদা ও বিশ্বাস ও আমল করার তাওফীক দান করেন আমিন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট