হাদিউল ইসলাম
আরবি তাওফিক শব্দের অর্থ সুযোগ দান বা আনুকূল্য তৈরি। ইসলামী পরিভাষায় তাওফিক বলতে বোঝায়, আল্লাহ কর্তৃক কাউকে কোনো ভালো কাজের সুযোগ প্রদান করা।
কেউ যদি ঘরে বাইরের আলো-বাতাস পেতে চায়, তবে তাকে ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখতে হয়। বাইরের পরিবেশ যতই মনোরম ও আলোকিত হোক না কেন, দরজা-জানালা বন্ধ থাকলে ঘরের ভেতর আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারবে না।
অনুরূপভাবে জীবনজুড়ে তাওফিক অর্জন করতে হলে তাওফিকের দরজা সব সময় খোলা রাখতে হবে। শাকিক ইবনে ইবরাহিম (রহ.) বলেন, ছয়টি কারণে সৃষ্টিকূলের ওপর থেকে তাওফিকের দরজা বন্ধ রাখা হয় : (১) শুকরিয়া আদায় না করে আল্লাহর নিয়ামতরাজিতে বুঁদ হয়ে থাকা, (২) শুধু ইলমচর্চায় নিবিষ্ট থাকা। কিন্তু (সেই ইলম অনুযায়ী) আমল না করা, (৩) গুনাহের দিকে ধাবিত হওয়া এবং তাওবা করতে বিলম্ব করা, (৪) নেককার লোকের সঙ্গ দ্বারা প্রতারিত হওয়া এবং তাদের কর্মের অনুকরণে অবহেলা করা, (৫) দুনিয়া তাদের থেকে প্রস্থান করা সত্ত্বেও এর দিকে অনুগামী হওয়া এবং (৬) আখিরাত তাদের সম্মুখে আসা সত্ত্বেও এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
(ইবনুল কাইয়িম, আল-ফাওয়ায়েদ: ১/২৫৮)
আমাদের জীবনে সব দুর্গতি ও তাওফিকহীনতার কারণগুলো মোটা দাগে এই ছয়টির মধ্যেই আছে।
আবুল লাইস সামারকান্দী (রহ.) বলেন, ‘যাকে হিংসা করা হয় তার কাছে হিংসা পৌঁছার আগেই হিংসাকারী পাঁচটি শাস্তি পায় : (১) অন্তহীন টেনশন, (২) প্রতিদানবিহীন বালা-মুসিবত, (৩) প্রশংসাহীন নিন্দা-ভর্ত্সনা, (৪) প্রতিপালকের অসন্তুষ্টি এবং (৬) তার থেকে তাওফিকের দরজা বন্ধকরণ।’ (মাওসুআতুল আখলাক : ২/২২১)
এ ছাড়া তাওফিকের দরজা বন্ধ হওয়ার আরো কিছু কারণ আছে। যেমন—আল্লাহর ইবাদত ও জিকির থেকে গাফেল থাকা, রিয়া বা লৌকিকতা, প্রবৃত্তিপরায়ণতা, পাপাচার, অহংকার, অলসতা ইত্যাদি। শামসুদ্দীন সাফফারিনি (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহবিমুখ হয়, সে তাওফিক থেকে বঞ্চিত হয়।
’ (সাফ্ফারিনি, গিজাউল আলবাব : ২/৫৬০)