মিজানুর রহমান বাবুল সম্পাদক সংবাদ এই সময়।
ক্যানসার এক জটিল ও দুরারোগ্য রোগ। এ রোগের চিকিৎসাও ব্যয়বহুল। বেসরকারি খাতে এর চিকিৎসা এত ব্যয়বহুল যে, নিুআয়ের রোগীর চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব। ফলে তাদের চিকিৎসা হতে হয় সরকারি হাসপাতালে। এটাই যখন বাস্তবতা, তখন সরকারি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সেবাদান ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও দুপুর ১২টার পর রোগী ভর্তি করা হয় না, এমনকি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও। ফলে অপেক্ষমাণ রোগীদের দুর্দশার চিত্র হৃদয় স্পর্শ করে যায়। বিশেষত, গ্রামাঞ্চল থেকে যেসব রোগী আসেন, তাদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। তাদের বেশির ভাগকে হাসপাতালের আঙিনায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে হয়। ভাবা যায়, এই প্রচণ্ড শীতের রাতেও খোলা জায়গায় তাদের কাটাতে হয় রাত! রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনদেরও হয় একই অবস্থা। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
অপেক্ষমাণদের জন্য অস্থায়ী আবাসন তৈরির একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই উদ্যোগ কাজে আসেনি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এই হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে তিনি একই আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এক মাস অতিক্রম হলেও আবাসন নির্মাণের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ও তাদের স্বজনদের যাপন করতে হয় মানবেতর জীবন। অপেক্ষার জন্য আবাসন তো নেই-ই, এই হাসপাতালে গোসল ও প্রাকৃতিক কর্মের জন্যও নেই মানসম্মত টয়লেট ও গোসলখানা। যুগান্তরের কাছে এক রোগী এমনও আক্ষেপ করেছেন যে, তিনি ১২ দিন পর গোসল করতে পেরেছেন। এটাই যখন অবস্থা, তখন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে নতুন সাজে দেখতে চাই আমরা।
প্রথমত, অপেক্ষমাণ রোগীদের যাতে কোনো ধরনের কষ্ট পোহাতে না হয়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে আবাসন নির্মাণ করতে হবে। গোসল, প্রাকৃতিক কর্মসহ নানা প্রাত্যহিক কাজে তাদের যেন অসুবিধায় পড়তে না হয়, সে ব্যবস্থাও করা দরকার। একটি জটিল রোগে আক্রান্তদের প্রতি এতটুকু সহানুভূতি দেখাতেই হবে। উপরন্তু একটি সরকারি হাসপাতালের সেবাদান ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে তা দরিদ্র রোগীদের জন্য বড় এক দুঃসংবাদ।