মো: আলাউদ্দিন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।
হিমালয়ে শীতে তুষারপাত হ্রাস পাওয়ায় পাহাড়গুলো খালি এবং পাথুরে হয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হিমালয়ে শীতকালে তুষারপাত অনেকাংশে কমে গেছে। যেখানে এই ঋতুতে পাহাড়গুলো বরফে ঢাকা থাকা উচিত, সেখানে এখন অনেক অংশ খালি এবং পাথুরে দেখা যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৯৮০ থেকে ২০২০ সালের গড় তুষারপাতের তুলনায়, গত পাঁচ বছরে শীতকালীন তুষারপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
যে তুষারপাত হয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে তা দ্রুত গলে যাচ্ছে। কিছু নিম্নাঞ্চলে তুষার কমে বৃষ্টিপাত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিবেদন এবং আন্তসরকারি প্যানেলগুলোর তথ্য অনুযায়ী এর অন্যতম কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন।
তুষারপাত কম হওয়া উদ্বেগের কারণ। হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় ভারতের হিমালয় রাজ্য এবং আশপাশের দেশগুলোর জন্য পানিসংকট তৈরি হচ্ছে। শীতকালে কম তুষারপাত নদী, ঝর্ণা ও জলবিদ্যুৎ সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। বসন্তকালে গলিত তুষার নদীতে প্রবাহিত হয়, যা পানীয় জল, সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ। তুষার ও বরফের হ্রাস পাহাড়ের স্থায়িত্বেও প্রভাব ফেলছে। তুষার পাহাড়ের জন্য সিমেন্টের কাজ করে। হিমবাহ ক্ষয় ও তুষার কমে গেলে শিলা পতন, ভূমিধস এবং হিমবাহ হ্রদের বিস্ফোরণ বাড়ে। একই সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বেড়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে উত্তর ভারতে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত প্রায় শূন্য। উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তুষারপাত ও বৃষ্টিপাত ৮৬ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এলপিএ (লং পিরিয়ড এভারেজ) অনুযায়ী, ৩০-৫০ বছরের গড় ব্যবহার করে ঋতু স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালে উত্তর ভারতে গড় বৃষ্টিপাত ছিল ১৮৪ দশমিক ৩ মিমি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীতকালীন বৃষ্টিপাত হ্রাস একবারের ঘটনা নয়। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ কিরান হান্ট বলেন, ‘হিমালয়ের শীতকালীন বৃষ্টিপাত প্রকৃতপক্ষে হ্রাস পাচ্ছে’।
আইআইটি জম্মুর গবেষক হেমন্ত সিং জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ে তুষারপাত ১৯৮০-২০২০ সালের গড়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমেছে। নেপালে অক্টোবর থেকে শীতকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত প্রায় বন্ধ ছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই হ্রাস শুধু তুষারের পরিমাণ নয়, বরং নদীর জল সরবরাহকেও প্রভাবিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমবাহ ও তুষারক্ষেত্র দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং শীতকালীন তুষারপাত কমছে। এই সংমিশ্রণ দীর্ঘমেয়াদে হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ, নদী, বনে আগুনের ঝুঁকি ও মানুষের জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।