অনলাইন ডেস্ক
প্রতীকী ছবি
ভিনগ্রহী প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগ কীভাবে সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন একেবারেই অপ্রত্যাশিত একটি প্রাণির মধ্যে। সেই প্রাণিটি হলো মৌমাছি। ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত এই ছোট পতঙ্গগুলির মস্তিষ্ক যে অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী, তা উঠে এসেছে টানা আট বছর ধরে চলা এক গবেষণায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, মৌমাছিরা সাধারণ যোগ ও বিয়োগ করতে পারে।
এমনকি তারা জোড় ও বিজোড় সংখ্যার পার্থক্যও বুঝতে সক্ষম। এই আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন প্রশ্ন উঠে এসেছে- এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তি কি হতে পারে গণিত? ‘দ্য কনভারসেশন’ এ প্রকাশিত এক লেখায় গবেষকরা যুক্তি দেন, মানুষ ও মৌমাছি উভয়ই যদি অঙ্ক বুঝতে পারে, তবে গণিতকে হয়তো একটি সার্বজনীন ভাষা হিসেবে ধরা যেতে পারে। তাদের ভাষায়- যদি দুই প্রজাতিকে একে অপরের কাছে এলিয়েন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে গণিতই হতে পারে যোগাযোগের সবচেয়ে মৌলিক মাধ্যম।
এই ধারণাটি ‘লিওনার্দো’ জার্নালে প্রকাশিত একটি পরীক্ষার অংশ।
গবেষকরা জানান, মৌমাছি ও মানুষের পূর্বপুরুষরা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি আগে আলাদা হয়ে গেলেও উভয়ের মধ্যেই যোগাযোগ, সামাজিক আচরণ এবং কিছু গাণিতিক সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা দেখা যায়। এর থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, গণিত কেবল মানবসভ্যতা বা মহাবিশ্বের রহস্য বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
গবেষকদের মতে, যদি পৃথিবীর বাইরে কোনও উন্নত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রাণীর অস্তিত্ব থাকে, তবে তাদের মধ্যেও গণিত বোঝার ক্ষমতা থাকা অস্বাভাবিক নয়। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলা এই গবেষণায় মৌমাছিদের মিষ্টি জলের প্রলোভন দেখিয়ে স্বেচ্ছায় বিভিন্ন গাণিতিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়- মৌমাছিরা যোগ-বিয়োগ, জোড়-বিজোড় সংখ্যা চেনা, ‘শূন্য’ এর ধারণা বোঝা এবং বিভিন্ন বস্তুর পরিমাণ অনুযায়ী সাজানোর ক্ষমতা রাখে। এমনকি তারা প্রতীকের সঙ্গে সংখ্যার সম্পর্কও স্থাপন করতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- বহির্জাগতিক প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গণিত ব্যবহার এই প্রথম নয়। আগেও এই ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে। ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২ মহাকাশযানে থাকা ‘গোল্ডেন রেকর্ড’-এ গাণিতিক তথ্য খোদাই করা রয়েছে, যাতে ভিনগ্রহী প্রাণীরা সেগুলি বুঝতে পারে।
একইভাবে, ১৯৭৪ সালে পাঠানো আরেসিবো রেডিও বার্তায় ১,৬৭৯টি শূন্য ও এক ব্যবহার করে এক থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যা এবং ডিএনএ গঠনকারী মৌলগুলির পারমাণবিক সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য পাঠানো হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের আশা, মৌমাছির মস্তিষ্ক নিয়ে এই গবেষণা ভবিষ্যতে ভিনগ্রহী প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্য সূত্র : সায়েন্সএলার্ট।