নিজস্ব প্রতিবেদক
‘সবজির বসন্তে’ বাজারে স্বস্তি, ঝাঁজ কমেছে পেঁয়াজের। ছবি: ঢাকা মেইল
টানা কয়েক সপ্তাহ যাবৎ নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির দেখা মিলেছে। খুচরা বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে পেঁয়াজের দাম ও ঝাঁজ—যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি স্বস্তির খবর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আলু মান ও প্রকারভেদে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ৯৮ টাকায়, যা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসা এবং বাজার সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে।
আরও পড়ুন: ৬ দফা বৃদ্ধির পর কমল স্বর্ণের দাম
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার, রায়েরবাগ এলাকার কাঁচাবাজার গুলোতে প্রতি কেজি শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে লাউয়ের দাম ৭০ থেকে ১০০ টাকা। কাঁচামরিচের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও তা ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যেই রয়েছে। এছাড়া বেগুন কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং লেবু হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজারেও স্বস্তি দেখা গেছে। লাউশাক আঁটি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লাল শাক, বুতুয়া শাক ও পালং শাক ১০ থেকে ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী আড়তে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাইদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস বাজারে এলেই চাপ অনুভব করতাম। এখন বেশির ভাগ সবজি ৫০–৬০ টাকার মধ্যে থাকায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। পেঁয়াজের ঝাঁজও আগের চেয়ে কম, রান্নায় সুবিধা হচ্ছে।’
গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘সবজির দাম একেবারে কম না হলেও সহনীয় পর্যায়ে আছে। যদি এভাবে থাকে, তাহলে মাসের বাজার খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।’
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এখন শীতের মৌসুম, সবজির বসন্তকাল। বেশির ভাগ সবজি এ শীতেই উৎপাদন হয়। ফলে সরবরাহ বাড়ায় বাজারে এই স্থিতিশীলতা এসেছে। শ্যামবাজারে এক সবজি বিক্রেতা জানান, এখন দেশি সবজির সরবরাহ ভালো। ট্রাক ঠিকমতো আসছে, তাই দাম বেশি বাড়াতে হচ্ছে না। পেঁয়াজও ভালো মানের আসছে, ঝাঁজ কম।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠপর্যায়ে উৎপাদন বেড়েছে। এক পাইকার জানান, শীতকালীন সবজির মৌসুম হওয়ায় এখনও সরবরাহ ভালো আছে। পাশাপাশি আমদানিও থাকায় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নরসিংদী ও যশোর অঞ্চলের উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়ছে। যদি মধ্যস্বত্বভোগীদের চাপ কম থাকে, তাহলে কৃষক ও ভোক্তা-দু’পক্ষই লাভবান হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি না হলে এই স্বস্তি আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। তারা বলছেন, পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা ও বাজার তদারকি জোরদার করলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব।
আবহাওয়া ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সামনে কয়েক সপ্তাহ সবজির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাবে না। তবে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা ওঠানামা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।