1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
উদারতাই প্রকৃত বড়ত্ব - সংবাদ এইসময়
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

উদারতাই প্রকৃত বড়ত্ব

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

ধর্ম ডেস্ক

উদারতাই প্রকৃত বড়ত্ব
ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এখানে মানবিক গুণাবলি অর্জনকে ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো উদারতা বা মহানুভবতা। ইসলামে একে ‘সাখাওয়াত’ বা ‘জুদ’ বলা হয়। সংকীর্ণতা ঝেড়ে মনের দুয়ার খুলে দেওয়া এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া হলো প্রকৃত উদারতা।

উদারতার নামে ধর্মীয় বিশ্বাস বিসর্জন দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং ইসলাম শেখায়, ঈমান ও আমলের ওপর অটল থেকেও কীভাবে মানুষ ও সৃষ্টির প্রতি উদার হওয়া যায়। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে উদারতার গুরুত্ব, প্রকারভেদ ও সঠিক সীমারেখা নিচে তুলে ধরা হলো।

উদারতার প্রকৃত অর্থ
সাধারণত অর্থ-সম্পদ দান করাকে উদারতা মনে করা হয়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে উদারতার পরিসর অনেক বিস্তৃত। কারো ভুল ক্ষমা করে দেওয়া, বিপদে এগিয়ে আসা, হাসিমুখে কথা বলা, এমনকি নিজের হক ছেড়ে দেওয়া সবই উদারতার অন্তর্ভুক্ত।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘তোমার ভাইয়ের সাক্ষাতে মুচকি হাসাও একটি সদকা (দান)।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৫৬)

উদারতার সীমা ও সঠিক দিকনির্দেশনা
উদারতা মুমিনের মহৎ গুণ, তবে এর অর্থ বিশ্বাস বা ঈমান বিসর্জন দেওয়া নয়। ইসলাম ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রকৃত উদারতা শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাসে অবিচল, তারপর কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি।’ (সুরা হুজরাত: ১৫)

প্রকৃত উদারতা হলো- অন্য ধর্মের মানুষের ওপর জুলুম না করা, তাদের প্রাপ্য অধিকার দেওয়া এবং বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো। নবীজি (স.) মদিনা সনদের মাধ্যমে অমুসলিমদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উদারতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। দ্বীন ও ঈমানের ক্ষেত্রে মুমিন আপসহীন হলেও আচরণের ক্ষেত্রে হবে বিনয়ী ও উদার।

আল্লাহর গুণবাচক নাম ও উদারতা
আল্লাহর অন্যতম গুণবাচক নাম হলো ‘আল-কারিম’ (মহা দয়ালু/উদার) এবং ‘আল-ওয়াহহাব’ (মহাদাতা)। মুমিন বান্দা যখন উদারতার গুণ অর্জন করে, তখন সে মূলত আল্লাহর গুণেরই অনুসরণ করে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন- ‘তোমরা অনুগ্রহ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: ১৯৫)

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর উদারতার দৃষ্টান্ত
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ উদার ও দানশীল। আনাস (রা.) বলেন- ‘নবী (স.) মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর, সর্বাপেক্ষা দানশীল এবং লোকেদের মধ্যে সর্বাধিক সাহসী ছিলেন।’ (সহিহ বুখারি: ৬০৩৩)

তিনি অমুসলিমদের প্রতিও ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। অসুস্থ ইহুদি খাদেমকে দেখতে যাওয়া এবং তার প্রতি সদয় আচরণ ইসলামের সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটায়। (সহিহ বুখারি: ৫৬৫৭)

ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন- ‘সহজ করো, কঠিন কোরো না; সুসংবাদ জানিয়ে আহ্বান করো, ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিয়ো না।’ (সহিহ বুখারি)

প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করা: উদারতার সর্বোচ্চ স্তর
ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করা হলো উদারতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘মন্দের জবাব উৎকৃষ্ট পন্থায় দিন। ফলে আপনার ও যার মধ্যে শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো।’ (সুরা হা-মিম সাজদাহ: ৩৪)

মুমিনরা ব্যক্তিগত আক্রোশ বা অপমানের জবাবে বিনয়ী হয়ে আচরণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘যখন অজ্ঞ-মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে তখন তারা বলে, সালাম (শান্তি)।’ (সুরা ফুরকান: ৬৩)

উদারতার ফলে জান্নাত ও প্রশান্তি
উদারতা মুমিনকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নেয় এবং কৃপণতা জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী এবং মানুষেরও নিকটবর্তী; কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ, জান্নাত ও মানুষের থেকেও দূরে, তবে জাহান্নামের নিকটবর্তী।’ (সুনানে তিরমিজি: ১৯৬১)

সামাজিক সম্প্রীতি ও অমুসলিমদের অধিকার
ইসলামের উদারতা শুধুমাত্র মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অমুসলিমদের অধিকার রক্ষায়ও তা কার্যকর। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি… তাদের সঙ্গে মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না।’ (সুরা মুমতাহিনা: ৮)

রাসুলুল্লাহ (স.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন- ‘যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিককে (চুক্তিবদ্ধ) হত্যা করল, সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৩১৬৬)

উদারতা কেবল পরকালের মুক্তির উপায় নয়, বরং দুনিয়ার মানসিক প্রশান্তির উৎস। সংকীর্ণমনা মানুষ দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতায় ভোগে; উদার মনের মানুষ শান্তি ও প্রশান্তিতে থাকে। আমাদের উচিত ঈমান ও আমলের ওপর অটল থেকে সৃষ্টির সেবায় উদারতার চর্চা করা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট