ধর্ম ডেস্ক
উত্তর আমেরিকায় ১৮ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু, ২০ মার্চ ঈদুল ফিতর
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ উত্তর আমেরিকায় ২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস শুরু ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে ‘ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা’ (এফসিএনএ)।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) প্রথম রোজা এবং ২০ মার্চ (শুক্রবার) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
ফিকহ কাউন্সিল জানিয়েছে, হিজরি চন্দ্রমাস নির্ধারণে তারা বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনাকে শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করে। রমজান ও শাওয়ালসহ গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলোর তারিখ নির্ধারণে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে ‘ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফাতওয়া অ্যান্ড রিসার্চ’-এর নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে আসছে।
এই বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুযায়ী, পৃথিবীর কোথাও সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ও সূর্যের কৌণিক দূরত্ব কমপক্ষে ৮ ডিগ্রি হতে হবে এবং চাঁদকে দিগন্তের ওপরে অন্তত ৫ ডিগ্রি উচ্চতায় থাকতে হবে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয় এবং এর পরদিন থেকেই নতুন মাস শুরু হয়।
এফসিএনএ-এর ঘোষণা অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজানের নতুন চাঁদ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সূর্যাস্তের আগেই জন্ম নেবে। সেই রাতে চাঁদের অবস্থান নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করায় ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) থেকে রোজা শুরু হবে। সে হিসেবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই মুসল্লিরা তারাবির নামাজ শুরু করবেন।
অন্যদিকে, শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ জন্ম নেবে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায়। ওই সময় চাঁদের কৌণিক দূরত্ব ও দিগন্তের ওপরে অবস্থান- উভয় শর্তই পূরণ হবে। ফলে ২০ মার্চ (শুক্রবার) উত্তর আমেরিকায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
তবে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফিকহ কাউন্সিল বরাবরের মতোই সৌদি আরবের মক্কায় হজ কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হাজিদের আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের (আরাফাতের দিন) পরদিনই ঈদুল আজহা পালিত হবে।
উত্তর আমেরিকা ও কানাডার মুসলিমদের ধর্মীয় দিকনির্দেশনা এবং ফতোয়া প্রদানের প্রধান সংস্থা হিসেবে কাজ করছে ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাধীন ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি ইসলামিক নীতিমালার আলোকে মুসলিমদের বিভিন্ন ধর্মীয় সমস্যার সমাধান, বিবাদ মীমাংসা এবং চন্দ্রমাস ক্যালেন্ডার তৈরির কাজ করে থাকে।