জিহাদুল ইসলাম জিহাদ।
স্বল্প জমিতে অধিক লাভে কৃষক রফিকুল ইসলামের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ খানসামার কৃষকরা
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামে উচ্চমূল্যের বিদেশি সবজি স্কোয়াশ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। মাত্র ২০ শতক জমিতে ‘এক্স এল সুপার’ জাতের স্কোয়াশ চাষ করে তিনি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। স্বল্প খরচে অল্প সময়ের মধ্যেই অধিক মুনাফা পাওয়ায় তার এই সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের সফল প্রদর্শনী
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় দিনাজপুর অঞ্চলের ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রদর্শনী প্লট হিসেবে রফিকুল ইসলাম এই স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় রোপণের অল্প দিনের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে।
বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে তার ক্ষেত থেকে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ পিস স্কোয়াশ সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এসব স্কোয়াশ বিক্রি করে প্রতি সপ্তাহে তার আয় হচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, যা এলাকার অন্যান্য ফসলের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
খরচ কম, লাভ বেশি
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ করে স্কোয়াশ চাষ শুরু করি। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছি। গাছে এখনও প্রচুর ফল রয়েছে। আশা আশা করছি, বাকি সময় আরও বড় অংকের লাভ হবে।”
তিনি আরও জানান, নিয়মিত সেচ, সঠিক সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার কারণে ফলন তার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি হয়েছে।
কৃষি বিভাগের প্রশংসা
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ. ম. জাহেদুল ইসলাম জাহিদ জানান,
“‘এক্স এল সুপার’ জাতটি অত্যন্ত ফলনশীল ও রোগ সহনশীল। সঠিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা করায় রফিকুল ইসলাম এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন।”
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসিন আক্তার বলেন,
“টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা। স্কোয়াশের মতো উচ্চমূল্যের ফসল অল্প জমিতে চাষ করে বেশি উৎপাদন সম্ভব। রফিকুল ইসলামের সাফল্য পুরো অঞ্চলের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। আমরা চাই এই আধুনিক চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে দিতে।”
শিক্ষণ ক্ষেত হিসেবে পরিচিতি,
এদিকে, সবুজ লতায় মোড়ানো রফিকুল ইসলামের স্কোয়াশ ক্ষেতটি এখন এলাকাবাসীর কাছে একটি ‘শিক্ষণ ক্ষেত’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ কৃষক ও আগ্রহীরা আসছেন স্কোয়াশ চাষের আধুনিক পদ্ধতি সরাসরি দেখতে ও শিখতে।
বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র,
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উচ্চমূল্যের বিদেশি সবজি চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।