জিহাদুল ইসলাম জিহাদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে অবস্থিত শ্রীশ্রী পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মন্দির থেকে ১৪টি প্রতিমা, দুটি দানবাক্সসহ পূজার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন, থানা-পুলিশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম মো. আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে তিনটার দিকে পাঁচটি কক্ষের তালা ভেঙে চোরেরা মন্দিরে প্রবেশ করে। রাত চারটার দিকে মন্দিরের পূজারি আদি শিষ্য মঙ্গল আরতি করতে উঠে কক্ষগুলোর তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি মন্দিরের সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাসকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরি হওয়া ১৪টি প্রতিমার মধ্যে ছয়টি পিতলের ও আটটি পাথরের। এ ছাড়া রুপার একটি পাদুকা, বাঁশি, কাঁসার বাসন ও কলস, হারমোনিয়াম, বালতি, পিতলের আসন ও গ্লাস, দুটি দানবাক্সের নগদ টাকা এবং এক পূজারির ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে।
মন্দিরের পূজারি লিপি রানী গোপ বলেন, “আমাদের অপরাধ কী? বারবার আমাদের ওপর কেন এমন অত্যাচার হচ্ছে? নিজেদের আর নিরাপদ মনে করছি না।”
অপর পূজারি শিল্পা রানী মালাকার বলেন, “আমি গতকাল মাধবপুরে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার কক্ষের তালা ভেঙে ২০ হাজার টাকা ও হাতের, গলার ও কানের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। আমি একা থাকি, প্রভুর সেবাই আমার জীবন।”
মন্দিরের সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাস বলেন, “প্রতিমা, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এমনকি বিশুদ্ধ পানির মোটরও নিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনায় চরম উদ্বিগ্ন।”
ইউএনও শাহীনা নাছরিন জানান, মন্দির এলাকায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সচল ছিল মাত্র একটি। ওই ক্যামেরায় একজন চোরকে দেখা গেছে, তবে গায়ে কম্বল বা কাপড় মোড়ানো থাকায় তাকে শনাক্ত করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দানবাক্সের টাকাই ছিল চোরের মূল লক্ষ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফ বলেন, “চুরি হওয়া ছয়টি প্রতিমা পিতলের এবং আটটি পাথরের। গ্রিল কেটে গায়ে চাদর মোড়ানো অবস্থায় চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে এসব চুরি করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একাধিক পুলিশ টিম বিষয়টি তদন্ত করছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।