মোঃ আশরাফুল ইসলাম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।
আমাকে ভোট দিন, বিজয়ী হলে সবার বিয়ের ব্যবস্থা করব
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের নির্বাচনি মাঠে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মণি। বড় বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ভোটারদের কাছে ‘বিয়ের উপহার’ হিসেবে একটি করে ভোট চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায় গণসংযোগকালে এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিচিত্র আবদার করেন। মুহূর্তেই তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
নির্বাচনী মাঠে তরুণ ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন আশা মণি। অনেক তরুণ ভোটার তাঁকে ঘিরে ধরলে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, “অনেক তরুণ ভাই আমাকে বলছেন—আপা, আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে আমার কথা—আমাকে একটা করে ভোট দিন, আমি বিজয়ী হলে আপনাদের বিয়ের ব্যবস্থা সহজ করে দেব। তরুণ থেকে শুরু করে দাদা-দাদি, নানা-নানি ও চাচা-চাচি—সবার কাছে আমার একটাই আবদার, বিয়ের উপহার হিসেবে এবার আমাকে একটি করে ভোট দিন।”
আশা মণির এমন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে হাস্যরসের জোয়ার। জয়দেব দেবনাথ নামের এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “কেউ দিতে চাচ্ছে বেহেশত, কেউ ফ্যামিলি কার্ড, আর আশা মণি আপা দিতে চাচ্ছেন বউ অথবা স্বামী!”
উল্লেখ্য, আশা মণি এর আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে সেবার নির্বাচনি লড়াইয়ে মাত্র কয়েকটি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। ভোটের সমীকরণ যাই হোক, স্থানীয় সমাজকর্মী আম্বিয়া খাতুন মনে করেন, ভোট যাই পান না কেন, নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আশা মণি একজন সাহসী পথযাত্রী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আশা মণিসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরো জেলায় তিনটি সংসদীয় আসনে নারী প্রার্থী মাত্র দুজন। তাঁদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জাতীয় পার্টির নূরুন্নাহার বেগম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে লড়ছেন এই আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মণি।