উমংনু মারমা
খামতাং খিয়াং পাড়া,
রোয়াংছড়ি, বান্দরবান
পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা সবুজ প্রকৃতি, তার মাঝেই বাঁশের মাচায় সাজানো রোদে শুকানো ফসল—এ যেন আধুনিকতার বাইরে থাকা এক চিরচেনা পাহাড়ি জীবনচিত্র। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার খামতাং খিয়াং পাড়ায় এখনো টিকে আছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ের মানুষের পরিশ্রমে ফলানো ধান, ভুট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল বাঁশের তৈরি উঁচু মাচায় রোদে শুকানো হচ্ছে। প্রাকৃতিক সূর্যালোক আর পাহাড়ি বাতাসেই ফসল সংরক্ষণের এই পদ্ধতি যুগ যুগ ধরে অনুসরণ করে আসছেন এখানকার কৃষিজীবীরা।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্র বা আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই তাদের কৃষিকাজ। বাঁশের মাচা শুধু ফসল শুকানোর জন্য নয়, এটি পাহাড়ি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এতে যেমন ফসল নিরাপদ থাকে, তেমনি বজায় থাকে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ।
খামতাং খিয়াং পাড়ার এক কৃষক বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেভাবে চাষ করতেন, আমরা আজও সেই পথেই হাঁটছি। পাহাড়, রোদ আর বাতাস—এই তিনটাই আমাদের ভরসা।”
তবে আধুনিকতার ছোঁয়া পাহাড়েও ধীরে ধীরে পৌঁছালেও, ঐতিহ্যবাহী এই কৃষিপদ্ধতি আজ সংকটের মুখে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ায় কমে যাচ্ছে অভিজ্ঞ কৃষকের সংখ্যা। তবুও যারা থেকে গেছেন, তারা চেষ্টা করছেন পাহাড়ের চিরাচরিত জীবনধারা ও সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে রাখতে।
বাঁশের মাচায় রোদে শুকানো ফসল শুধু কৃষিকাজের একটি ধাপ নয়, এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়ের প্রতীক। আধুনিকতার ভিড়েও পাহাড়ের এই নীরব ঐতিহ্য যেন বলে দেয়—প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করেই টিকে থাকা সম্ভব।