1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
রাষ্ট্র বাঁচাতে ঐক্যের আহ্বান - সংবাদ এইসময়
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন

রাষ্ট্র বাঁচাতে ঐক্যের আহ্বান

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

মিজানুর রহমান বাবুল
সম্পাদক সংবাদ এই সময়।

জনগণের মতামতই হোক চূড়ান্ত রায়। গণতন্ত্র ফিরে আসুক কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নয়, রাজনীতির চর্চায়ও। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জনগণের মতামতই হোক চূড়ান্ত রায়। গণতন্ত্র ফিরে আসুক কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নয়, রাজনীতির চর্চায়ও। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বহুকাল পর দেশে আবার একটি প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে এসেছে, এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা, অনাস্থা ও অংশগ্রহণহীনতার যে সংকট রাজনীতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, তার ভেতর এই প্রত্যাবর্তন নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় চর্চিত হওয়া উচিত সুস্থধারার গণতন্ত্র। দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জাতির প্রত্যাশা ছিলÑ ক্ষমতা দখলের সংকীর্ণ লক্ষ্যে বস্তাপচা ইস্যু নিয়ে বিতর্কে না জড়িয়ে, বরং গণমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ রূপরেখা নিয়ে যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক তর্কে অবতীর্ণ হওয়া।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো জনআকাঙ্ক্ষার মূল স্পিরিট থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন বক্তব্যে লিপ্ত হয়েছে। তর্ক-বিতর্ক ও মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ও সুন্দর অনুষঙ্গ; এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু যখন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরাই দায়িত্বহীন বক্তব্যে জাতিকে হতাশ করেন, তখন তা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধীই নয়, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাবিরুদ্ধও বটে।

জাতি আর রাজনৈতিক তামাশা দেখতে চায় না। মানুষ চায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। তারা চায় বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির পথে অগ্রসর হতে। রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলোÑ প্রায় ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার যে বেদনাদায়ক আক্ষেপ জনগণের মনে জমে আছে, সেই সংকট থেকে জাতিকে মুক্ত করা।

আগামী বাংলাদেশের রোডম্যাপ ও নির্বাচনি ইশতেহার কেবল ক্ষমতা দখলের ঘোষণাপত্র নয়, এটি হতে হবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নৈতিক ও সার্বজনীন রাজনৈতিক দলিল। আগামীর নির্বাচনী ইশতেহার হতে হবে জুলাইবান্ধব, জনবান্ধব ও তারুণ্যনির্ভর; যেখানে রাষ্ট্র সংস্কার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অর্থনৈতিক, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকবে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে, বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াত উভয় জোটকে তাদের ইশতেহারে ভারতের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, নাকি গোলামির ভিত্তিতে; তা জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে। সেই সঙ্গে আধিপত্যবাদ ও পরাজিত ফ্যাসিবাদের বিষয়ে কোন দলের কী ভূমিকা থাকবে, তা জাতির কাছে প্রকাশ্য ও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

ভারত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণকে যে হীন দৃষ্টিতে দেখে, তার দায় অনেকাংশেই আমাদের অতীতের রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বর্তায়। ভারত আমাদের প্রতিবেশীÑ এই বাস্তবতায় অবশ্যই সুসম্পর্ক প্রয়োজন। তবে সেই সম্পর্ক আর একতরফা নয়; বাংলাদেশ যেমন দায়িত্বশীল আচরণ করবে, ভারতকেও তেমনি পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে।

দীর্ঘদিনের দলীয়করণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগÑ সবখানেই নিরপেক্ষতার জায়গা সংকুচিত হয়েছে। ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ একটি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে রাষ্ট্রকে জিম্মি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, যা অন্যায়কে উৎসাহিত করেছে এবং অপরাধকে করেছে প্রাতিষ্ঠানিক।

এই বাস্তবতার ফলেই ধীরে ধীরে একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর জন্ম হয়েছে; যেখানে ক্ষমতা জবাবদিহিহীন, প্রতিষ্ঠান দুর্বল এবং নাগরিক অধিকার অনিশ্চিত। এখানে রাষ্ট্র জনগণের সেবক নয়; বরং জনগণই রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে অসহায়।

তবে ইতিহাস বলে, এদেশের মানুষ কখনোই অন্যায়ের কাছে স্থায়ীভাবে নতি স্বীকার করেনি। সংকট যত গভীর হয়েছে, প্রতিরোধ তত শক্তিশালী হয়েছে। আজও রাষ্ট্র সংস্কারের সম্ভাবনা আছে, যদি আমরা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনি। প্রয়োজন একটি নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক চুক্তি; যেখানে গণতন্ত্র হবে কার্যকর, রাষ্ট্র হবে মানবিক এবং ক্ষমতা হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক।

যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসন্ন নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে ব্যর্থ হয়, যদি জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে না পারে এবং জনগণের মনে যে আস্থা তৈরি হয়েছে তা পূরণে অক্ষম প্রমাণিত হয়; তবে নিঃসন্দেহে এই সরকার ইতিহাসে একটি ব্যর্থ সরকার হিসেবেই চিহ্নিত হবে। তবে এই ব্যর্থতার দায় শুধু সরকারের কাঁধেই বর্তাবে না; রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতালিপ্সা, দায়িত্বহীন আচরণ ও পারস্পরিক সমঝোতার অভাবও সমানভাবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে।

মনে রাখতে হবে, জনগণ অসংখ্য তাজা প্রাণ উৎসর্গ করেছে, বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে, একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। সেই আত্মত্যাগের উত্তরাধিকার নিয়েই আজকের অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এক কথায়, এই সরকার দাঁড়িয়ে আছে শহীদদের রক্তের ভিত্তির ওপর; শপথ নিয়েছে সেই রক্তের ঋণ শোধ করার।

অতএব সেই রক্তের ঋণকে অবমূল্যায়ন করে কিংবা শোধ না করেই কেবল একটি দায়সারা নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো কৌশল, কোনো ছলচাতুরীÑ জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।

এই মুহূর্তে প্রত্যাশা একটাইÑ নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। জনগণের মতামতই হোক চূড়ান্ত রায়। গণতন্ত্র ফিরে আসুক কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নয়, রাজনীতির চর্চায়ও।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট