(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
ফাইল ছবি
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে বড়সড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার ঘুড়িদহ গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল যোগদান সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
এ সময় তার সঙ্গে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মমিতুল হক নয়নসহ প্রায় ৬ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপির পতাকাতলে আসেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে ‘বড় চমক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাঘাটায় এমন দলবদল জাতীয় পার্টির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
আতাউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাঘাটা ও গাইবান্ধার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধারে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতো একজন হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগে জাপার সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ৬নং ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যোগদান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকার। তিনি নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের তোড়া দিয়ে দলে বরণ করে নেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল এবং শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আরশাদুল কবির রাঙ্গা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিএনপির আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাঘাটায় এই দলবদলের ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর একযোগে বিএনপিতে যোগদান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।