1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
এলডিসি থেকে উত্তরণে সময় পেছানোর আবেদন, কতটা সুফল মিলবে? - সংবাদ এইসময়
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

এলডিসি থেকে উত্তরণে সময় পেছানোর আবেদন, কতটা সুফল মিলবে?

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ এই সময় ডেস্ক।

সময় পেছানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত
দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর আবেদন করেছে বিএনপি সরকার। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়কাল চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে যে যুক্তি দিয়েছে সরকার
নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানিকাঠামো এখনো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে একটি পণ্য থেকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা হবে। নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। নীতিগত ভুল বা দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করেছে।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেছেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময় বাড়াতে জাতিসংঘের সিডিপিতে আমাদের মিশনের মাধ্যমেই একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা বুধবার চিঠিটি দিয়েছি। এটা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেমন উত্তর আসবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। প্রক্রিয়াটা কীভাবে এগোয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার চিঠিতে যুক্তি দিয়েছে, সময়সীমা বাড়ানো হলে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কারগুলো সংহত করা এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) অধীন অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ পাওয়া যাবে। এলডিসি উত্তরণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতি সময়কাল একের পর এক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংকটে ‘গুরুতরভাবে ব্যাহত’ হয়েছে।

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কড়াকড়ি, বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিলম্ব, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা। আর দেশি সংকটের মধ্যে আর্থিক খাতে অনিয়ম, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় মতো বিষয়গুলোর উল্লেখ করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিগত মনোযোগ স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সংকট ব্যবস্থাপনার দিকে সরে যায়। যেমন সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, জীবিকা সুরক্ষা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক লেনদেনের চাপ সামাল দেওয়া ইত্যাদি। এর ফলে উত্তরণ-সংক্রান্ত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এসব কারণে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময়কাল পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি, এমনটাই বলেছে সরকার।

চিঠিতে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক খাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জটিলতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তির পরিবর্তন এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর নতুন মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে পণ্য রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে বাংলাদেশ অতিমাত্রায় তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যে বাণিজ্য সুবিধা হারালে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উন্নয়ন গতি দুর্বল হতে পারে, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে সরকার।

সিডিপির চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে সরকার বলেছে, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি সংস্কার, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, শিল্পকারখানার কমপ্লায়েন্স অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রগতি হলেও একের পর এক সংকটের কারণে সেগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ, ল্যান্ডলকড ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ও স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটসবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ের (ইউএনওএইচআরএলএলএস) করা স্বাধীন ‘গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট’ ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে অনুরোধ করেছে সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে শঙ্কা প্রকাশ করে চিঠিতে বলেছে, বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যা কিনা উত্তরণের টেকসই ও অপরিবর্তনীয় চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ইউএন সিডিপির বার্ষিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন (২৪-২৭ ফেব্রুয়ারি) শুরুর আগেই আবেদন জমা দিতে পরামর্শ দিয়েছিল। তার আগে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধিকে বিষয়টি উপস্থাপনের নির্দেশনাও দিয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের খুশি করার চেষ্টা?
বাংলাদেশের অর্থনীতি রফতানিনির্ভর। বর্তমানে মোট রফতানির ৮১ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। অথচ উত্তরণের পর এই খাতেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসার শঙ্কা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকবে, এরপর ধীরে ধীরে তা বন্ধ হবে। যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। ক্যানাডায় শুল্কের হার দাঁড়াতে পারে ১৮ শতাংশ। জাপানে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বছরে প্রায় ৫৩৭ কোটি ডলার রপ্তানি আয় কমতে পারে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা মনে করছেন, রুলস অব অরিজিন ও উচ্চ কমপ্লায়েন্স খরচের কারণে পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা আরও হ্রাস পাবে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এই মুহূর্তে এই আবেদন খুব বেশি কাজে আসবে বলে মনে হয় না। কারণ ২০২৪ সালেই তো সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন মনে হয় সরকার ব্যবসায়ীদের খুশি করতে এই আবেদন করেছেন। কারণ ২০১৮ সালের পর থেকে ৮ বছর চলে গেছে তবুও প্রস্তুতি নিতে পারিনি, সময় বাড়লেও কি আগামী ৫ বছরে সেটা সম্ভব হবে? তারপরও সিডিপির বৈঠক আছে ২৪ ফেব্রুয়ারি তারা যদি আবেদনটি বিবেচনায় নেয় তাহলে কিছু সময় বাড়তেও পারে। সেটা হতে হলেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে উঠতে হবে। সেখানে অধিকাংশ সদস্যদের ভোটে এটা পাশ হতে হবে। নেপাল বা লাউস যদি গ্রাজুয়েশন করতে পারে তাহলে আমরা কেন পারব না? এখানে সদিচ্ছাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশ বর্তমানে এলডিসি মর্যাদার কারণে বিশ্ববাজারে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। ট্রিপস চুক্তির আওতায় মেধাস্বত্ব আইন মানতে হয় না। এর ফলে ক্যানসার ও এইচআইভি-এইডসসহ জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সস্তায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু উত্তরণের পর এই অব্যাহতি শেষ হবে। তখন বহুজাতিক কোম্পানিকে রয়্যালটি দিতে হবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এতে একদিকে ওষুধের দাম বহুগুণ বেড়ে যাবে, অপরদিকে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল রপ্তানিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, চ্যালেঞ্জ শুধু রফতানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একাধিক অভ্যন্তরীণ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি শিল্প উৎপাদন ব্যাহত করছে। মুদ্রার অবমূল্যায়নে ২০২১ সাল থেকে টাকার মান প্রায় ৪৫ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল মাত্র ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে একই সময়ে ভিয়েতনাম পেয়েছে ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

সময় বাড়ালে সমাধান কি হবে?
ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ও হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, ‘উত্তরণ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এই প্রক্রিয়া সফল করতে আরও কিছুদিন সময় বাড়ানো প্রয়োজন। নাহলে শুল্ক আরোপ, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ হ্রাস দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করবে। আমাদের বুঝতে হবে, নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি আমরা পাচ্ছি না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের উত্তরণ হলে অনেকগুলো অনুবিধায় পড়তে হবে। সেগুলো সামাল দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই।’

বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আমরা তো আশাই করেছিলাম উত্তরণ হচ্ছে। কিন্তু কিছু পরিস্থিতি তো আমাদের হতাশ করেছে। এখন আমাদের রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাতে রপ্তানি থেকে। সেই পোশাক খাত যদি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে তাহলে আমাদের রপ্তানি তো হুমকির মধ্যে পড়বে। সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতি এখনও এলডিসি-পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত নয়। রফতানি আয় হ্রাস, ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্ব সংকট, জ্বালানি ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে।’

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে। এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে সিডিপি। তিন বছর অন্তর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয় অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণতা সূচক (ইভিআই)। ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। করোনার কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়েছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণে তিনটির মধ্যে দুটি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়, মাথাপিছু জিএনআই ১ হাজার ৩০৬ ডলার বা তার বেশি, এইচএআই ৬৬ বা তার বেশি এবং ইভিআই ৩২ বা তার নিচে। বাংলাদেশ প্রথমবার ২০১৮ সালে তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করে। ২০২১ সালেও তা ধরে রাখে। ওই সময় মাথাপিছু জিএনআই ছিল ১ হাজার ৮২৭ ডলার, এইচএআই ৭৫ দশমিক ৪ এবং ইভিআই ২৭। ২০২৪ সালে মাথাপিছু জিএনআই বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২০ ডলারে।

সময় বাড়ানোর উদাহরণ রয়েছে
এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পেছানোর আবেদন করে সফল হয়েছে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ। ২০২৩ সালে দেশটির সরকার গৃহযুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে বাড়তি সময় চেয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে আবেদন করে। তা মূল্যায়ন করে দেশটিকে তিন বছর সময় বাড়িয়ে দেয় সিডিপি।

এ ছাড়া সুনামির কারণে মালদ্বীপ এবং ভূমিকম্পের কারণে নেপালের এলডিসি উত্তরণও নির্ধারিত সময়ে হয়নি। তেলের দামের পতনে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে অ্যাঙ্গোলার। ফলে তারা সুযোগ পেয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর সিডিপি নিজেই পিছিয়ে দেয় মিয়ানমারের উত্তরণ।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘উত্তরণের মানদণ্ডের বিচারে এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সুযোগ নেই। তবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সামনে আনা যেতে পারে। বলতে হবে, আমাদের টেকসই উত্তরণে স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজিতে বেশি অগ্রগতি হয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন থেকে জাতীয় সংবাদ নির্বাচন পর্যন্ত একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেছে দেশ। ফলে উত্তরণ টেকসই করতে আরও সময় দরকার। দ্রুত সময়ের মধ্যে এলডিসি পেছানোর আবেদন করে ভালো করেছে। সিডিপি এটি মূল্যায়ন করলেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সেখানে প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট হবে। ফলে ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো বন্ধু রাষ্ট্রের নিজেদের পক্ষে রাখতে এখনই সরকারকে কাজ শুরু করতে হবে।’সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট