বিশেষ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার
সচিবালয়ের এক কর্মচারীর ছেলের অপহরণের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনার দুই ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয় সেই ছেলেকে (ডানে)।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে অপহৃত স্কুলছাত্র আফনান সাঈদকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর চামেলীবাগ ১৬ নম্বর বিল্ডিংয়ের সাততলা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। স্বস্তি ফিরে আসে অপহৃতের পরিবারে।
জানা গেছে, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আফফান সাইদ।
তার বাবা সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম। বিকাল ৩টার দিকে সাইকেল চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হয় সাঈদ। তবে কিছু সময়পরই আফফানের ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। একমাত্র ছেলের এমন খবরে মুচড়ে পড়েন বাবা শামীম।
সচিবালয়েই নিজের অফিসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিচিত অনেকের কাছে ছেলেকে উদ্ধারের সহায়তা চেয়ে বিভিন্নজনের কাছে ফোন করেন। তবে অফিস থেকে বের হতেই দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বের হচ্ছেন। প্রটোকল ভেঙেই তার কাছে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে আটকে দেয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা। দৃশ্যটি দৃষ্টিগোচর হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে শামীম আহমেদকে কাছে ডেকে নেন তিনি।
শামীমের কাছ থেকে বিষয়টি অবগত হওয়া মাত্রই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন তিনি। নড়েচড়ে বসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
দুই ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত স্কুলছাত্র আফফান সাঈদকে চামেলীবাগের একটি সাততলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন থেকে উদ্ধার করে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলমের নেৃত্বত্বাধীন টিম। স্বস্তি ফিরে আসে ভুক্তভোগী পরিবারে।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় অপহৃত আফফানের বাবা খন্দকার শামীমের। তিনি বলেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই আমার। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো আমার সন্তানকে এভাবে ফিরে পেতাম না। অপহরণকারীরা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিছু সময় পর আমার শ্যালককে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা দিতে বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে। পুলিশ কিংবা কাউকে জানালে আফফানকে মেরে ফেলা হবে বলে জানায়।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টির তদারকি করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় অপহৃত ছাত্রকে উদ্ধার করতে পারায় অনেক ভালো লাগছে।
কারা অপহরণ করেছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপহরণকারীরা ওই এলাকারই ছিনতাইকারী এবং মাদকসেবী। বিষয়টি আমরা আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। আরও কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।