নিজস্ব প্রতিবেদক
ভূমিকম্পের প্রতীকী ছবি
চলতি ফেব্রুয়ারিকে ভূমিকম্পের মাস বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ, এ মাসের গত ২৬ দিনে মোট আটবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। সর্বশেষ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে হয়ে গেল ৪ দশমিক ১ মাত্রা ভূমিকম্প।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল এবং দেশের ভেতরে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
চলতি ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ভূকম্পনটা অনুভূত হয় মাসের প্রথম দিনেই (১ ফেব্রুয়ারি)। সেদিন ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল
গত ২১ নভেম্বর হওয়া ভূমিকম্পে মানুষের মৃত্যুসহ বেশ কিছু ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ছবি- সংগৃহীত
এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যেগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। ওই দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ এবং ৫ দশমিক ২।
একই দিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ এবং ৪।
১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে আবার সিলেট অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সর্বশেষ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দেশে মোট আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এই ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সবশেষ বুধবার রাত ১০টা ৫১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে যে ভুমিকম্পটি অনুভূত হয়, সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে।
গত ২১ নভেম্বর হওয়া ভূমিকম্পে ঢাকা ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন ঠিক করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ছবি- সংগৃহীত
ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে আঘাত হানে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। যার কম্পন বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইউটিসি সময় ১৬টা ৫১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ২৩.০৩১ অক্ষাংশ ও ৯৪.৭৪৪ দ্রাঘিমাংশে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০১ কিলোমিটার।
কম্পনটির কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের মোনইয়া শহর থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইকের প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। গভীরতায় উৎপত্তি হওয়ায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে রাজধানী ঢাকায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২১ নভেম্বর দেশে বড় ধরনের একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। সেসময় ঢাকাসহ সারাদেশে ১০ জন মারা যান, আহত হন ছয় শতাধিক। পাশাপাশি অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।