সংবাদ এই সময় ডেস্ক:
অসীম নীল জলরাশির বুক চিরে এগিয়ে চলছে যুদ্ধজাহাজ। চারদিকে কেবল সমুদ্র আর আকাশের মিলনরেখা। এমনই এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে পবিত্র মাহে রমজানের ইফতার ও মাগরিবের নামাজ আদায় করলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী-এর সাহসী সদস্যরা। দায়িত্বের কঠোর শৃঙ্খলার মাঝেও ধর্মীয় অনুশাসন পালনের এই দৃশ্য যেন দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়।
সূর্য যখন ধীরে ধীরে দিগন্তে ঢলে পড়ে, তখন যুদ্ধজাহাজের ডেকে সাজানো হয় ইফতারের আয়োজন। খেজুর, পানি, ফলমূল ও হালকা খাবারে পরিপাটি টেবিল। আজানের ধ্বনি ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সবাই একসঙ্গে ইফতার করেন। মুহূর্তটি হয়ে ওঠে একাত্মতার—কর্তব্যরত অফিসার থেকে শুরু করে নবীন নাবিক—সবাই যেন এক পরিবার।
সমুদ্রের মাঝখানে দায়িত্ব পালন সহজ নয়। প্রতিনিয়ত টহল, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সার্বভৌমত্ব রক্ষা—সবকিছু সামলাতে হয় সর্বোচ্চ সতর্কতায়। তবুও রমজানের পবিত্রতা ধরে রাখতে তারা সচেষ্ট। ইফতারের পরপরই জাহাজের ডেকে জামাতে আদায় করা হয় মাগরিবের নামাজ। সমুদ্রের বুকে দাঁড়িয়ে সিজদায় নত হওয়া সেই দৃশ্য যেন সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, “দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। তবে আমরা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক চর্চাকেও সমান গুরুত্ব দিই। সমুদ্রের মাঝেও রমজানের ইবাদত আমাদের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।”
রমজান শুধু আত্মসংযমের মাস নয়, এটি সহমর্মিতা ও শৃঙ্খলারও মাস। কঠোর দায়িত্বপালনের মাঝেও নৌসদস্যদের এই আয়োজন প্রমাণ করে—দেশপ্রেম ও ঈমান একসঙ্গে চলতে পারে। তাদের এই ইফতার ও নামাজের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “দেশরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বীরদের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইল।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আধ্যাত্মিক পরিবেশ কর্মীদের মনোবল দৃঢ় করে এবং দলগত ঐক্য আরও মজবুত করে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝেও শান্তির বার্তা দেয় এই ইবাদত।
নীল জলরাশির বুকে দাঁড়িয়ে যখন নৌসদস্যরা দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করেন, তখন তা হয়ে ওঠে এক অনন্য দৃশ্য—যেখানে দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় চেতনা একসূত্রে গাঁথা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত এই সাহসী সন্তানদের জন্য জাতির পক্ষ থেকে রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।