আবদুল করিম সোহাগ
বিনোদন প্রতিবেদক
গেল শবে বরাতে পবিত্রভুমি সৌদি আরব যান অভিনেত্রী ফারিণ খান। ওমরাহ করেছেন। ঘুরেছেন। বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। মক্কা-মদিনা থেকে দেশে ফেরার পরও রেশ কাটেনি। নামাজে বসলেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে মক্কা-মদিনার বিভিন্ন জায়গা।
ওমরায় যাওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা মেইলকে ফারিণ বলেন, ‘গত ছয় মাস টানা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছি। হঠাৎ মনে হলো দেশের বাইরে কোথাও ঘুরতেও যাইনি। কোথায় যাব ভাবছিলাম। তখন মনে হলো মক্কা-মদিনা কেন না? আল্লাহর ঘর। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জায়গা। এত বড় সুযোগ মিস করব কেন। আল্লাহর ঘর দেখার সুযোগ পাব। ঘোরা হবে। সময়ও ভালো কাটবে। তখন ওমরাহর পরিকল্পনা করি।’
সৌদি ১০ দিন ছিলেন অভিনেত্রী। সময়টাতে যা করেছেন সেসব ভাগ করে নিয়ে বলেন, ‘পাঁচটা ওমরা করেছি। মদিনার প্রত্যেক মসজিদ নামাজ পড়ার চেষ্টা করছি। মক্কায় যতগুলো মসজিদে নামাজ পড়া সম্ভব— হারাম শরীফ থেকে শুরু করে আয়েশা মসজিদ (তানঈম মসজিদ)— সব জায়গায় পড়ার চেষ্টা করছি।’
পবিত্র ভূমিতে বেশ কেটেছে ফারিণের। এখনও রেশ কাটেনি। তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভালো সময় গিয়েছিলাম। কেননা সেদিন শবে বরাত ছিল। চমৎকার সব অভিজ্ঞতা হয়েছে। আসার পর বারবার মনে হচ্ছে মক্কায় যাই। শুটিং করতে মন চায় না। নামাজ পড়তে গেলে চোখে শুধু মক্কা-মদিনার বিভিন্ন জায়গা ভাসছে। চম্বুকের মতো টানছে।’
হজ বা ওমরায় যাওয়া প্রত্যেক মুসল্লি স্বপ্ন লালন করেন থাকে কাবা শরীফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত পবিত্র পাথর হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের। যদিও মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সবার প্রত্যাশা মেটে না। তবে ফারিণ সক্ষম হয়েছেন।
এ ঈদে আমাকে কেউ কিচ্ছু দেয়নি: ফারিন খান
তিনি বলেন, ‘হাজরে আসওয়াদ ছোঁয়া খুব কঠিন। এটা ছুঁতে গিয়ে অনেকের মৃত্যুও হয়। তবে আমি সৌভাগ্যবান যে মক্কা যাওয়ার তৃতীয় দিন হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করেছি। ৩০-৪০ সেকেন্ডের মতো সেখানে অবস্থান করেছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। মনে হয়েছে আমার জীবনে যদি কোনো অর্জন থাকে সেটি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন। এখনও মনে পড়লে চমকে উঠি। মনে হয়— ও মাই গড আমার হাত-ঠোঁট ওই জায়গা ছুঁতে পেরেছে, চুম্বন করতে পেরেছে!’
ছোটবেলা থেকেই কাছের মানুষ হারাতে চান না ফারিণ। ওমরায় গিয়েও মোনাজাতে তাই চেয়েছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। তিনি বলেন, ‘বাবা-মাসহ সবার জন্য দোয়া করেছি। সবার ভালো চেয়েছি। প্রার্থনা করেছি আমার কাছের মানুষজন যেন কখনও না হারায়। আমি মানুষ হারাতে পছন্দ করি না।’
এদিকে সামনে ঈদ। শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। ফারিণও কাজে নেমেছেন। এরইমধ্যে টিভিসির কাজ করেছেন। পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে লাইট-ক্যামেরার নিয়মিত জীবন।