1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
প্যাডেল রিকশায় আর চলছে না কামাল-আলমগীরদের জীবন। - সংবাদ এইসময়
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদীতে বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে হ/ত্যা: প্রধান আসামি নূরা গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার ইয়াজমিন লাক্সের উদ্বোধনী মঞ্চে বারিশা হক প্যাডেল রিকশায় আর চলছে না কামাল-আলমগীরদের জীবন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শেরপুর জেলা পুলিশ কর্তৃক মাননীয় বিচারপতি জনাব নাসরিন আক্তার মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন জোটের রাজনীতিতে ভোটের হিসাব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল আংকেল আপনি রোজা রাখেন, প্রধানমন্ত্রীকে শিশুর প্রশ্ন হাসপাতালের লিফটে তোলা হচ্ছে স্কুটার, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি খাদে আহত ৮ পুলিশের কর্মকর্তা

প্যাডেল রিকশায় আর চলছে না কামাল-আলমগীরদের জীবন।

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ এই সময় ডেস্ক।

প্রযুক্তির হাওয়ায় বদলে গেছে সময়, সমাজ আর মানুষের চিন্তাধারা। সহজ হয়েছে সবকিছু। আগে যে পথ এক ঘণ্টা লাগতো তা এখন নিমিষে যাওয়া যায়। একটা সময় রাজধানী শহর ঢাকাকে বলা হতো রিকশার শহর। এখনো বলা হয় তবে সেই রিকশায় ভিন্নতা এসেছে। প্যাডেল চালিত রিকশার বদলে এখন যুক্ত হয়েছে ব্যাটারি চালিত রিকশা। ফলে মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হলেও বেকায়দায় পড়েছেন প্যাডেল চালিত রিকশাচালক।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পড়ন্ত বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার বাড়ির নারী শিশু হাসপাতালের উল্টো পাশের সড়কে রিকশাচালক আলমগীর হোসেনের সাথে।

তিনি বলেন, ‘এখন আর প্যাডেল রিকশা চলে না। আগের মতো লোকজন চড়তেও চায় না। যারা রিকশায় চলাফেরা করেন অনেকে করুণা করে চড়েন। ফলে ভাড়া পাওয়া যায় না। শরীর শক্তি বেশি লাগে, আয়ও কম।’

গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার অলিগলিতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন খুলনার তেরখাতা উপজেলার আলমগীর হোসেন।

rikshaw-oneবয়স এখন পঞ্চাশোর্ধ্ব। তাতেই পেকে গেছে চুল এবং দাড়ি। শরীরে এখনো ভাজ পড়েনি। কিন্তু শরীর আগের মতো কুলায় না। একবার রিকশা চালালে আরেকবার ক্লান্ত হয়ে যান তিনি। দম নিয়ে জেরিয়ে আবার শুরু করেন প্যাডেল চালানো। কোনোদিন ৩০০ কোনোদিন ৪০০ টাকা আয় করেন। কিন্তু ৫০০ টাকা আয় করা খুব দুরূহ হয়ে যায় তার জন্য। রিকশা ভাড়া দিয়ে, মেসে থেকে খেয়ে, পরিবারকে পাঠিয়ে তেমন হাতে কিছু থাকে না। অনেক কিছু খেতে মন চায়, কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে তার ছেলে মেয়ের কথা। তাহলে ভালো তেমন কিছু খেতে পারেন না।

শুক্রবার বিকেলে সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এলাকার উল্টো পাশের দেয়ালে লাগানো বিভিন্ন পত্রিকা পড়ছিলেন তিনি।

তার ভাষায়, যখন যাত্রী টানতে টানতে তিনি ক্লান্ত হয়ে যান, মন আর কোনো কাজে সায় দেয় না তখন সেখানে এসে পত্রিকা পড়েন।

তিনি বলছিলেন, মানুষ এখন আর প্যাডেল চালিত রিকশায় চড়ে না। যারা চলে তারা হয়তো চিন্তা করে হাতে সময় আছে ধীরে ধীরে যাই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ রিকশায় চড়ে বলতে থাকে ভাই দ্রুত চলেন। কেউ অর্ধেক রাস্তায় গিয়ে নেমে যায় শুধুমাত্র দ্রুত যাওয়ার জন্য।

তার মতে, আগে ভালো কামাই হতো। ব্যাটারি চালিত রিকশা এত ছিল না। ফলে পায়ে চালিত রিকশা বাজারও ছিল, লোকজন চড়তো। কিন্তু এখন লোকজন আগে খোঁজে অটো বা ব্যাটারী চালিত রিকশা।

তিনি আগে ঢাকায় প্রথম দিকে হকারি করতেন। পরে যুক্ত হন এ পেশায়। কিন্তু রিকশা চালিয়েও সংসার তেমন চলে না। তিনি আগের পেশায় ফিরতে চান কিন্তু পুঁজি নেই। যা আয় করেন ছেলেমেয়েদের পাঠিয়ে কিছু থাকে না। ফলে ব্যবসার কথা চিন্তাও করতে পারেন না বলছিলেন।

rikshaw-twoতার আগে শেরপুরের কামাল উদ্দিনও রিকশা থামিয়ে দেয়ালে সাটানো পত্রিকা পড়ছিলেন। কামালের কষ্ট অনেক। এক ছেলে মেয়েকে রিকশা চালিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে থাকলেও ঈদ পরবে কোনোদিন তাদের খোঁজ নেয় না। ফলে বয়স ৬৫ পেরিয়ে গেলেও এখনো রিকশা তার আয়ের সম্বল।

কামাল বলছিলেন, শরীর সায় দেয় না কিন্তু কী করব! ছেলে থেকেও তো নাই। ফলে রিকশা চালাইতে হয়।

কামাল উদ্দিন আজও রোজা ছিলেন। শুরু থেকে সব রোজা করেছেন। তার ভীষণ কষ্ট হয় রোজা থেকে যাত্রী টানতে কিন্তু কিছু করার নেই। তিনিও আলমগীরের মতো প্যাডেল চালিত রিকশা চালান।

তিনি বলছিলেন, লোকজন এখন আর আমাদের রিকশায় তেমন ওঠে না। তবে কিছু লোকজন ওঠে যারা মনে করে ব্যাটারি চালিত রিকশা বেশি অ্যাক্সিডেন্ট করে তারা৷ বয়স হয়েছে সেটা দেখেও অনেকে ওঠে আবার নেমে যায়।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট