হাবিবুর রহমান সুজন
পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবসেবার এক অনন্য সময়। এই বরকতময় মাসে সাজেক-বাঘাইহাট এলাকার রোজাদার ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দানশীল সমাজসেবক মো: নুর হোসেন। স্থানীয়ভাবে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিত এই উদার হৃদয়ের মানুষটি রমজান উপলক্ষে অল্প সামর্থ্যের মধ্যেও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটালেন।
সম্প্রতি আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া কর্মসূচিতে এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর মাঝে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হয়। উপহার গ্রহণ করতে আসা নারী-পুরুষের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার অশ্রু, মুখে ছিল দোয়া আর কৃতজ্ঞতার ভাষা। অনেকেই জানান, রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ইবাদত। মো: নুর হোসেন সেই ইবাদতকেই বাস্তব রূপ দিয়েছেন।” তারা আরও উল্লেখ করেন, সামর্থ্য সীমিত হলেও আন্তরিকতা ও মানবিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই শক্তিতেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
মো: নুর হোসেন বলেন, “রমজান হলো সহমর্মিতা ও ভাগাভাগির মাস। আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় যতটুকু পারি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এটি কোনো প্রচারণা নয়, বরং দায়িত্ববোধ।” তিনি ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু রমজান নয়—বছরের বিভিন্ন সময়েও তিনি অসহায়দের চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ নানা মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় থাকেন। তার এই মানবিক কর্মকাণ্ড তরুণ সমাজের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
রমজানের এই মহিমান্বিত মাসে মো: নুর হোসেনের উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—মানবতা এখনো বেঁচে আছে, বেঁচে আছে সহমর্মিতার আলো। অল্প উপহার হলেও তার আন্তরিকতা ও ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সাজেক-বাঘাইহাটের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজকে আরও সুন্দর ও সহানুভূতিশীল করে তুলবে।