নিজস্ব প্রতিবেদক
হাজার টাকায় বুফে ইফতার, থাকছে ১২০টির বেশি আইটেম
হাজার টাকায় বুফে ইফতার, থাকছে ১২০টির বেশি আইটেম। ছবি: কোলাজ
পবিত্র রমজান মাস এলেই ইফতারকে ঘিরে জমে ওঠে নানা আয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ বুফে ইফতার, যা ভোজনরসিকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। স্বল্প বাজেটে বৈচিত্র্যময় ইফতার আইটেমের স্বাদ নিতে অনেকেই ভিড় করেন বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের বুফে রেস্তোরাঁগুলো এক হাজার টাকার মধ্যে ১২০টির বেশি ইফতার আইটেম নিয়ে আয়োজন করেছে বিশেষ ইফতার প্ল্যাটার।
দেশি-বিদেশি নানা পদ, ঐতিহ্যবাহী ইফতার সামগ্রী থেকে শুরু করে মূল খাবার ও ডেজার্ট—সব মিলিয়ে ক্রেতাদের জন্য থাকছে বিস্তৃত আয়োজন। রমজানের আমেজে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করার সুযোগ তৈরি করতে এমন আয়োজন ভোজনরসিকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর কয়েকটি বুফে রেস্তোরাঁ ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
ব্যাফেট লাউঞ্জের হোস্ট মো. জিহাদ বলেন, ধানমন্ডিতে ৯৫০ টাকায় ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। বাজেটের মধ্যে আমরা সেরা। অন্যদের তুলনায় আমাদের খাবারের মান ভালো। এতে ১২০টির বেশি আইটেম রয়েছে। এখানে সব পেশা ও শ্রেণির মানুষ আসেন। রমজান ছাড়া অন্য সময়ে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭০০ টাকা, রাতে ৭৫০ টাকা এবং শুক্রবার ও শনিবার দুই বেলাতেই ৭৫০ টাকা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বুফে ইফতারের চাহিদা কম। আশপাশের বুফে হাউসগুলোর সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। তারাও বলছে, এবার বুফে ইফতারের চাহিদা কিছুটা কম।
ব্যাফেট প্যারাডাইসের সুপারভাইজার মানব হালদার বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের চাহিদা ভালো। কারণ, বুফে ইফতারের দাম হাতের নাগালে রেখেছি। শুরুর দিকে কম থাকলেও এখন ভালো যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনপ্রতি ৮৯৯ টাকায় ইফতারে ১১৫টির বেশি আইটেম রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ডিনারও রয়েছে। তাই আমরা বলি, ইফতারের সঙ্গে ডিনারও।
এদিকে বুফে ইফতার নিয়ে দুইজন ভোক্তার সঙ্গে কথা হয় ঢাকামেইলের। তাঁদের মন্তব্য ভিন্নধর্মী।
শান্ত ইসলাম বলেন, বুফে ইফতার মানে অর্থের অপচয়। রোজা রেখে ইফতারে এত খাবার খাওয়া যায় না। তারপরও অনেকে শখের বশে যান।
অন্যদিকে পারভেজ আকন্দ, যিনি নিজেকে ভোজনরসিক বলে পরিচয় দেন, বলেন, আমি পেশায় ব্যবসায়ী। আমার কাছে বুফে ইফতার ভালো লাগে। অল্প টাকায় একসঙ্গে অনেক খাবার পাওয়া যায়। মনের ইচ্ছামতো বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া যায়।
বিভিন্ন বুফে রেস্তোরাঁর মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতবারের তুলনায় এ বছর শুরুর দিকে বুকিং কম থাকলেও এখন বাড়ছে। সামনে করপোরেট ও বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠান এবং বিয়ের আয়োজন শুরু হলে বুফের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।