সংবাদ এই সময়।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমার পরে (শাসকগোষ্ঠী দ্বারা অবৈধভাবে) প্রাধান্য দেওয়ার কাজ হবে এবং এমন অনেক কাজ হবে যেগুলোকে তোমরা মন্দ জানবে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তখন আমাদের কী আদেশ দিচ্ছেন?’ তিনি বললেন, যে অধিকার আদায় করার দায়িত্ব তোমাদের আছে, তা তোমরা আদায় করবে এবং তোমাদের যে অধিকার তা তোমরা আল্লাহর কাছে চেয়ে নেবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬০৩)
শিক্ষা
উল্লিখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় গবেষকরা বলেন,
১. ইসলামের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো, কোনো নেককার ইমাম ও শাসকের অধীনে একতাবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিত হবে না। রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা অকল্যাণই ডেকে আনে।
২. আর ইমাম যদি দ্বিনের ওপর অটল থাকেন, তাহলে তাঁর অনুগত্য করা আবশ্যক।
৩. হাদিস দ্বারা প্রমাণ হয়, মুসলিম শাসক মানেই সে অনুসরণীয় ও সমাজের জন্য আদর্শ নয়, বরং শাসকদের বিচ্যুতির আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি।
৪. ইসলামী রাষ্ট্রের শাসক যদি পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবু মুসলিমরা এমন কোনো কাজ করবে না, যাতে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। মুসলমানদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সংশোধনের চেষ্টা করা।
৫. শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করাও গুরুত্বপূর্ণ। (মাউসুয়াতুল হাদিসিয়্যা)