1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে ভোটারের যা করণীয় - সংবাদ এইসময়
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিল্কিওয়েতে সাদা নক্ষত্রের অদ্ভুত আচরণে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা মদ বিক্রেতা ও পানকারীদের প্রতি ইসলামের কঠোর বার্তা শ্রীবরদীর ভেলুয়া বাজারে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত সাভার স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না : রিজওয়ানা বাগমারায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল রোয়াংছড়িতে এনসিপি’র নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। আমাদের বেতনের টাকা আসে স্পন্সর ও আইসিসি থেকে: মিরাজ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ই/সরায়েল ফটিকছড়িতে মনোনয়ন ফিরে পেলেন রবিউল হাসান তানজিম

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে ভোটারের যা করণীয়

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

আল্লামা তাকি উসমানি

প্রতীকী ছবি

আমরা ভেবে দেখি না যে দেশের শাসকরা মূলত আমাদেরই কর্মফলের প্রতিফলন। যারা মানুষের ভোট কিনে আজ ক্ষমতার শীর্ষপদে আসীন, তারা অবশ্যই সমালোচনার যোগ্য। তবে জনসাধারণও এ জন্য কম দায়ী নয়। কেননা তারা পয়সার ঝনঝনানি শুনে দেশ ও জাতি, দ্বিন ও নৈতিকতার দাবিগুলো ভুলে যায়।

আর যখন ভোট-বণিকরা ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং জনসাধারণের দাবি ও অধিকারগুলো উপেক্ষা করে, তখন তারা লজ্জায় মুখ লুকানোর পরিবর্তে জালিম শাসকের আনুগত্যকে বৈধতা দেওয়ার পথ খুঁজতে থাকে।
বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় শাসকরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহণ করে। তাই তাদের সব কর্মকাণ্ডের দায় ভোটারদের ওপর চাপানো হয়। তাদের ধর্মীয় ও জাগতিক দায়দায়িত্ব সেসব ভোটারের ওপর বর্তায়, যারা তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।

সুতরাং নির্বাচনকে ক্রীড়া-কৌতুক মনে না করা। এটা ভ্রুক্ষেপহীনভাবে দেখে যাওয়ার বিষয় নয়, বরং গুরুদায়িত্বের বিষয়। রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের উচিত জেনে-বুঝে, নৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এই দায়িত্ব পালন করা। যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমাদের কোনো সংযোগ নাও থাকে, তবু ইসলাম জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রের মতো এ ক্ষেত্রেও আমাদের কিছু মৌলিক নির্দেশনা দিয়েছে।
শরিয়তের দৃষ্টিতে ভোট সাক্ষ্যস্বরূপ। আপনি যাকে ভোট দেন, তাঁর পক্ষে আপনি এই সাক্ষ্য দেন যে এই ব্যক্তি সংসদের সদস্য বা রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা রাখেন। আপনার নির্বাচনী এলাকায় আপনার দৃষ্টিতে এই ব্যক্তির চেয়ে যোগ্য আর কোনো ব্যক্তি নেই। সুতরাং সাক্ষ্যসংক্রান্ত শরিয়তের সব বিধি-বিধান ভোটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিছু মানুষ দ্বিন-ধর্মকে নামাজ-রোজায় সীমাবদ্ধ মনে করে।

তারা রাজনীতিসহ প্রাত্যহিক জীবনের কাজগুলোকে ধর্মের গণ্ডিভুক্ত মনে করে না। তাদের দৃষ্টিতে এসব বিষয়ে কোনো দ্বিনি জবাবদিহি নেই।
বহু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বের সঙ্গে নামাজ, রোজা ও তাসবিহ-তাহলিল আদায় করে থাকে, কিন্তু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম, বিয়ে ও তালাক ইত্যাদির ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। এই শ্রেণির কাছে ভোট নিছক জাগতিক বিষয়। ভোট প্রদানে বা নির্বাচনে অসততাকে তারা গুনাহের কাজ মনে করে না। এ জন্য তারা ভোট প্রদানে নীতি-নৈতিকতার পরিবর্তে জাগতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। তারা অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেয় এবং যোগ্যকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তারা ব্যক্তিস্বার্থ, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা, আঞ্চলিকতা ও দলদারিকে পরকালীন জবাবদিহির ওপর প্রাধান্য দেয় এবং ভুল প্রার্থীকে ভোট দেয়। তারা ভাবতেও চায় না যে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তারা কত বড় অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়েছে।

আগেই বলে এসেছি, ভোট সাক্ষ্যতুল্য এবং সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা হলো, ‘যখন তোমরা কথা বলবে তখন ন্যায্য বলবে স্বজনের সম্পর্কে হলেও এবং আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ করবে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৫২)

যখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অন্তর ও বিবেক সাক্ষ্য দেবে যে, এই প্রার্থী ভোট পাওয়ার যোগ্য নয়, অথবা তার তুলনায় অন্য প্রার্থী অধিক যোগ্য, তখন শুধু ব্যক্তিস্বার্থে তাকে ভোট দেওয়া মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার নামান্তর। পবিত্র কোরআনে মিথ্যা সাক্ষ্যের চরম নিন্দা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা মিথ্যা কথা (সাক্ষ্য) পরিহার কোরো।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩০)

একাধিক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা সাক্ষ্যকে কবিরা গুনাহ বলেছেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, একবার মহানবী (সা.) বললেন, আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অবগত করব? তা হলো, আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া এবং খুব ভালোভাবে শুনে রাখো—মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, মিথ্যা কথা বলা। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

এই হুঁশিয়ারি ভোটের ভুল প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যে ভোট ব্যক্তিস্বার্থে দেওয়া হয়, অর্থের বিনিময়ে দেওয়া হয়। অর্থ নিয়ে ভোট দিলে দুটি কবিরা গুনাহ হয় : ক. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, খ. ঘুষ খাওয়া।

কোনো মুমিন ভোটকে শুধু জাগতিক বিষয় মনে করবে না, বরং সে বিশ্বাস করবে, পরকালে সব মানুষকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং অন্য সব বিষয়ের মতো ভোটের ব্যাপারেও জবাবদিহি করতে হবে। সেদিন জিজ্ঞাসা করা হবে, নিজের সাক্ষ্য প্রদানে কতটা দ্বিনদারি ও নৈতিকতা রক্ষা করতে পেরেছ?

অনেকে ভাবে, লাখ লাখ ভোটের বিপরীতে আমার একার ভোটের কি মূল্য আছে? যদি আমি একা একটা ভোটের ভুল ব্যবহার করি তবে দেশ ও জাতির ভবিষ্যতে তার কিই বা প্রভাব পড়বে? এটা একটা ভুল চিন্তা। আমরা বরং ভাবব, পুরো মহল্লায় একটি ভোটও ভুল প্রার্থীকে দেওয়া হবে না। কেননা প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে একটি ভোটও কখনো কখনো ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। আর এই এক ভোটে নির্বাচিত এক ব্যক্তি পুরো জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

একইভাবে একটি ভোটে যদি একজন ভুল ব্যক্তি নির্বাচিত হয়, তবে পুরো জাতির দুর্ভাগ্যের জন্য সেই যথেষ্ট হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, আমি যদি যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিই এবং সে হেরেও যায়, তবু আল্লাহর বিচারে আমি পার পেয়ে যাব।

ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ভোটারদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা আবশ্যক :

১. প্রার্থী স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসী হওয়া।

২. ধার্মিক হওয়া। না হলে কমপক্ষে আলেম, দ্বিনদার ও দ্বিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

৩. নৈতিক গুণাবলির অধিকারী হওয়া, আত্মবিক্রীত না হওয়া।

৪. দেশপ্রেমিক হওয়া এবং জাতির কল্যাণে দায়বদ্ধ থাকা।

৫. দেশসেবার আগ্রহ থাকা।

৬. সুস্থ মন-মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া এবং রাজনৈতিক সচেতনতা থাকা।

এসব গুণ যে প্রার্থীর মধ্যে পাওয়া যাবে, তাঁকে ভোট দেওয়া যাবে, চাই তিনি যে দলের হোন। অনুসন্ধান-যাচাই, পরামর্শ ও ইস্তেখারা—এই তিন উপায়ে ভোটার ভোটের পবিত্র আমানত ও দায়দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন। নেক নিয়তে ভোট দিলে তা ভোটারের পরকালীন মুক্তিকে ত্বরান্বিত করবে। ইনশাআল্লাহ।

‘ইসলাম আওয়ার সিয়াসাতে হাজেরা’
মো. আবদুল মজিদ মোল্লার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট