1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
মোকামেই সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে - সংবাদ এইসময়
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পোস্টাল ব্যালট বিতর্কে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত : সালাহউদ্দিন মার্কিন-ই/সরায়েলি সাইবার সফটওয়্যার বন্ধের নির্দেশ দিল বেইজিং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট: দেশের ম্যান্ডেট পূর্ণ করার সুযোগ -অধ্যাপক আলী রীয়াজ এলিয়েনের সঙ্গে যোগাযোগ, বিজ্ঞানীদের নজরে মৌমাছির মস্তিষ্ক মটরশুঁটির যত পুষ্টিগুণ সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন খুবই প্রয়োজন: বদিউল আলম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবদের বিদায় সংবর্ধনা খল চরিত্রের আড়ালে সংগ্রামের জীবন: কমল পাটেকর শীতের মৌসুমে বাড়ছে নিপাহ ভাইরাসের আতঙ্ক: যা জানা জরুরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন তারেক রহমান

মোকামেই সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীর আলম

মোকাম থেকেই সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়েছে, দেশে এখনো সাড়ে তিন লাখ টন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৫ দিনে বাজারে চলে এলেও পেঁয়াজের দাম কমবে।

অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ীর দাবি, আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারের উচিত পেঁয়াজের দাম কমাতে আমদানির অনুমোদন দেওয়া।

সিন্ডিকেটের দাপটে ভোক্তার পকেট থেকে চলে যাচ্ছে বাড়তি টাকা। দাম বেশি থাকায় অনেকে কম করে কেনাকাটা করছেন। গতকাল বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশিরউদ্দিন বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত মজুতদারি হলে তার সমাধান করা হবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠে যাবে। আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি, কৃষক অর্থনীতি, কৃষক এবং ভোক্তা সবার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এটি কোনো সাইকেল নয় যে, আমরা যেকোনো একটা গলিতে ঢুকিয়ে দিলাম। তাই পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কয়েকদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে যাওয়াকে যৌক্তিক মনে করেন কি না, জানতে চাইলে বশিরউদ্দিন বলেন, ‘অবশ্যই যুক্তিসংগত নয়। এমন কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটেনি। এই মুহূর্তে কৃষকের কাছে পেঁয়াজ নেই এবং এ বাড়তি মূল্যের টাকা কৃষকের পকেটে যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন গত বছর প্রায় ৪০ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এর একটা অংশ পচে যায়। সব পেঁয়াজ তো ব্যবহার হয় না বা সংরক্ষণ করা যায়। আমরা ১০ হাজার হাইফ্লো মেশিন দিয়েছি। সেটাতে কিছুটা
উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটা সাময়িক। সেটা কেটে যাবে।’

দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩২ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টন। উৎপাদন হয় ৩৮ লাখ টনের মতো। প্রক্রিয়াজাতকরণে ক্ষতি হয় প্রায় ২৫ শতাংশ। বছরে আমদানি হয় গড়ে ৬-৭ লাখ টন। তারপরও প্রায় প্রতিবছরই শেষ সময়ে
অস্বাভাবিকভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ে। ১৫ দিন ধরে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় ঠেকেছে দাম।

দেশের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর পেঁয়াজের মৌসুম প্রায় শেষ। কয়েক দিন পরই বাজারে উঠতে শুরু করবে ‘মুড়িকাটা পেঁয়াজ’। জানুয়ারিতে সিজনের নতুন পেঁয়াজে বাজার সয়লাব হবে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের কাছে এই মুহূর্তে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আছে তা দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু হাতে থাকা পেঁয়াজ কয়েক দিন ধরে রেখে, বাজারে সংকটের গুজব ছড়িয়ে মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে শেষ কামড় দিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। যে যেভাবে পারছেন সিজনের শেষ মুনাফাটা লুটে নিচ্ছেন।

পেঁয়াজের বাড়তি দামের ব্যাপারে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. আরিফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘বছরের এই সময়ে হালি পেঁয়াজের মজুত কমে যায়। মুড়িকাটা পেঁয়াজও উঠে না। এ সুযোগে মোকামের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেন। বেশি দামে কিনে তা বিক্রি করতে হয়। এতে বিক্রিও কমে যায়। ফলে লাভও কমতে থাকে।’

এ সময় মিরপুর ৬ নম্বরের কাঁচাবাজার থেকে পেঁয়াজ কেনার পর চাকরিজীবী নাদিম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হঠাৎ করে দাম বেড়ে গেছে। ১২০ টাকা কেজি। ১ টাকাও কমল না। তাই কেনা কমিয়ে দিয়েছি। আধা কেজি কিনলাম। আগে ১ কেজি কিনতাম। সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। না হলে ভোক্তার ভোগান্তি আরও বাড়বে।’

অন্য বাজারের ব্যবসায়ীদেরও একই অভিযোগ, মজুত থাকার পরও সুযোগ বুঝে মোকামের ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। নিউ মার্কেটের পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. ইউসুফও একই অভিযোগ করে জানান, এ বাজারে কেউ খারাপ পেঁয়াজ নিতে চায় না। মৌসুম শেষ। ভালো পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় কেনা। বিক্রি করছি ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কমে গেছে। বর্তমানে লাভ নেই।’

খুচরা বিক্রেতাদের মতো রাজধানীর পাইকারি বিক্রেতাদেরও অভিযোগ মোকাম থেকেই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

শ্যামবাজার কৃষিপণ্য আড়ত বণিক সমিতির সহসভাপতি মো. মাজেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘মোকাম থেকেই সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। খুচরা বাজারে ৫-১০ টাকা কমবেশি করে বিক্রি করা হচ্ছে।’ এ ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাড়তি টাকা সিন্ডিকেটের পকেটেই যাচ্ছে। কারণ আমরা শুধু কেজিতে দেড় টাকা কমিশন পাই। এ অবস্থায় আমদানি করা হলে কৃষকের ক্ষতি হয়ে যাবে।’

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশে সাড়ে তিন লাখ টনের মতো পেঁয়াজ মজুত আছে। চলতি মাসের মধ্যে আসবে ৮৫ থেকে ৮৭ হাজার টন মুড়িকাটা পেঁয়াজ। আগামী মাসে আসবে আড়াই লাখ টন। এরপর নিয়মিত পেঁয়াজের সরবরাহও থাকবে বাজারে। বাণিজ্য উপদেষ্টা স্যারও বলেছেন, দাম না কমলে আমদানি করা হবে। কিন্তু আমরা কৃষকের ক্ষতি করতে চাই না। এ জন্য আমদানি করতে দেরি করছি। আবার ২ হাজার ৮০০ জন পেঁয়াজ আমদানির জন্য আবেদন করেছেন। ১০০ টন করে আমদানির অনুমতি দিলেও প্রচুর আমদানি হয়ে যাবে। তাই আমরা বাজার পর্যবেক্ষণ করছি। দাম না কমলে হয়ত আমদানির দিকে যেতে হতে পারে।’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বলছে, রমজান মাসে চাহিদা বেড়ে প্রায় ৫ লাখ টন লাগে। দেশে পেঁয়াজের কোন ঘাটতি থাকার কথা না। গত বছরও এ সময়ে দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ছুঁয়ে যায়। পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (সিডি) ও ৫ শতাংশ শুল্ক থাকায় বাধ্য হয়ে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পেঁয়াজ আমদানির ওপর থেকে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে। পরে আমদানির অনুমোদন স্থগিত করা হয়। বাজারে দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিয়ে থাকে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট