1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
প্রযুক্তির ফাঁ/দে পারিবারিক বন্ধন হারাচ্ছেন না তো ! মুশফিরাত - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাগমারায় তিনটি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এমপি ডাঃ আব্দুল বারী বান্দরবান শহরে উজানী পাড়া অগ্নিকাণ্ডে ৫ বসতঘর ও ২ দোকান পুড়ে ছাই। শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মেয়েদের পিটিয়ে জখম সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হা/ম/লা মণিরামপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ৫ বছরের কন্যা সন্তানসহ অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সচেতনতা ও অভিযানে মাদক নির্মূলে নতুন অধ্যায় ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস আজ খামেনি হ/ত্যা/র প্রতিশোধে ইরানের সঙ্গে যোগ দিল যারা দরিদ্র পরিবার থেকে যেভাবে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে এসেছিলেন আলি খামেনি কাছের মানুষদের নিয়ে জন্মদিন উদযাপন করলেন আদ্রিকা এ্যানী

প্রযুক্তির ফাঁ/দে পারিবারিক বন্ধন হারাচ্ছেন না তো ! মুশফিরাত

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

আধুনিক ডেস্ক।

আজকের আধুনিক সমাজে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে আমরা মুহূর্তেই সারা বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি। তবে এ প্রযুক্তিগত সুবিধা কেবল সহজতর যোগাযোগের পথই তৈরি করেনি, একই সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা ও আন্তরিকতাকেও কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। লিখেছেন মুশফিরাত

ডিজিটাল সংযোগ বনাম বাস্তব সংলাপ
প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে আমাদের যোগাযোগের সুযোগ বাড়িয়েছে। কিন্তু এর উল্টো দিকও আছে- এ সুবিধা আমাদের ঘরের ভেতরের সম্পর্ককে দুর্বল করে তুলছে। অনেক পরিবারে লক্ষ্য করা যায়, সবাই একই ছাদের নিচে বসে থাকলেও প্রত্যেকে নিজের ডিভাইসে নিমগ্ন থাকে। অথচ তারা একে অপরের সঙ্গে গল্প করা বা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সময় পাচ্ছেন না।

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মুখোমুখি আলাপচারিতা কেবল তথ্য বিনিময়ের মাধ্যম নয়, এটি পারস্পরিক বোঝাপড়া, আবেগ প্রকাশ এবং মানসিক সংযোগ তৈরির অন্যতম উপায়। কিন্তু যখন সেই আলাপের জায়গা দখল করে নেয় ভার্চুয়াল স্ক্রিন, তখন সম্পর্কের গভীরতা কমতে শুরু করে। অনলাইনে হয়তো ‘লাইক’ বা ‘কমেন্ট’ পাওয়া যায়, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে ভাগ করা হাসি, আড্ডা কিংবা চোখের ভাষায় বোঝাপড়া- এসব কখনো প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায় না।

প্রযুক্তির ফলে পারিবারিক সময়ের সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অফিসের কাজ এখন আর শুধু কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা বাসায় বসেই ই-মেইল, অনলাইন মিটিং বা বিভিন্ন প্রজেক্টে যুক্ত থাকেন। শিক্ষার্থীরা আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটায় অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট বা ডিজিটাল শিক্ষামাধ্যমে। অন্যদিকে গৃহস্থালির কাজকর্মেও প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। ফলাফল- একই ছাদের নিচে থেকেও পরিবারের সদস্যরা আলাদা আলাদা জগতে ডুবে যায়।

বিশেষ করে বড় শহরগুলোয় এ চিত্র আরও প্রকট। যানজট, ব্যস্ত কর্মঘণ্টা আর প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সময় কাটানো দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে সন্তানদের জন্য সময় বের করতে পারেন না, আর সন্তানরা তখন বিকল্প হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও গেম কিংবা ভার্চুয়াল বন্ধুত্বকে বেছে নেয়। এর ফলে পরিবারে একসঙ্গে বসে গল্প করা, খাওয়া-দাওয়া করা বা ছুটির দিনে কোথাও বেড়াতে যাওয়া- এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে প্রভাব
স্ক্রিনের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। বাস্তব জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিবর্তে তারা ভার্চুয়াল জগৎকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এর ফলে পরিবার, আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশার সুযোগ কমে যায়। ধীরে ধীরে শিশুদের সামাজিক দক্ষতা, যেমন- বন্ধুত্ব তৈরি করা, দলগতভাবে কাজ করা, কিংবা অন্যের সঙ্গে মতবিনিময় করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

তারা যখন বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তখন আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানো শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। তারা সহজেই বিরক্ত বা উত্তেজিত হয়ে পড়ে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘমেয়াদে এ প্রবণতা একাকিত্ব, উদ্বেগ ও অবসাদগ্রস্ততার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সমাধানের পথ: ভারসাম্য খুঁজে নেওয়া
প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এর সঠিক ব্যবহার না জানলে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা এবং ভারসাম্য বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে পরিবারের সদস্যদের আগে থেকেই নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিদিন অন্তত একবেলা একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল বা টেলিভিশনের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ রাখা যেতে পারে।

এতে পরিবারে গল্প-আড্ডার পরিবেশ তৈরি হয়, যা সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে সপ্তাহের কোনো একটি দিনকে ‘ডিভাইস-ফ্রি ডে’ ঘোষণা করা কার্যকর হতে পারে। এসময় সবাই মিলে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, বই পড়া, ঘরোয়া খেলাধুলা কিংবা একসঙ্গে রান্না করার মতো কাজ করা যায়। এসব কার্যক্রম শুধু আনন্দই দেয় না, বরং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আবেগের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট