অনলাইন ডেস্ক।
সম্ভ্রান্ত মানুষের বাড়ি থেকে শুরু করে সাধারণ গেরস্ত বাড়িতেও থাকতো বৈঠকঘর। মাতুব্বরের বৈঠকঘরে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট নিয়ে চলতো সালিশ দরবার। সেখানে পিঠা, চিড়া, চা ও পানের ব্যবস্থা থাকতো। গণ্যমান্যদের বসার জন্য কাঠের হাতলবিশিষ্ট চেয়ার এবং পিতলের হুকা থাকতো। সাধারণ মানুষের জন্য ফরাশ বিছানা, মাদুর, চাটাই ও চাদরে বসার ব্যবস্থা থাকতো।
রাতের বেলা বৈঠকঘরে হ্যাজাক বাতি অথবা হারিকেন জ্বালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হতো। এলাকার সামাজিক নাটক, যাত্রাপালা, বাউলগানের আসর, মেজবানী- যাই হোক না কেনো- সেটা মাতুব্বরের বৈঠকঘরেই সিদ্ধান্ত হতো। কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাকে সহযোগিতার জন্য বৈঠকঘরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উপস্থিত সবার মতামত ও পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। সেই বিয়েতে কেউ চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তরিতরকারি, বাসন, কোসন, থালাবাটি ইত্যাদি যোগানের স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নিতেন। কেউ কেউ নওশার পাঞ্জাবি-পায়জামার দায়িত্ব নিতেন। এমনকি জানা গেছে, এক জনের পাঞ্জাবি, পায়জামা, শাড়ি ও কাপড় দিয়ে ১০ জন বিয়ে সেরেছেন। মাতুব্বরের সিদ্ধান্ত সবাই অপকটে মেনে নিতেন; কেউ দ্বিমত পোষণ করতেন না।
সম্ভ্রান্ত বাড়িতে মেহমান আসলে আগে বৈঠকঘরে বসতেন। মেহমানকে ওযুর পানি, পিঠা, চিড়া, খই-মুড়ি, পান ও তামাক দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। বেড়াতে আসা পুরুষ মেহমানরা বৈঠকঘরে বিশ্রাম নিতেন। মুসলিম পরিবারগুলো পর্দার বিষয়ে খুবই সচেতন ছিল।
তারুন্দিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আ. হালিম তার বাড়ির বৈঠকঘর দেখিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘একসময় এলাকার লোকজনের পদচারণায় এই বৈঠকঘর মুখরিত ছিল। রাতবিরাতে চলতো সালিশ দরবার, বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের আলোচনা। এখন কালপ্রবাহে এ বৈঠকঘর নির্জন।’
এ প্রসঙ্গে কবি সোহরাব পাশা বলেন, ‘বৈঠকখানা গ্রামীণ ঐতিহ্য যা কালের চক্রে হারিয়ে যাচ্ছে। এর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আমাদের অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।’