জীবনযাপন ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
শ্বাসযন্ত্র মানুষের শরীরের এমন একটি ব্যবস্থা, যা প্রতিটি মুহূর্তে দেহে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবে চলতে হলে ফুসফুসকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
দূষণ, ধুলাবালি, ধূমপান, অ্যালার্জি, অসুখ ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে শ্বাসযন্ত্রের নানা সমস্যা তৈরি হয়। তাই ফুসফুসকে শক্তিশালী করতে এবং শ্বাসযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
তাই এই প্রতিবেদনে এমনই ছয়টি খাবারের কথা বলা হলো, যেগুলো শ্বাসযন্ত্রকে স্বাভাবিকভাবে সুরক্ষা দেয়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত—
চর্বিযুক্ত মাছ
চর্বিযুক্ত মাছ শ্বাসযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য। স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকেরেলের মতো মাছের মধ্যে এমন উপকারী চর্বি থাকে, যা শরীরে জমে থাকা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। শ্বাসনালীর ভেতর প্রদাহ কমলে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং শ্বাস নেওয়া আরো স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
যাদের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা অ্যালার্জি আছে, তারা চর্বিযুক্ত মাছ খেলে অনেকটাই উপকার পেতে পারেন। এ ছাড়া এই উপকারী চর্বি ফুসফুসের কোষকে শক্তিশালী রাখে এবং দূষণের প্রভাবে যেসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেগুলোর পুনর্গঠনেও সাহায্য করে।
রসুন
রসুন দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ওষুধ হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভেষজ উপাদান শরীরের ভেতরে জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে এবং প্রদাহ কমায়।
প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে অল্প একটু রসুন খেলে শ্বাসনালির অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমে এবং নানা ধরনের সংক্রমণ থেকে শরীর কিছুটা সুরক্ষা পায়।
ঠাণ্ডা লাগা, কাশি কিংবা জ্বরের সময় রসুন শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রসুন খান, তাদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়।
ফল
লেবু, কমলা ও জাম্বুরার মতো সাইট্রাস ফল ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এসব ফলে থাকা ভিটামিন শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং ফুসফুসের কোষকে দূষণ ও ধূলিকণার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
শহরে যারা ধূলা ও ধোঁয়ার মধ্যে প্রতিদিন যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এসব ফল আরো বেশি উপকারী। এসব ফলে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফুসফুসের ভেতরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং শ্বাসনালির অবরোধ কমায়।
আদা
আদা এমন একটি উপাদান, যা বহু শতাব্দী ধরে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দূর করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদার উষ্ণ প্রভাব ফুসফুসে জমে থাকা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। যারা প্রায়ই কাশি বা বুকে কফ অনুভব করেন, তারা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আদা যুক্ত করলে অনেক উপকার পাবেন।
আদার প্রদাহনাশক গুণ শ্বাসনালির সংকোচন কমায় এবং বায়ু চলাচল সহজ করে। শীতকালে আদা-চা ফুসফুসকে বিশেষভাবে সতেজ ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
শাক-সবজি
শাক-সবজি বিশেষ করে গাঢ় সবুজ পাতা শ্বাসযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পালংশাক, কালে, শুইস চার্ডের মতো পাতাযুক্ত সবজিতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসযন্ত্রের রোগ থেকে রক্ষা করে।
এসব শাকে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ ফুসফুসের কোষকে শক্তিশালী রাখে এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। কিন্তু এসব শাক-সবজি নিয়মিত খেলে সেই ক্ষয় অনেকটাই কম হয়।
হলুদ
হলুদে থাকা উপকারী রং-উপাদান শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ কমাতে বিস্ময়কর ভূমিকা রাখে। যারা দীর্ঘমেয়াদি কাশি বা বুকে জ্বালাভাবের সমস্যায় ভোগেন, তারা নিয়মিত হলুদ খেলে উপকার পেতে পারেন। রাতের খাবারের সঙ্গে অল্প হলুদ মিশিয়ে খেলে ফুসফুসের ভেতরের প্রদাহ কমে যায় এবং ঘুমও ভালো হয়। হলুদ শরীরের ভেতরের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে ফুসফুসের কোষকে দীর্ঘ সময় ধরে সুস্থ রাখে।
খাদ্যাভ্যাসের যত্ন জরুরি
এই ছয়টি খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শ্বাসযন্ত্র আরো শক্তিশালী হয়, ফুসফুস পরিষ্কার থাকে এবং দূষণ, অ্যালার্জি কিংবা হঠাৎ অসুখের বিরুদ্ধে শরীর আরো প্রস্তুত থাকে। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া শরীরের অন্যতম প্রধান কাজ, তাই শ্বাসযন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে খাদ্যাভ্যাসের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।