নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
গায়ের রং ইউরোপীয়দের মতো অতিরিক্ত সাদা হওয়ার কারণে বাবা থেকেও না থাকার মতো অবস্থায় পড়া যশোরের আলোচিত শিশু আফিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ। যত দ্রুত সম্ভব সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন যশোরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান। কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত আফিয়ার বাড়িতেও গিয়েছেন।
তিনি জানান, আদালতের আদেশ নিয়ে দ্রুতই আফিয়ার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। শুধু তা-ই নয়, আফিয়া যদি মোজাফফরের সন্তান হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে মিথ্যা অপবাদ, স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি অবহেলা এবং পরিত্যাগের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া চাঁদপাড়া গ্রামের মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে ২০২০ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই উপজেলার কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের মনিরা খাতুনের। এরপর ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর ওই দম্পতির ঘর আলো করে আসে আফিয়া। তবে শিশুটির শরীরের রং অতি ফর্সা, অনেকটা ইউরোপীয়দের মতো। আর এতেই ঘটে বিপত্তি। জন্মের পর থেকে একবারের জন্য মেয়েকে কোলে তালেননি মোজাফফর। এমনকি স্ত্রীকে ফেলে অন্য জায়গায় বসবাস শুরু করেন। ৮ মাস পর স্ত্রী মনিরাকে তালাক দিয়ে পাড়ি জমান বিদেশে। এরপর শিশুকন্যাকে নিয়ে সৎমায়ের সংসারে আশ্রয় নেন মনিরা। সেখানে শত বঞ্জনা মাথায় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন এই মা। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
আফিয়ার মা মনিরা বলেন, ‘তিন বছরের শিশু আফিয়ার বাবা থেকেও আজ নেই। আফিয়ার গায়ের রং শ্বেত হওয়ায় তাকে ছেড়ে চলে গেছে মোজাফফর। এতদিন নানা উপায়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে উল্টো আমাকে হুমকি দিত। তখন কেউ পাশে ছিল না বলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন ন্যায়বিচার পেতে অনেকেই সহযোগিতা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত শুক্রবার আমাদের বাড়িতে পুলিশের একটি টিম আসে। নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। ওসি আমাকে রবিবার থানায় যেতে বলেছিলেন, তাই গেছি। তার সঙ্গে কথা বলেছি। আফিয়া আমার ও মোজাফফরের ঔরসজাত সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তিন বছর ধরে মিথ্যা কলঙ্ক মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয়েছে। আমি চাই সত্যটা স্পষ্ট হোক। শুধু তাই নয়- মোজাফফরের বিচার হোক।’
কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ‘পুলিশ সুপার আমাকে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে আফিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও রাজি হয়েছেন। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আদালতে আবেদন জানানো হবে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’
এদিকে অতি ফর্সা রঙের কারণে পিতৃপরিচয় হারানো আফিয়া ও তার মায়ের পাশে দাঁড়ান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিছু দিনের মধ্যেই তাদের একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আফিয়ার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আফিয়াকে তার পরিবারে ফেরাতে বিএনপি নেতাদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার যশোর বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে আফিয়ার নানাবাড়ি গিয়ে তারেক রহমানের এ বার্তা পৌঁছে দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ সদর আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে দ্রুত এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, ‘আফিয়া জেনেটিক ডিসঅর্ডারে সমস্যায় ভুগছে। এ ধরনের সমস্য লাখে একজনের হয়। ওর বাবার পরিবারে বা এলাকায় শিক্ষার আলো না পৌঁছানোর ফলে তারা খারাপ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারপরও আমার নেতার নির্দেশে আমরা তার পাশে আছি এবং আগামীতেও থাকব।’