অনলাইন ডেস্ক
উজ্জ্বল ত্বক এবং সুস্থ সবল শরীর কে না চায়? যারা প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে সুন্দর করে তুলতে চান, তারা ঘরে বানানো কিছু পানয়ি খেতে পারেন। আজা ফল আর সবজি দিয়ে তৈরি রস কেবল ত্বককে উজ্জ্বল করে না বরং পরিপাকতন্ত্রকেও সুস্থ রাখে । এমন কয়েকটি পানীয় আছে যা ত্বক এবং স্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই উপকারী । যেমন-
গাজর এবং কমলালেবু রস: এই পানীয় খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্থ্যকর । গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে, যা শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয় । এটি ত্বকের কোষগুলিকে মেরামত করে এবং সুস্থ রাখে । কমলালেবু ভিটামিন সি-এর একটি দারুন উৎস, যা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং ত্বককে তারুণ্য ও দৃঢ়তা বজায় রাখে । অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, এই রস বার্ধক্যের লক্ষণ প্রতিরোধ করে । এর পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করে ।
বিট, বেদানা এবং আপেলের রস: বিট প্রাকৃতিক রক্ত পরিশোধক হিসাবে কাজ করে । রক্ত পরিষ্কার করলে ত্বকে এমনিতেই প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসে । এর প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য ব্রণ কমাতে সাহায্য করে । অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ বেদানা ত্বককে ফ্রি র্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে । আপেল ফাইবারের একটি ভালো উৎস, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে সুস্থ হজম ব্যবস্থা বজায় রাখে ।
পালং শাক এবং কিউই জুস: সবুজ শাকসবজি সব সময়ই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী । পালং শাকে থাকা আয়রন, ভিটামিন কে এবং ফোলেট ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে। কিউই ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার, যা কোলাজেন তৈরিতে এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে । এই রস শরীরকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূর করে ।
টমেটো এবং ধনেপাতার রস: টমেটোতে থাকা লাইকোপিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে ক্ষতিকারক সূর্যের রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের রঙও উন্নত করে । ধনেপাতা ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে সমৃদ্ধ ৷ ফলে এর বিষমুক্তকরণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে । এই রস হজম এনজাইম সক্রিয় করে হজম উন্নত করে ।
শসা, পুদিনা এবং লেবুর রস: শসা প্রচুর পরিমাণে পানি এবং সিলিকা সমৃদ্ধ, যা ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেট করে। এর ফলে ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকে । এই পানীয় ত্বককে প্রশমিত করে ও জ্বালা কমায় । পুদিনা পাতা গ্যাস এবং অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয় । লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে রক্তকে বিশুদ্ধ করে । এই রস শরীরের জন্য একটি প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে । এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য় করে।