লাইফস্টাইল ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কফির তেতো ভাব কমাতে লবণ মেশানোর পরামর্শ এখন নতুন ট্রেন্ড। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ইনফ্লুয়েন্সাররা বলছেন, ‘এক চিমটে লবণ নাকি কফির স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।’ কিন্তু পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা এই অভ্যাসে দেখছেন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফিতে সামান্য লবণ মেশালে তেতো ভাব কিছুটা কমতে পারে ঠিকই, কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তা শরীরের জন্য ভয়ানক হতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক লবণ গ্রহণের সীমা ৫ গ্রাম বা প্রায় ২০০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম। কিন্তু আধুনিক খাবারের মধ্যে যেমন চিপস, সস, পিৎজা, বার্গার, চিজ, আচার, সসেজ বা এমনকি সাধারণ বিস্কুটেও প্রচুর লবণ থাকে। ফলে অনেকেই অজান্তে দৈনিক সীমা অতিক্রম করেন। এর সঙ্গে যদি কফিতে লবণ মেশানোর অভ্যাস যুক্ত হয়, তাহলে বিপদ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা যে ঝুঁকিগুলোর কথা বলছেন:
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ: শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমলে রক্তে পানি বাড়ে, ফলে ব্লাড ভলিউম বৃদ্ধি পায়। এতে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
কিডনির ক্ষতি: অতিরিক্ত সোডিয়াম ছেঁকে ফেলার চাপ পড়ে কিডনির ওপর। দীর্ঘদিন এভাবে চললে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
পানিশূন্যতা: কফি নিজেই ডাইইউরেটিক, অর্থাৎ এটি শরীর থেকে পানি বের করে দেয়। এর সঙ্গে লবণ যোগ হলে শরীর আরও দ্রুত পানিশূন্য হতে পারে।
ফোলা ভাব বা ইডিমা: অতিরিক্ত পানি জমে মুখ, হাত, পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সব ট্রেন্ডই স্বাস্থ্যকর নয়। কফির স্বাদ সামান্য ভালো করার জন্য হার্ট বা কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে ঝুঁকির মুখে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
বিশেষ করে যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা কিডনি সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই ট্রেন্ড সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
উল্লেখ্য, কফিতে লবণ মেশানোর নতুন ট্রেন্ডে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ‘এক চিমটে স্বাদের জন্য নয়, বরং নিজের সুস্থতার জন্য সচেতন হোন।’