ফেসবুকের মতো সামাজিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে ওপেনএআই
সাব্বিন হাসান
কিছুদিন আগে নিজেদের ভিডিও জেনারেশন মডেল সোরা-টু উন্মোচন করেছে এআই প্ল্যাটফর্ম। এখন শুধু এআই প্ল্যাটফর্ম নয়, বড় আকারে চমকপ্রদ প্রস্তুতি নিয়েছে চ্যাটজিপিটি। প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওপেনএআইর লক্ষ্য চ্যাটজিপিটিকে ‘এভরিথিং অ্যাপ’ বা সব কাজের কাজি হিসেবে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা। এমন লক্ষ্য নিয়েই পরিকল্পনা ও গবেষণায় কাজ করছে এই প্ল্যাটফর্ম।
ইনস্টাগ্রামে ডিরেক্ট মেসেজ (ডিএম) ফিচার এখন বেশ জনপ্রিয়। জানা গেছে, ওপেনএআই ঠিক তেমনই ফিচার তৈরি করতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আগ্রহীরা নিজেদের মধ্যে কথোপকথন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কার্যত সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে।
আদতে কী তৈরি হচ্ছে
এআইপিআরএম গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রকৌশলী টাইবর ব্লাহো প্রথম এমন পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন বলে মিন্ট-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মূলত এআইপিআরএম এমন ধরনের ব্রাউজার এক্সটেনশন, যা এলএলএম (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল) টেমপ্লেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। টাইবর জানান, অ্যান্ড্রয়েডে এমন অ্যাপ দৃশ্যমান হয়েছে, যার বেটা সংস্করণে চ্যাটজিপিটি ডিএম-এর ফিচার দৃশ্যমান হয়েছে। ফিচারটি ওপেনএআইর সোরা অ্যাপের ডিরেক্ট মেসেজ ফিচারের সঙ্গে অনেকাংশে মিলে গেছে।
সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্স পোস্টে টাইবর জানান, চ্যাটজিপিটিকে এমনভাবে আপগ্রেড করার প্রচেষ্টা রয়েছে, যেন ওই প্ল্যাটফর্মে আগ্রহীরা একসঙ্গে আলোচনা করে যে কোনো কাজ করতে পারবেন। এমন কাজে খেয়াল রাখা হবে যেন যে কোনোভাবে আগ্রহীর গোপনীয়তা সুরক্ষিত হয়।
চলতি অক্টোবরে প্রথমদিকে ওপেনএআই অ্যাপস এসডিকে প্রকাশ করে। কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ডেভেলপাররা এর মধ্যে স্পেশালাইজড এআই অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন, যা চ্যাটজিপিটিতে সক্রিয় হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপল অ্যাপ স্টোর আর গুগল প্লে স্টোরকে চ্যালেঞ্জে ফেলতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চ্যাটজিপিটির অনেক এজেন্টের ধারণাও এমন। ওপেনএআই বলছে, এই এজেন্ট আগ্রহীর হয়ে একাধিক কাজ করতে পারবে। অনেক সাইটে সার্চ করা বা তথ্য অনুসন্ধানের মতো কাজ রয়েছে সে তালিকায়। ঠিক এখানেই লুকিয়ে রয়েছে গল্পের আসল রহস্য। বিষয়টি অনেকাংশে জটিল।
বিশ্বে এমন এআই চ্যাটবটকে কয়েকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর এই প্রশিক্ষণ যারা দিচ্ছেন, এদের অনেকে ইংরেজি সাহিত্য বা ফাইন আর্টসের শিক্ষার্থী। আবার প্রতি ঘণ্টায় পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন নির্দিষ্ট এআই চ্যাটবটকে। প্রশিক্ষকরা এই চ্যাটবটকে বিশেষ কোনো ভাষা শেখাচ্ছেন। আবার কেউ শেখাচ্ছেন বিশেষ কোনো ভাষার কৌশল। ভাষার ব্যাকরণ বা উচ্চারণ শিখতে চ্যাটবট প্রশিক্ষকের দ্বারস্থ হচ্ছে। সারাবিশ্বে প্রতিনিয়ত অসংখ্য চ্যাটবট তৈরি হচ্ছে, যার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন অসংখ্য স্কলার। কখনও এই চ্যাটবট ব্যবহার হচ্ছে কোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানির যাবতীয় তথ্য দেওয়ার জন্য। আবার কোনো ফার্মা বা এফসিজি সংস্থার বার্তাবাহকের দায়িত্ব পালন করছে এআই চ্যাটবট।
সমস্যার প্রধান কারণ
দক্ষ প্রশিক্ষণ পেয়ে এআই চ্যাটবট যেন হয়ে উঠছে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন। বিশ্বের স্বনামধন্য অনেক সংস্থাই স্বাভাবিকভাবে খরচ কমাতে চাইছে। তাই চ্যাটবটদের যারা উচ্চারণ শেখাচ্ছেন, ইডিয়ম বোঝাচ্ছেন– তারাই কিছুদিনের মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। দৃশ্যমান পরিসংখ্যান তো এমন কথাই বলছে।
গবেষকরা বলছেন, অবাক করা তথ্য হচ্ছে, গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি চাকরি হারিয়েছেন এআই প্রশিক্ষকরা। এর পেছনের কারণটা অবশ্য সুস্পষ্ট, যখনই মেশিন মানব ভাবনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তখন হার মানছে মানব-মস্তিষ্ক। এটাই হচ্ছে মেশিন লার্নিং প্রকৌশলের অনাগত ভবিষ্যৎ।