টেকলাইফ প্রতিবেদক
জবা পড়েন কলেজে। অন্য সবার মতো নিয়মিত ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন। অন্যের ছবিতে লাইক, রিঅ্যাক্ট দেন। হঠাৎ দেখেন, অনেকে ছবিতে বাজে মন্তব্য করছে। আক্রমণ করে বা বাজে ইঙ্গিত করে বার্তাও দেয় অনেকে। এসব কারণে হয়ে পড়েন বিমর্ষ। কিন্তু জবা আজ বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি এখন জানেন, কীভাবে ফেসবুকে ব্লক করতে হয়, কীভাবে রিপোর্ট করতে হয়। সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইলে আর্থিক সেবা ব্যবহার করতে দেখেন বিউটি। মধ্যবয়সী এই নারী সামাজিক মাধ্যমে তেমন অভিজ্ঞ ছিলেন না।
তিনি এখন জানেন বয়স্ক-ভাতা, সরকারি কিছু ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে এসব তথ্য সহজেই জানা সম্ভব। শুধু তাই নয়, শিখেছেন ইন্টারনেটে কীভাবে সুরক্ষিত থাকতে হয়। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী গ্রামে এমন সব ঘটনা দেখেছেন স্থানীয়রা। আমবাগানে গ্রামের নারী-পুরুষ বসে ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করছেন। গ্রামীণফোন, টেলিনর ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি শিরোনামে প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিতদের কাছে ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার ও সুযোগ-সুবিধার তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের কাছে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া ও অনলাইনের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। উদ্যোক্তারা বলেন, ২০২৩ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। যার মাধ্যমে দেশের আটটি প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রায় ৩৩ লাখ মানুষের কাছে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসব মানুষের ৬৮ শতাংশই নারী।
এর আগে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যে কেউ ডিজিটাল মাধ্যমে সরকারি পরিষেবার সুবিধা নিতে পারতেন। যাদের মধ্যে এখন ৭৯ শতাংশই জন্মনিবন্ধন, ভর্তির আবেদন, বয়স্ক ভাতা ছাড়াও জরুরি কিছু পরিষেবা অনলাইনে গ্রহণ করেছেন।
তিন বছর মেয়াদে এ প্রকল্প দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করছে। প্রশিক্ষণ ছাড়াও আয়নির্ভর প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে প্রান্তিক নারীরা অনেকাংশে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকল্পে অগ্রাধিকার পেয়েছে জাতিগত সংখ্যালঘু, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, চা বাগানের শ্রমিক, ট্রান্সজেন্ডার ও নারীপ্রধান পরিবারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।
গ্রামীণফোনের এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স বিভাগের প্রধান ফারহানা ইসলাম তেরেসা বলেন, শিক্ষা, অনলাইন পরিষেবা, স্বাস্থ্যসেবা বা তথ্যের সুবিধায় প্রান্তিক মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। অনলাইনে সুরক্ষিত থাকা, কীভাবে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, কীভাবে সরকারি পরিষেবা নিতে হয়– এসব শিক্ষা জীবিকায় সামান্য হলেও পরিবর্তন আনতে পারে। এমন পরিবর্তন প্রান্তিক সমাজের জীবন মানোন্নয়নে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ডিজিটাল সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে ছোট ব্যবসার ধারণা, ইন্টারনেটে আর্থিক সেবার নিরাপদ ব্যবহার, অনলাইনে সরকারি সেবা পাওয়ার পদ্ধতি ও সাইবার নিরাপত্তা– প্রশিক্ষণে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।