1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
আধুনিক যু'দ্ধ: ড্রোন-এআই’য়ে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক সং'ঘা'ত - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

আধুনিক যু’দ্ধ: ড্রোন-এআই’য়ে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক সং’ঘা’ত

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ এই সময় অনলাইন।

ছবি: সিএনএন।
ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা- আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। মনুষ্যবাহী যানবাহনের তুলনায় ড্রোন অনেক সস্তা, তৈরি করাও সহজ, আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর। ড্রোনগুলো যুদ্ধে পাইলট বা অপারেটরের নিহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে।

বিগত শতাব্দীতে কালাশনিকভ রাইফেলের মতোই, বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের দীর্ঘ প্রতিকূলতায় ড্রোন যে একটি অসম অস্ত্র হয়ে উঠেছে তার স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে।

বিজ্ঞাপন

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে। পূর্ব ইউরোপের প্রান্তে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে এই যুদ্ধ। তারপরও এখনো বিজয় ঘোষণা করতে সক্ষম হয়নি রাশিয়া। তুরস্ক থেকে কেনা বায়রাক্টার ড্রোন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনকে রাশিয়ার অগ্রগতি প্রতিহত করতে সাহায্য করেছিল।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এর ফেলো ক্যাটেরিনা বোন্ডার বলেন, কিয়েভ সম্ভবত এতদিনে যুদ্ধে হেরে যেত, যদি না তারা তাদের সামরিক কৌশলে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার না করত এবং এর বাণিজ্যিক উন্নয়ন না করত।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বছরের শুরুতেই কিয়েভের সাথে ড্রোন উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাদের মতে, ড্রোন নকশা এবং বাস্তবায়নে ইউক্রেন এখন বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়।

বোন্ডারের মতে, ইউক্রেন গত বছর ২০ লাখেরও বেশি ড্রোন তৈরি করেছে, আর ২০২৩ সালে এর পরিমাণ ছিল ৮ লাখ। আর সামনের বছর এটি আনুমানিক ৫০ লাখ হতে পারে।

বোন্ডার উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া যখন রেডিও-চালিত মডেলের ড্রোনের সংকেত আটকাতে সক্ষম হয়েছিল, তখন ইউক্রেন ফাইবার-অপটিক কেবল নিয়ন্ত্রিত ড্রোন তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, ঘুড়ির মতো নিয়ন্ত্রকের সাথে সংযুক্ত থাকা সত্ত্বেও, ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলি ৩০ মাইল (৫০ কিলোমিটার) পর্যন্ত দূরত্বেও কাজ করতে পারে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের আফ্রিকা সেন্টারের জন্য এপ্রিলের এক গবেষণাপত্রে, সহযোগী অধ্যাপক নেট অ্যালেন বলেছেন, এই মহাদেশের ৫৪টি দেশের মধ্যে ৩৬টি দেশই গত দুই দশকে ড্রোন অর্জন করেছে।

অ্যালেন জানিয়েছেন, যদিও আফ্রিকান ড্রোন বাজার মূলত আমদানি নির্ভর, আর তার প্রধান রপ্তানিকারক- তুরস্ক এবং চীন। এর পরেও নয়টি আফ্রিকান দেশ এখন তাদের দেশীয় ড্রোন তৈরি করছে।

অ্যালেনের মতে, কেবল আফ্রিকান সরকারই তাদের ড্রোন বহর বৃদ্ধি করছে না তেমনটি নয় বরং মহাদেশের নয়টি দেশের রাষ্ট্রবর্হিভূত পক্ষ সশস্ত্র সামরিক ড্রোন ব্যবহার করেছে।

অ্যালেন উল্লেখ করেন যে, গত জুলাই মাসে সুদানে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান একটি সামরিক একাডেমির স্নাতক অনুষ্ঠানের সময় বিদ্রোহী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের ড্রোন হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।

অ্যালেন বলেন, বুরকিনা ফাসো, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, কেনিয়া, মালি, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া এবং সোমালিয়ায় রাষ্ট্র-বহির্ভূত শক্তিগুলিও ড্রোন ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, ‘মানববিহীন ব্যবস্থা অর্থাৎ ড্রোনগুলোই বেশিরভাগ আফ্রিকান সংঘাতের ক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্রকে নতুন আকার দিচ্ছে।’

স্মার্ট ডিভাইসগুলোর মধ্যে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার স্বাক্ষর রেখেছে ড্রোন। কেননা এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যার মাধ্যমে ড্রোনগুলো এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুকে সনাক্ত করতে পারে, পাশাপাশি তাদের দুর্বলতাও খুঁজে বের করতে পারে। সেই সাথে অত্যন্ত দ্রুত এবং নিখুঁত সময়ে আক্রমণ চালাতে পারে। এমন অগ্রগতির খুব কাছেই রয়েছে অটারিয়ন নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সফটওয়্যার কোম্পানি। তারা তাদের প্রযুক্তিতে ড্রোনগুলোকে ‘স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা’য় রূপান্তর করতে পারে।

কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও লরেঞ্জ মেয়ার সিএনএনকে বলেছেন, ‘মানুষ ড্রোনগুলোকে লক্ষ্যবস্তুর এলাকার দিকে পরিচালিত করে, খুব বেশি হলে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত। এরপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়। ড্রোনগুলো তখন নিজেরাই লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করে বা অনুসরণ করে এবং আঘাত হানার জন্য কৌশলে এগিয়ে যায়, একই সাথে শত্রুপক্ষের জ্যামিংও প্রতিরোধ করতে পারে।’

এ সময় মেয়ার নিজেই প্রশ্ন করে বলেন, এটা কি এমন কোনো ডিস্টোপিয়ান যুদ্ধক্ষেত্রের ইঙ্গিত দেয়- যেখানে রোবটরা নিজেদের হত্যার সিদ্ধান্ত নিবে? এর উত্তরে মেয়ার জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ভয় অতিরঞ্জিত।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনগুলোর কামানের একটি উন্নত রূপ হবে, ঠিক ততটাই মারাত্মক কিন্তু খরচের ক্ষেত্রে তার আংশিক।

এছাড়াও তিনি বলেন, বর্তমান আর্টিলারিগুলো এলাকাভিত্তিক অস্ত্র। এগুলো একটি গ্রিডের চারপাশে গোলা ছোড়ে, এই আশায় যে গ্রিডের মধ্যের শত্রু সৈন্য এবং সরঞ্জামের আক্রান্ত হবে।

কিন্তু অন্যদিকে সশস্ত্র ড্রোনগুলো প্রতিটি সৈন্য, ট্রাক বা ট্যাঙ্ক কোথায় আছে তা সঠিকভাবে জানে এবং সরাসরি তাদের আক্রমণ করতে পারে। এছাড়াও এটি সাশ্রয়ী। মেয়ার বলেন, একটি আর্টিলারির পৃথক শেলেরই দাম ২০০০ থেকে ৪০০০ ডলার, যেখানে একটি ড্রোনের দাম ১৫০০ ডলার বা তার থেকেও কম হতে পারে।

ডিফেন্স ওয়ানের আগস্টের এক প্রতিবেদনে, মার্কিন নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মাইকেল ম্যাটিস বলেছেন, নৌবাহিনীর ড্রোনগুলো (ইউএসভিএস), ডেস্ট্রয়ার (ডিডিজি) থেকে কতটা অর্থ সাশ্রয়ী হতে পারে তা দেখানোর চেষ্টা চলছে। যদিও ডেস্ট্রয়ার (ডিডিজি) এখনো মার্কিন নৌবাহিনীর মেরুদণ্ড।

ম্যাটিস বলেছেন, ‘আমরা মনে করি- বিভিন্ন ভিন্নধর্মী ধরনের ২০টি ইউএসভি দিয়ে, আমরা এমন একটি মিশন তৈরি করতে পারি; যা একটি ডেস্ট্রয়ার করতে পারে। অন্যদিকে এটি করতে খরচ হয় ডিডিজি এর খরচের প্রায় ১/৩০ ভাগ। কিন্তু মেয়ের বলেন যে, অন্তত স্থলভাগে, কামান এখনও তার জায়গা ধরে রাখবে, বিশেষ করে শক্তিশালী দুর্গের অধিকারী একজন দৃঢ় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

যদিও ড্রোন ভূমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বা দখলদার সেনাবাহিনী হতে পারে না, তারা দুর্বলদের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার বা অচলাবস্থা তৈরি করার ক্ষমতা দিতে পারে।

গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিসের অংশ ভিশন অফ হিউম্যানিটির জুনের বিশ্লেষণ অনুসারে, ‘প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিশেষ করে ড্রোন যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে, সংঘাতকে আরও সহজলভ্য এবং আরও অসামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলছে- কিন্তু এর সাথে সাথে, সমাধান করাও আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এটি এমন একটি দ্বন্দ্ব তৈরি করছে যাকে ‘চিরকালের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করে, যা “সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করে এবং বছরের পর বছর ধরে, সম্পদ নষ্ট করে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট