লাইফস্টাইল ডেস্ক
বন্ধুদের সামনে নিজেকে বোল্ড প্রমাণ করতে শুরু করেছিলেন সিগারেট খাওয়া। কিংবা নিছক ঠাট্টার ছলে খেয়েছিলেন। তারপরই সেটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অল্প বয়সের অ্যাডভেঞ্চার কখন যে নেশায় পরিণত হয়েছে টের পাননি। এখন শত চেষ্টা করেও এই আসক্তি থেকে বের হতে পারছেন না।
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা সবারই জানা। তবুও কেউ কেউ এই আসক্তিতে পড়ে যান। চাইলেই হুট করে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া যায় না। ‘সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেব’ বলাটা যতটা সোজা, করা ততটা কঠিন। শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ বললেও ভুল বলা হয় না। ধূমপান কেন, যে কোনো নেশাই ছাড়া সহজ নয়।
তবে আপনি যদি সিগারেট খাওয়া ছাড়তে চান, তাহলে সহজ তিনটি ধাপ মানতে পারেন। এতে উপকার মিলবে। সিগারেট ছাড়া সহজ হবে।
ধূমপানের নেপথ্যে অনেক কারণ থাকতে পারে। মানসিক চাপ বা কোনো নির্দিষ্ট অবস্থার কারণে মানুষ ধূমপান করে। ধূমপান কেন করছেন, প্রথমে তা বুঝতে হবে। কখন এই ইচ্ছা ট্রিগার করে সেটিও বুঝতে হবে। তাহলে ধূমপান ছাড়ার কাজটা সহজ হবে।
কীভাবে ধূমপান ছাড়বেন?
অনেকেই হঠাৎ করে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এটি কোনো কার্যকর উপায় নয়। প্রথমত, হঠাৎ করে কিছু করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। দুর্বল মুহূর্তে আবার একবার সিগারেট খেয়ে ফেলতেই পারেন। এছাড়া হঠাৎ করে ধূমপান ত্যাগ করলে নিকোটিনের অভাবের কারণে মানসিক চাপ তৈরি হয়। এসময় ধূমপানের ইচ্ছা আরও বেড়ে যায়। তখন তা দমন করা বেশি কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে।
ধাপ ১:
একদিনে নয়, ধীরে ধীরে ধূমপান ত্যাগ করা উচিত। প্রথমে, বর্তমানে যে পরিমাণ সিগারেট খান, তার চেয়ে সংখ্যাটা কমিয়ে আনুন। দিনে ১০টা সিগারেট খেলে প্রথম দিকে ৭ দিনে ৮টা খান। তারপরের ৭ দিনে সেটা পাঁচটা করুন। পরের ৭ দিনে সেই সংখ্যা ২ নামিয়ে আনুন। এভাবে চতুর্থ সপ্তাহে প্রথম ৩ দিন দিনে ১টা সিগারেট এবং তারপরে না খেয়ে থাকার চেষ্টা করুন।
ধাপ ২:
যেখানে সিগারেট খাওয়া হচ্ছে, সেখান থেকে দূরে থাকুন। গন্ধ নাকে গেলে, কিংবা অন্য কাউকে খেতে দেখলে, বার বার ধূমপানের ইচ্ছা জাগে। প্রয়োজনে চুইংগাম ব্যবহার করতে পারেন। এতে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা কমবে।
২০ মিনিটেই পরিবর্তন শুরু, ধূমপান ছাড়ার কতক্ষণ পর শরীরে কী ঘটে?
ধূমপানের জন্য দাঁত হলুদ হয়ে গেছে? কীভাবে দূর করবেন
ধাপ ৩:
ধীরে ধীরে না খেয়ে থাকা অভ্যাস হয়ে গেলে, তখন বন্ধুরা সিগারেট খেলেও সেখানে যেতে দ্বিধা বোধ করবেন না। কিন্তু সিগারেটের গন্ধ নাকে গেলে এবং বাকিদের খেতে দেখলে আপনারও খেতে ইচ্ছে করবে। এখানেই আসল পরীক্ষা। এই মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিতে পারলেই কেল্লাফতে। চিরদিনের মতো ছাড়তে পারবেন এই বদ অভ্যাস। আর না হলে, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে হবে।